প্রচ্ছদ 

সিদ্দিকুল্লাহকে অনুব্রতর কটাক্ষ রাজনৈতিক শিষ্টাচার বিরোধী!

শেয়ার করুন
  • 340
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরী:

সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী কোনো নাম নয় ,একটা প্রতিষ্ঠান । ভারতবর্ষের প্রখ্যাত আলেম ও বিশিষ্ট চিন্ততাবিদ মরহুম তাহের সাহেবের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে উত্তর পূর্ব ভারত তো বটেই সমগ্র ভারতবর্ষের একজন ইসলামী চিন্তাবিদ হিসাবে তিনি সুপরিচিত। ১৯৮৪সাল থেকে সংসদীয় রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করছেন। প্রয়াত বামপন্থী জননেতা সাইফুদ্দীন চৌধুরীর বিরূদ্ধে বেশ কয়েকবার কাটোয়া লোকসভা কেন্দ্রে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছেন। তাঁর শ্বশুর মহাশয় তাহের সাহেব উত্তর পূর্ব ভারতের প্রখ্যাত আলেম ছিলেন। একই ভাবে তার পিতা আবুতালেব চৌধুরীও রাজনীতিবিদ হিসেবে বঙ্গ রাজনীতিতে পরিচিত মুখ ছিলেন। ভারতবর্ষের মুসলিম জননেতা সৈয়দ বদরুদ্দোজাকে তাঁর পিতা কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সুতরাং সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর পরিবার বঙ্গ রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে বরাবরই যুক্ত ছিল।

আর অনুব্রত মন্ডলকে ২০১১র আগে বীরভূম জেলার সাধারণ মানুষে চিনতেন কিনা সমীক্ষা করা জরূরী। এহেন এক রাজনীতিবিদ ক্ষমতার দম্ভে বাংলা তথা উত্তর পূর্ব ভারতের সম্মানীয় চিন্তাবিদ রাজনীতিবিদ সম্পর্কে যখন বিরূপ মন্তব্য করেন অনুব্রত মন্ডল তখনই প্রশ্ন উঠে, তৃণমূল কংগ্রেস কি রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভুলে যাচ্ছে! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রাজনৈতিক সৌজন্য দেখিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব বাবুর বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন, তখন ঠিক সেই সময় অনুব্রত মন্ডলের মতো একজন জেলা সভাপতি সর্বভারতীয়স্তরের পরিচিত ব্যক্তিত্ব কে কটাক্ষ করছেন। তা বিস্ময়কর ব্যাপার। দলের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক মানবিকতা নিয়ে তাঁর বিরোধীরাও প্রশ্ন তুলতে পারেন না। তখন দলের জেলা সভাপতির এতটা নিম্ন রুচি কেন? তাহলে কি দলের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন মমত বন্দ্যোপাধ্যায়? আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁর সত্যিকার শুভাকাঙ্খী কারা। ২০১৬র বিধানসভা নির্বাচনে বাম- কংগ্রেস জোট করে লড়াই করার সময় অনেক মুসলিম নেতা যখন নেত্রীকে ছেড়ে সরকারের বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিলেন ঠিক সেই সময় কাছে পেয়েছিলেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে । তাঁর জমিয়াতে উলামায়ে হিন্দ প্রকাশ্যে মা মাটি মানুষের পক্ষে সওয়াল করেছিল। সংকটকালে যে বন্ধু  পাশে থাকে সেইই আসল বন্ধু। মহা পুরুষদের এই বাণী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চয় জানেন। তাই অনুব্রতর মতো হাফ নেতা যখন সিদ্দিকুল্লাহ কে কটাক্ষ করেন তার পরেও নেত্রী যখন নীরব থাকেন তা থেকে স্পষ্ট  হয় দুঃসময়ের বন্ধু কে তিনি ত্যাগ করতে চাইছেন।

সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী দলের কাছে যে অভিযোগ করেছেন তা হলো ভালো লোকেরা মনোনয়ন পাচ্ছেন না । এই অভিযোগের যথেষ্ট সারবত্তা আছে। সমীক্ষা করলে দেখা যাবে , রাজ্যের পঞ্চায়েত স্তরে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই দুর্নীতিগ্রস্থ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরু করতে হলে পঞ্চায়েত স্তরেই শুরু করা উচিত।সিদ্দিকুল্লাহর পরামর্শ মতো কিছু জায়গায় ভালো প্রার্থী দিলে আখেরে লাভ হতো দলেরই। আর অনুব্রত মন্ডলরা সিদ্দিকুল্লাহর মতো নেতাকে কটাক্ষ করে ক্ষতি করছে দলের। সিপিএম আমলে সিপিএম নেতারা বিরোধী দলের নেতাদের নানা ভাষায় কটাক্ষ করতেন । কখনোই নিজের দলের লোকেদের কাজ অপছন্দ হলেও প্রকাশ্যে বিরূপ মন্তব্য করতেন না। জমিয়াতের রাজ্য সভাপতি ও তৃণমূল সরকারের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সৌজন্যের নজির গড়লেন নেত্রীর স্নেহের ভাই অনুব্রত!


শেয়ার করুন
  • 340
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment