দেশ 

রাজস্থান বলছে, রাজ্যে পরিবর্তন আসছে

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রাজস্থান থেকে ফিরে সেখ ইবাদুল ইসলাম : আর কয়েক সপ্তাহ পরেই রাজস্থান সহ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে । এই প্রেক্ষাপটে পুজোর ছুটিতে গিয়েছিলাম রাজস্থানে । সফর শুরু করেছিলাম হিন্দে-ওলী খাজা মইনউদ্দিন চিশতির দরগা আজমির থেকে । ১৬ অক্টোবর আজমির পৌছায় । সকাল ৯টা নাগাদ কথা বলছিলাম স্থানীয় এক হিন্দু ব্যবসায়ীর সঙ্গে এবারের নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন ? এই প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি উনি বলেই দিলেন আমাদের রাজ্যের বৈশিষ্ট্য একটু আলাদা এখানে পাঁচ বছর অন্তর সরকার বদল হয় । সেই পরম্পরা বজায় থাকবে । যাওয়ার সময় ট্রেনেই আলাপ হয়েছিল এক কাপড় ব্যবসায়ীর সঙ্গে । তিনি ব্যবসায়ী সূত্রে থাকেন হুগলীর হিন্দ মোটরে। তিনি ট্রেনেই কথা প্রসঙ্গে জানালেন, মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ছোট এবং মাঝারি ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মধ্যে পড়েছে । নির্বাচনে রাজস্থানে কে জিতবে ? এই প্রশ্নের উত্তরে ওই ব্যবসায়ী জানালেন , পরম্পরা বজায় থাকবে । অর্থাৎ পরিবর্তন হবেই । তিনি আরও বললেন, এলাকার ভূমিপুত্র হিসেবে তিনি জানেন রাজস্থানে বিজেপি থাকলেও সেভাবে হিন্দুত্বের শিকড় বিস্তার করতে পারেনি । সেই অর্থে এখানে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কোনো বড় সমস্যা নেই ।

জয়পুর থেকে প্রায় ২০০ কিমি দূরের বাসিন্দা তিলকবাবু আরও জানালেন, অশোক গেহলট প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর অনেক ভাল ভাল কাজ করেছিলেন কিন্ত তাঁর ভালো কাজের প্রতি রাজ্যের মানুষ সম্মান দেখালেও ভোট বাক্সে পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছিল । আর এবার তো কোনোভাবেই বিজেপি রাজস্থানে আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না , এই মন্তব্য করলেন আজমির এক অটো চালক । তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বললেন ,ক্ষমতায় আসার আগে মোদীজি যে কথা বলেছিলেন তা আজ তিনি ভুলে গেছেন । তিনি দেশের কয়েকজন শিল্পপতির স্বার্থে কাজ করছেন ।

আজমির থেকে জয়পুর আসছিলাম বাসে । বাসেই আলাপ হল বেসরকারী সংস্থায় কর্মরত এক তরুনের সঙ্গে । নানা কথাবার্তা বলার সময়ই কর্মসংস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বললেন রাজস্থানেও সেইভাবে কর্মসংস্থান হয়নি । বিগত পাঁচ বছর ধরে বিজেপি সরকার পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের চালু করা প্রকল্পগুলি রুপায়ন ঠিক মত করতে পারেনি । ফলে বেকারি বেড়েছে । আর্থিক উন্নতির যে গল্প মোদীজিরা বলে থাকেন তাও এই রাজ্যে সত্যি নয় । সরকারি বাসের কন্ডাটরকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব পরম্পরা বজায় থাকবে । আজমিরে যেখানে আমার ছিলাম তার পাশেই ছিল কংগ্রেস পার্টি অফিস । অফিসের এক কর্মী জানালেন, জয় সম্পর্কে তারা নিশ্চিত । ২০১৮ রাজস্থান বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস যে জিততে চলেছে তা দলের পার্টি বসে থাকা কর্মীর বডি ল্যাঙ্গুয়েজেই প্রমাণ পাওয়া গেছে ।

এরপর আমার গিয়েছিলাম রাজস্থানের রাজধানী শহর জয়পুরে । জয়পুর সদর বিধানসভা ক্ষেত্রটিতে মুসলিম ভোট ভাল রয়েছে বলে জানালেন স্থানীয় বাসিন্দা সরফরাজ আলম । তিনি বললেন, আমাদের বিধানসভা ক্ষেত্রটি এবার কংগ্রেসই পাবে এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই । মায়াবতী কোনো ফ্যাক্টর কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে রইসউদ্দিন নামে আমাদের গাড়ির চালক বলে ফেললেন । মায়াবতী কোন হ্যায়? জয়পুর মে মায়াবতী বলকে কই নেহি হ্যায় ! অর্থাৎ এরাজ্যে দলিত ভোটও এবার কংগ্রেসের দখলেই যাবে ।আমরা যে হোটেলে ছিলাম সেই হোটেলের ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন, এবার এই রাজ্যে প্রায় ১৫০ বেশি আসন পেয়ে কংগ্রেস দল ক্ষমতায় আসতে চলেছে । তবে স্থানীয় এক মুসলিম এনজিও-র কর্তা জানালেন , কংগ্রেস দলের মধ্যে যেমন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আছে একইভাবে বিজেপিতেও আছে । তাই গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব কংগ্রেসের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না । রাজস্থানের বিভিন্ন শহর ঘুরে আমাদের মনে হয়েছে ,কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলটের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন আজও অটুট । শুধু পরম্পরা নয় , কংগ্রেসের উন্নয়নমুখী কর্মসূচী দেখেই এবার রাজস্থানের মানুষ কংগ্রেসকেই সমর্থন দিতে চলেছে ।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment