কলকাতা 

চাকরির টোপ দিয়ে স্বামী পরিত্যক্তা এক মহিলাকে রিসোর্টে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে, ছোট সন্তান রয়েছে, তাই সংসার চালানোর দায়ী চাকরি ভীষণ প্রয়োজন। বসো তিরিসের স্বামী পরিত্যাক্তা এক মহিলার এই কাহিনী এখানেই শেষ নয়, চাকরির প্রত্যাশায় বন্ধুত্ব পাতায় এক পুলিশ কনস্টেবলের সঙ্গে। আর সেখানেই সর্বনাশ লুকিয়ে ছিল সেই পুলিশ কনস্টেবল চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই অসহায় গৃহবধুকে শারীরিক নির্যাতন করে বলে অভিযোগ। কয়েক লক্ষ টাকা গয়না লোপাট করার পাশাপাশি একাধিক বার কোন রিসোর্টে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে ওই তরুণী অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগকারিণী ওই মহিলা উত্তর চব্বিশ পরগণার কেষ্টপুর এলাকায় থাকতেন। বর্তমানে ওই মহিলার সঙ্গে তাঁর স্বামীর আইনি লড়াই চলছে।ওই গৃহবধূর আইনজীবী জানিয়েছেন, স্বামীর সঙ্গে আইনি টানাপোড়েনের সূত্রেই গোপাল সর্দার নামে এক ব্যক্তির পরিচয় হয় ওই মহিলার।ওই ব্যক্তি নিজেকে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ কর্তা বলে পরিচয় দেয়। আলাপের সূত্রেই গোপালকে নিজের সমস্যার কথা জানান ওই গৃহবধূ।

সন্দেশখালির গাববেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা গোপাল ওই গৃহবধূকে জানায়, নিজস্ব প্রভাব খাটিয়ে সে মহিলা পুলিশে তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করে দেবে।পাশাপাশি, এক বিচারপতির সঙ্গে পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে সে ওই মহিলার বিবাহবিচ্ছেদের মামলারও নিষ্পত্তি করিয়ে দেবে। চাকরি দেওয়ার নাম করে আস্থা অর্জনের জন্য ওই গৃহবধূকে পুলিশের বিভিন্ন দফতরেও নিয়ে যায় গোপাল।

এই প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই গোপালকে ভরসা করতে শুরু করেন গৃহবধূ। দু জনে বাইরে দেখা করতেও শুরু করেন। অভিযোগ, ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে গৃহবধূর আস্থা অর্জন করে গোপাল। চাকরি দেওয়ার নাম করে গৃহবধূর সোনার গয়না এবং তিন লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় সে। শুধু তাই নয়, বিরাটী এলাকার একটি রিসর্টে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ওই গৃহবধূকে ধর্ষণও করে গোপাল।

ধীরে ধীরে গোপালের উপরে সন্দেহ বাড়তে থাকে ওই গৃহবধূর৷ খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, কোনও বড় পদে নয়, গোপাল রাজ্য পুলিশের একজন কনস্টেবল মাত্র৷ প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে গোপালের থেকে টাকা ও গয়না ফেরত চান মহিলা৷ অভিযোগ, সেই সময় মহিলাকে খুনের হুমকি দেয় গোপাল৷ গৃহবধূকে ব্যাপক মারধরও করে সে৷

মহিলার অভিযোগ, ২০২১ সাল থেকে তিনি এই অত্যাচারের শিকার৷ গোপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ মোবাইলে রেকর্ডও করে রাখেন তিনি৷ ওই পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও পুলিশ অভিযোগ নেয়নি বলে দাবি ওই গৃহবধূর৷ রাজ্য এবং মহিলা কমিশনেও অভিযোগ জানিয়েছেন ওই গৃহবধূ৷ মহিলা কমিশনের পরামর্শেই সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই গৃহবধূ৷ যদিও অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

 

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ