দেশ 

মোদী দেশকে দূনীর্তি মুক্ত করতে পারেননি, সমীক্ষায় প্রকাশ গত বছরের তুলনায় দেশে সরকারি পরিষেবা পেতে ১১ শতাংশ বেশি ঘুস দিতে হয়েছে

শেয়ার করুন
  • 12
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দূনীর্তি মুক্ত দেশ তিনি গড়বেন । কিন্ত দুঃখের বিষয় হল তাঁর আমলের সার্ভেতে পৃথিবীর দূনীর্তি গ্রস্থ দেশগুলির মধ্যে প্রথম দিকে রয়েছে  ভারত । এক সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে ।

ইন্ডিয়ান কোরাপশন সার্ভে ২০১৮ সমীক্ষা বলছে, ২০১৭ সালে তার আগের বছরের চেয়ে ১১ শতাংশ বেড়েছে ঘুষ দেওয়ার পরিমাণ। এমনটাই জানাচ্ছে ইন্ডিয়ান কোরাপশন সার্ভে ২০১৮। এই সমীক্ষা করেছে লোকাল সার্কেলস নামে একটি সংস্থা। সঙ্গে রয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া। মোট ১.৬ লক্ষ রেসপন্স এসেছে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেছেন।

ভারত নামল আরও নিচে ১৮০টি দেশের মধ্যে ২০১৭ সালে দুর্নীতির সূচকে ভারত ক্রমতালিকায় আরও দুই ধাপ নেমে ৮১ নম্বর নেমে গিয়েছে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, ঘুষ দেওয়ার পরিমাণ নিঃসন্দেহে ভারতে বেড়ে গিয়েছে। আর একটি বিষয়ও লক্ষনীয় ঘুষ নেওয়ার দিক থেকে দেশের মধ্যে তিনটি রাজ্য প্রথম সারিতে আছে । সেই তিনটি রাজ্য হল উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ুতে। আর সবচেয়ে কম দূনীর্তি গ্রস্ত রাজ্য হল গুজরাত, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ।

এই সমীক্ষায় বলা হয়েছে ভারতে ঘুষ না দিলে সরকারের নানা নাগরিক পরিষেবা পাওয়া দুস্কর হয়ে ওঠে ।এদেশে ঘুষখোরের সংখ্যা যেমন দিন দিনবাড়ছে, তেমনই বাড়ছে ঘুষ প্রদানকারীর সংখ্যা। কারণ সাধারণ কাজ করাতে গেলেও ঘুষ দিতেই হচ্ছে। নাহলে হয় কাজ আটকে যাচ্ছে অথবাঅনেক দেরিতে হচ্ছে। একলপ্তে এই হল ভারতীয় সমাজব্যবস্থার এক দৈন্যতার উদাহরণ। দেশের সব রাজ্য ও প্রদেশে কম-বেশি একই চিত্র সামগ্রিকভাবে দেখা গিয়েছে।তবে ঘটনা হল ৫৬ শতাংশ ভারতীয় স্বীকার করেছেন যে নাগরিক সুবিধা পেতে গেলে ঘুষ দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

সবচেয়ে বেশি ঘুষ দিতে হয় সাধারণ মানুষকে  জমির রেজিস্ট্রেশন ও সম্পত্তির কেনা-বেচার রেজিস্ট্রি করার সময় । সমীক্ষায় বলা হয়েছে , বাকী যত বিভাগ রয়েছে, তার মধ্যে এই দুটি বিভাগ মিলিয়ে মোট দুর্নীতির ৩০ শতাংশ সংগঠিত হয়। ওই সমীক্ষায় পিছিয়ে নেই পুলিশও এর পরে রয়েছে ইলেকট্রিসিটি বোর্ড, ট্রান্সপোর্ট অফিস, ট্যাক্স অফিসের মতো জায়গা যেখানে মোট ঘুষের ১৮ শতাংশ নেওয়া হয়। এছাড়া রয়েছে পুলিশ যাদের ৩০ শতাংশ ও পুরসভার লোকজন যাদের মোট ঘুষের ২৭ শতাংশ দিতে হয় সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশনের জন্য। নগদে ঘুষ ঘুষের ক্ষেত্রে নগদ টাকাই সিংহভাগ ক্ষেত্রে নেওয়া হয়। মোদী সরকার ২ বছর আগে নোট বাতিলের ঘটনা ঘটালেও ৩৯ শতাংশ ঘুষ দাতা জানিয়েছেন, সরাসরি ঘুষের টাকা তাদের দিতে হয়। ঘুষদাতাদের মধ্যে ৯১ শতাংশই তাঁর রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখার হেল্পলাইন নম্বর জানেন না। অনেকে বলেছেন, সেই নম্বরে ফোন করলে পাওয়া যায় না


শেয়ার করুন
  • 12
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment