জেলা 

মাষ্টার-মশাইয়ের প্রতি আস্থা মমতার , কিন্ত রবীন্দ্রনাথের প্রত্যাখানে ব্যাকফুটে তৃণমূল

শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিবেদক :  আসন্ন লোকসভা নির্বাচন এক কথায় এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মহাযুদ্ধবলে কথা। কিন্ত এই যুদ্ধের আগেই শাসক তৃণমূল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে বেশ খানিকটা ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছে শাসক দল । রাস্তা-ঘাটে আলাপ-আলোচনায় শাসক দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে । তাই এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে চলেছেন।

হুগলী জেলার সিঙ্গুর হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কেরিয়ার উত্থানের দ্বিতীয় পর্ব । ২০০৪ সালের পর রাজ্য থেকে মূলত তৃণমূল কংগ্রেস যখন সাইনবোর্ডে পরিণত হয়ে গিয়েছিল সেই অবস্থা মমতারি পায়ের তলায় নতুন করে জমি দিয়েছিল সিঙ্গুর । টাটারা সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানা করার যে উদ্যোগ নিয়েছিল সেই উদ্যোগকে সামনে রেখে বামফ্রন্ট জমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়েছিল । সেই বিক্ষোভ-আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচি থেকেই ঘুরে দাঁড়াল তৃণমূল কংগ্রেস । এরপর নন্দীগ্রাম আন্দোলন বাম শাসনকে খতম করে দিয়েছিল । কিন্ত দুঃখের হলেও সত্য সিঙ্গুর আন্দোলনে প্রথম থেকে যিনি মমতার পাশে ছিলেন এবং সিঙ্গুর এলাকার জনপ্রিয় মাষ্টার মশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য কোনো এক অজানা কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার কয়েক মাস পরেই ব্রাত্য করে দিয়েছিল । এমন কী শিক্ষামন্ত্রী করেও শেষ পর্যন্ত তাকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় । তাঁর বিকল্প হিসেবে যাঁকে নেতৃত্বে তুলে আনা হয় তিনি আর যাইহোক মাষ্টার মশাই-এর বিকল্প হতে পারে না । তবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভালবাসায় সেই নেতা সিঙ্গুর এলাকায় বিগত পাঁচ বছর ধরে যে রাজ কায়েম করেছে তার ফল তৃণমূলকে সামান্য হলেও পেতে হবে ।

এটা বুঝতে পেরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুর ব্লকের সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল বেচারাম মান্নাকে। ওই ব্লকের সভাপতি হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে। কিন্ত শেষ পর্যন্ত মাষ্টার মশাইয়ের উপর আস্থা রাখলেও তিনি দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেছেন বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে ।
শারীরিক অবস্থার কারণ দেখিয়ে মাস্টারমশাই পাশ কাটিয়ে গেলেন। তিনি সরিয়ে রাখলেন নিজেকে। তাঁর বদলে তিনি সুপারিশ করলেন ঘনিষ্ঠ নেতা মহাদেব দাসের নাম। অর্থাৎ এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন তিনি। একদিকে বেচারাম মান্নার ছেড়ে যাওয়া পদে তিনি নিজে বসলেন না, তাঁর কাছের নেতাকে বসানোর সুপারিশ করলেন। আবার জমি আন্দোলনের এক মুখকেই তিনি সামনে আনতে চাইলেন। দলকে বার্তা দেওয়া গেল। যদিও রবীন্দ্রনাথবাবু সেই নিয়োগপত্র গ্রহণ না করে অন্য নাম সুপারিশ করে চিঠি লেখায়, তা নিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে রবীন্দ্রনাথবাবুর সুপারিশ সত্ত্বে মহাদেববাবুকে এখনও পর্যন্ত সিঙ্গুর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি করা হয়নি। আসলে মাষ্টার মশাইয়ের এই প্রত্যাখানে তৃণমূল নেতৃত্ব খানিকটা দিশেহারা।


শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment