জেলা 

পশ্চিমবঙ্গেও নাম বদল, ইসলামপুর এখন ঈশ্বরপুর !

শেয়ার করুন
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিবেদক : দেশ জুড়ে নাম পরিবর্তনের যে হিড়িক দেখা দিয়েছে তার রেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গও বাদ গেল না । আসলে উন্নয়ন নয় উগ্র হিন্দুত্ববাদকে হাতিয়ার করেই বিজেপি নিজেদের ভোট সাফল্য ধরে রাখতে চাইছে । তাই তারা দেশজুড়ে ঐতিহাসিক স্থানগুলির নাম পরিবর্তন করে বৈদিক নাম কিংবা হিন্দু সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত এমন কিছু শব্দ বসানো হচ্ছে । তাই এলাহাবাদ হয়েছে ‘ প্রয়াগরাজ ‘, আর ফৈজাবাদ হয়ে যায় ‘ অযোধ্যা নগর ‘। কিন্ত সবচেয়ে আশ্বর্যের বিষয় খোদ পশ্চিমবঙ্গের মতো সম্প্রীতির রাজ্যও নাম বদল থেকে মুক্ত হতে পারল না । মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে উদার মনোভাব নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন তার সেই কাজে প্রতিনিয়ত কিছু বিভেদকামী শক্তি বাধা দিয়ে চলেছে । কলকাতা থেকে প্রকাশিত বহুল প্রচারিত অন-লাইন সংবাদপত্র আনন্দবাজার ফলাও করে এই সংবাদ প্রকাশ করেছে । প্রকাশিত খবরের কিছু অংশ হুবহু তুলে ধরা হল ।

” উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) পরিচালিত ‘সরস্বতী শিশুমন্দির ও বিদ্যামন্দির’ স্কুলের বোর্ডে জায়গার নাম বদলে লেখা হয়েছে ‘ঈশ্বরপুর’।

যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, মধ্য শিক্ষা পর্ষদ অনুমোদিত কোনও স্কুল কি এ ভাবে জায়গার নাম বদলাতে পারে? কারণ, স্কুল কর্তৃপক্ষ স্কুলের বোর্ডে দাবি করেছেন, স্কুলগুলি ‘মধ্য শিক্ষা পর্ষদ অনুমোদিত’। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য অনুমোদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন।

ভিএইচপি-র পূর্ব ভারতের সংগঠন সম্পাদক শচীন্দ্রনাথ সিংহের বক্তব্য, ‘‘ইসলাম শব্দটা ঔপনিবেশিক। মুসলিম শাসকদের চাপিয়ে দেওয়া। ঐতিহাসিক ভাবে ওই জায়গার নাম ঈশ্বরপুর।’’ তাঁদের কার্যালয়ের বোর্ডেও ‘ঈশ্বরপুর’ লেখা।

ভিএইচপি-র পূর্ব ভারতের সংগঠন সম্পাদক শচীন্দ্রনাথ সিংহের বক্তব্য, ‘‘ইসলাম শব্দটা ঔপনিবেশিক। মুসলিম শাসকদের চাপিয়ে দেওয়া। ঐতিহাসিক ভাবে ওই জায়গার নাম ঈশ্বরপুর।’’ তাঁদের কার্যালয়ের বোর্ডেও ‘ঈশ্বরপুর’ লেখা।

ইতিহাসবিদেরা জানাচ্ছেন, ভিএইচপি-র দাবির সারবত্তা নেই। গৌতম ভদ্রের মন্তব্য, ‘‘এটা হাস্যকর! বস্তুত, ইসলামপুর নামের মধ্যে একটি চমৎকার সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন আছে। ‘ইসলাম’ যেমন আরবি শব্দ, তেমনই ‘পুর’ একটি বৈদিক শব্দ। এটাই ভারতীয় সংস্কৃতি।’’ ইতিহাসবিদ রজতকান্ত রায়ের বক্তব্য, ‘‘যে যুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গের নাম বাংলা করা হয়, ইসলামপুরের নাম বদলের ক্ষেত্রে তা কাজ করে না। এটা এক ধরনের গেরুয়া সন্ত্রাস।’’

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘ভিএইচপি পরিচালিত স্কুল আদৌ পর্ষদ অনুমোদিত কি না, তা খবর নিয়ে দেখব। এ ধরনের অনুমতি আমরা দিই না। যদি হয়, তা হলে ব্যবস্থা নেব। এটা বিভেদের রাজনীতি।’’ শিক্ষামন্ত্রী ‘খবর’ নেওয়ার কথা বললেও স্কুলের বোর্ডে ‘রেজিস্ট্রেশন নম্বর’ হিসেবে—৬৮৮-এস ই (ই ই)/আর টি ই-৯৪/২০১৬/পি ২ লেখা আছে। যদিও তার সত্যতা আনন্দবাজার পত্রিকা যাচাই করেনি। এ বিষয়ে মধ্য শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় মন্তব্য করতে চাননি।”

 

 

 

 

 


শেয়ার করুন
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment