কলকাতা 

সংখ্যালঘু সমাজের সমর্থন ছাড়া এই রাজ্যে কংগ্রেসের উত্থান সম্ভব নয় : সরদার আমজাদ আলী

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : সোমেন মিত্র পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্য জুড়ে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তুঙ্গে উঠেছে ।  বাস্তব সত্য হল সোমেন মিত্রের পক্ষেই কংগ্রেসের পুরুজ্জীবন সম্ভব । সেই কারণেই হয়তো এআইসিসি প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি পরিচালনা করার জন্য চারজনকে কার্যনিবার্হি সভাপতি করেছেন । এই চারজন সভাপতির কাজের জন্য জেলা ভাগও করে দেওয়া হয়েছে । কারণ সম্মিলিত নেতৃত্বের দ্বারাই রাজ্য কংগ্রেসকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হতে পারে। কিন্ত লক্ষনীয় এই যে, ৭৭ সালের পর থেকে এরাজ্যের কংগ্রেসের জনসমর্থন শুধুমাত্র মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল । মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও দুই দিনাজপুরের মধ্যেই কংগ্রেস দলের অস্তিত্ব এতদিন টিকে ছিল ।

কিন্ত দুঃখের হলেও সত্য , গণিখানের দাপটের কারণেই হয়তো মালদা তথা তৎসংলগ্ন জেলাগুলিতে কংগ্রেস সংগঠনের দাপট ছিল । মালদাতে জেলা কংগ্রেসের সভাপতি পদে দীর্ঘদিন মুসলিমদেরই রাখা হয়েছে । আর দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুসলিমদের বাস যে জেলায় সেই মুর্শিদাবাদ জেলায় কোনো রাজনৈতিক দলেরই জেলা সভাপতি মুসলিমকে রাখা হয়নি । ইদানিং অবশ্য কংগ্রেস দল এই পদে মুসলিম নেতাকেই বসিয়েছে ।

এই প্রসঙ্গে বাংলার জনরব নিউজ পোর্টালের পক্ষ থেকে কথা বলা হয়েছিল বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা- প্রাক্তন সাংসদ ও মুসলিম বুদ্ধিজীবী সরদার আমজাদ আলীর সঙ্গে । তিনি স্পষ্ট বললেন, এ রাজ্যে কংগ্রেসকে যদি নতুন করে উজ্জীবিত করতে হয় সেক্ষেত্রে মুসলিমদের সমস্যাগুলিকে উপলদ্ধি করে , সমাধানের লক্ষ্যে ইস্যু ভিত্তিক আন্দোলন করতে হবে ।

রাজ্যে সংখ্যালঘুদের সমর্থন ভালো মত না পেলে কংগ্রেসের উত্থান সম্ভব নয় । এটা করতে হলে কংগ্রেসকে কী করতে হবে ? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সোমেন মিত্রকে রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি করার পর এআইসিসি যে ১১ জনের কমিটি গড়ে দিয়েছে তাতে মাত্র একজন মুসলিম। তিনিও সুযোগ পেয়েছেন সাংসদ হিসাবে । দুঃখের হলেও সত্য এই ওই সাংসদ তাঁর নিজ সম্প্রদায়ের মূল সমস্যাগুলি সম্পর্কে কতটা অবহিত এ প্রশ্ন উঠতে আরম্ভ করেছে। এখানেই শেষ নয় তিনি মালদহের সাংসদ হিসাবে সেই জেলার মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ কী রকম রাখতে পেরেছেন তা বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনেই প্রমাণ মিলেছে ?

তিনি  কার্যনিবার্হি সভাপতি হিসাবে যে জেলাগুলির দায়িত্ব পেয়েছেন, সেই জেলাগুলির ভৌগোলিক অবস্থান এবং সেই জেলায় বসবাসরত সাধারণ মানুষদের জীবন-যাত্রার মান ও আর্থিক অবস্থান সম্পর্কে তিনি কি ওয়াকিবহাল ? তিনি আরও বলেন , সাংসদ কোটার বাইরে এরাজ্যে অনেক শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী মুসলমান আছেন তাদেরকে উৎসাহিত করার জন্য কংগ্রেস আগ্রহ দেখাচ্ছে না ? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা করতে হবে । তিনি স্পষ্ট বলেন,  কোটা সিস্টেম নয় , মুসলিম ভোট কিংবা সংখ্যালঘু ভোট হাসিল করতে হলে এই সমাজের তরুণ প্রজন্ম এবং শিক্ষিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে তুলে আনতে হবে । তা  না করে সাংসদ পদ দেখে যদি নেতা বাছা হয় তাহলে কোনোদিনই সংখ্যালঘুদের সমর্থন পাওয়া যাবে না ।

আর রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কংগ্রেস যদি নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে না পারে তাহলে এই রাজ্যে কংগ্রেসের উত্থান সহজে বলে তিনি মনে করছেন না।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment