অন্যান্য 

বাংলার মুসলিম সমাজে মমতা ব্যানার্জীর যে গ্রহণ যোগ্যতা আছে, তাঁর দলের কোনো সাংসদ- বিধায়কদের নেই; মুসলিম ভোট হারানোর মত কোনো আশঙ্কা তৃণমূলের নেই, সুতরাং নুতন করে এইসব সুবিধাবাদী নেতাদের গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনও নেই : আবদুল মোমেন

শেয়ার করুন
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আবদুল মোমেন : বিজেপি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করবে এটাই বাস্তব। অবাস্তব এটাই যে তারা সেকুলার রাজনীতি করবে। কিন্তু অস্বাভাবিক চিত্র দেখা যাচ্ছে যে সেকুলার রাজনৈতিক দল মেরুকরণের রাজনীতি করছে। বাংলায় এই প্রবণতা অতি প্রবলভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইসলামপুরের দাড়িভিট হাই স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিজেপির সাম্প্রদায়িক খেলায় এই রাজ্যের এককালের মার্কামারা সেকুলার দল বামপন্থীরাও অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। এরই ফাঁকে আমরা দেখছি রাজ্যের শাসক দলের আহ্বানে রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিশিষ্টদের নিয়ে গোপন সভা করেছে। এই সভায় তাঁদের আহ্বান, সাম্প্রদায়িক দল বিজেপিকে রুখতে আপনারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকুন।

শাসক দলের এই বিশিষ্ট মুসলিমদের নিয়ে বৈঠক অত্যন্ত যে বিপজ্জনক খেলা ,তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে লাগবে না। সেই সাথে যেসকল বিশিষ্ট জন এই সভায় উপস্থিত ছিলেন তাঁরাও মেরুকরণের ফাঁদে পা দিয়েছেন। সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধের দায়িত্ব কি কেবল মুসলিমদের? সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের দায়িত্ব তো বেশি। কিন্তু কেন তাদের না নিয়ে কেবল মুসলিমদের নিয়ে এই খেলা? এতে তো বিজেপির সুবিধা হয়েছে। তারা বলতে পারবে মুসলিমরা এক হয়েছে এবং তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছে।তৃণমূল মুসলমানদের দল। সুতরাং হিন্দুরাও এক হও বিজেপির পাশে দাঁড়াও।
শাসকদলের এমন ভুল পথে চলার কারণে রাজ্যে বিজেপির সংখ্যা দিনে দিনে তো বাড়ছেই । তারপরেও যখন রাজ্য বারুদের স্তুপে দাঁড়িয়ে আছে তখন এই বৈঠকের পরিণতি কি হতে পারে তা ভাবা উচিত।
আসলে শাসকদল ভেবে পাচ্ছেনা কিভাবে তারা বিজেপি মোকাবেলা করবে। তাই কখনো ঘটা করে রাম নবমী পালন করছে আবার ঈদের মজলিশে সামিল হচ্ছে। ইফতার মজলিশ করছে। এর ফলে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে বিশ্বাস যোগ্যতা হারাচ্ছে শাসকদল।
অবশ্য এর জন্য মমতা ব্যানার্জীর দায়ী নয়। কিছু আগমার্বাকা নেতা মমতা ব্যানার্জি দেখাতে চাইছেন যে তারা দলের জন্যে কতটা আন্তরিক। সেই উদ্দেশ্যে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে ভুল পথে পরিচালিত করছেন।আর সেই ভুলের মাসুল গুনতে হবে মমতাকেই। সুতরাং আমার অনুরোধ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে , এঁদের কাছ থেকে যত দূরে থাকবেন ততই মঙ্গল হবে রাজ্যের এবং সংহতির।
অবাক লেগেছে গোপন মিটিং এর খবর ফলাও করে বিশেষ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে দেখে। এরা আসলে খবর প্রকাশ করে মুসলিম সমাজে নিজেদের জাহির করতে চাইছে। এতে শাসকদলের কোনো লাভ হবে না বরং এঁদের লাভ বেশি হবে। সেই সাথে সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপির। সন্দেহ হয় এদের সাথে ওই সাম্প্রদায়িক শক্তির গোপন বোঝাপড়া আছে কিনা। অথচ চিরকালই এঁরা শাসকদের ব্ল্যাকমেল করে নিজেদের আখের গোছাবে।
তাই তৃণমূল নেত্রীর এই সমস্ত সুযোগ সন্ধানীদের থেকে সাবধান হওয়া উচিত। এই বাংলার যা পরিস্থিতি তাতে মুসলিম সমাজে মমতা ব্যানার্জী যে গ্রহণ যোগ্যতা আছে তার দলের কোনো সাংসদ বিধায়কদের নেই। মুসলিম ভোট হারানোর মত কোনো আশঙ্কা তৃণমূলের নেই। সুতরাং নুতন করে এইসব সুবিধাবাদী নেতাদের গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করি।


শেয়ার করুন
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment