অন্যান্য 

রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যেই দলিত-মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন : ইমতিয়াজ আহমেদ মোল্লা

শেয়ার করুন
  • 143
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইমতিয়াজ আহমেদ মোল্লা- পশ্চিমবাংলার রাজনৈতিক আঙিনায় পরিচিত মুখ । তাঁর বক্তব্য দেওয়ার ক্ষমতা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় যেকোনো বড় রাজনৈতিক দলের কাছে তিনি গ্রহণযোগ্য হতে পারতেন। কিন্ত তিনি বিশ্বাস করেন কোনো মনুবাদী রাজনৈতিক দল এদেশের সংখ্যালঘু – দলিত স্বার্থে কোনো কাজ করবে না। তাই তিনি নিজেই গড়ে তুলেছেন ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল পার্টি । তাঁর পার্টির উদ্দেশ্য- লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বাংলার জনরব নিউজ পোর্টালের মুখোমুখি । আজ প্রথম কিস্তি ।

প্রশ্ন : আপনারা কেন আর একটি রাজনৈতিক দল তৈরি করলেন ? দেশে তো এখন অনেক রাজনৈতিক দল আছে তা সত্ত্বে কী প্রয়োজনে ?

ইমতিয়াজ আহমেদ  : আমাদের দেশে যেসব রাজনৈতিক দল আছে তারা সবাই মনুবাদী রাজনৈতিক দল । ব্রাক্ষ্মণবাদ দ্বারা পরিচালিত । সুতরাং এই সব রাজনৈতিক দল দিয়ে দেশের মুসলিম ও দলিতদের কোনো কাজ হবে না। আর আমাদের প্রধান লক্ষ্য হল দলিত মুসলিমদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন । সেই লক্ষ্যে যেতে হলে সাধারণ মানুষকে বিষয়টি বোঝাতে হবে । তাই আমরা নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম দিয়েছি । মনে রাখতে হবে বাংলার সমস্যা অন্য প্রদেশের কোনো রাজনৈতিক দল সেভাবে উপলদ্ধি করতে পারবে না। সেজন্যই মাটির সঙ্গে যুক্ত আছেন অর্থাৎ মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত  আছেন এমন ব্যক্তিদের নিয়ে আমরা রাজনৈতিক দল গঠন করেছি ।

প্রশ্ন : আপনারা কেমন সাড়া পাচ্ছেন ?

ইমতিয়াজ আহমেদ : সাড়া ব্যাপক পাচ্ছি । কিন্ত মানুষ শাসক দলের ভয়ে বেরিয়ে আসতে পারছে না । এদেরকে বের করতে পারলেই আমরা সফল হব । তাই আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের মন থেকে ভয় দূর করে সজাগ করা । গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে হাওড়ার সাঁকরাইলে আমরা প্রার্থী দিয়েছিলাম । কিন্ত আমাদের প্রার্থী দেখে শাসক দল ঘাবড়ে যায় তারা সন্ত্রাস করে , মানুষকে ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয় । এই গনতন্ত্র তো আমরা চাইনি । তা সত্ত্বে মানুষের মনে আমরা সাড়া জাগাতে পেরেছিলাম । এক কথায় বললে রাজ্যের মানুষ বিকল্পের সন্ধান করছে সৎ কোনো রাজনীতিবিদ মানুষের সামনে গিয়ে লড়াই আন্দোলন করলে অবশ্যই সফল হবে । আমরা সেই কাজটি করে যেতে চাই । গত মাসে মৌলালি যুব কেন্দ্রে আমরা তিনটি রাজনৈতিক দল একত্রে সভা করেছিলাম । সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রান্তিক মানুষ উপস্থিত হয়েছিল । এই সভার পর আমরা দলিত-মুসলিম-আদিবাসীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি । আগামী দিনে আমরা কলকাতায় আর একটি সভা করতে চলেছি সেখানে দেখবেন আরও বেশ কয়েকটি মুসলিম-দলিতদের স্বার্থ নিয়ে আন্দোলনকারী রাজনৈতিক দলগুলি এতে যোগ দিতে চলেছে ।

প্রশ্ন : আপনাদের এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তো হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপির সুবিধা হয়ে যাবে , মমতাকে হঠাতে গিয়ে তো আর একটা বিপদ ডেকে আনছেন ?

ইমতিয়াজ আহমেদ  :  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজেপি-র তো খুব বেশি তফাৎ নেই । একথা তো অস্বীকার করা যাবে না এই রাজ্যে বিজেপি-র উত্থানের মুল কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিশাহীন রাজনীতি । তৃণমূল সরকার সংখ্যালঘুদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তা কী পূরণ করতে পেরেছ ? ১০ হাজার মাদ্রাসা কী অনুমোদন পেয়েছে ? ওয়াকফ সম্পত্তি কী উদ্ধার হয়েছে ? ওয়াকফ সম্পত্তি আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ? তা হলে উনি করলেন টা কী ? বরং দেশের অন্যতম প্রাচীন মাদ্রাসা আধুনিক নবজাগরণের অন্যতম পীঠস্থান হুগলী মাদ্রাসাকে বন্ধ করে দিয়েছেন । বামফ্রন্ট সরকার যে কাজ করতে পারেনি সেই কাজ উনি খুব সহজে করে দিয়েছেন । রাজ্যের এক সময়কার সংখ্যালঘু নেতারা এখন কেউ তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী, কেউ সাংসদ হয়ে আরামে-আয়াসে জীবন কাটাচ্ছেন । এই রাজনীতি তো আমরা চাইনি । উল্টো দিকে দলিত-আদিবাসীদের জন্য এই সরকার কী করেছে ? উত্তর একটাই আদিবাসীদের জন্য রাজ্য সরকারের যে উন্নয়ন কমিটি রয়েছে তার চেয়ারম্যান কোনো আদিবাসী নন, একজন ব্রাক্ষ্মণ পরিবারের সন্তান। তাহলে ভাবুন ! দলিত-মুসলিমদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বিজেপি চায় না , অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে না বললেও কাজের মধ্যে দিয়ে তিনি নিরবে তা প্রমাণ করে চলেছেন।

প্রশ্ন : রাজ্যের বেশ কয়েকটি অরাজনৈতিক সংগঠন মুসলিমদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে কলকাতায় বৃহত্তর সমাবেশ করতে চলেছে , এই সভায় কী আপনারা যোগ দিচ্ছেন ?

ইমতিয়াজ আহমেদ  :  না । যোগ দিচ্ছি না । কারণ অরাজনৈতিক সংগঠনের এই সমাবেশ আমরা এর আগেও অনেক দেখেছি তাতে তেমন কোনো কাজ হয়নি । সরকার দাবি তো মানে না, উপরন্ত দাবির যৌক্তিকতা মেনেছে এ নজীরও দেখা যায়নি । আন্দোলন যদি নির্দিষ্ট না হয় তাহলে সমস্যা তৈরি হবে । সব কটি ইস্যুকে সামনে এনে আন্দোলন করলে  সফল হওয়া যায় না । তাই আমরা এই সভায় যোগ দিচ্ছি না । তবে নির্দিষ্ট কোনো ইস্যু নিয়ে আন্দোলন হলে অবশ্যই যোগ দেব ।


শেয়ার করুন
  • 143
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment