কলকাতা 

রাজ্যকে বিরোধী শূন্য করতে গিয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে , আবারও বলছি কংগ্রেস এবং বামেরা এই রাজ্যে যত বেশি শক্তি হারাবে তত দ্রূত উত্থান হবে বিজেপির : সোমেন মিত্র

শেয়ার করুন
  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সোমেন মিত্র শুক্রবার বারবেলায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন এআইসিসি পক্ষ থেকে ২০১৯এর লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁর প্রতি আস্থা রেখেছেন রাহুলসোনিয়া গান্ধী রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন প্রদেশ কংগ্রেসের বর্তমান যা অবস্থা তাতে হয়তো সাংগঠনিক অবস্থার দ্রূত উত্থান সম্ভব হবে না। তবে কংগ্রেস সোমেন মিত্রের মত একজন সাংগঠনিক নেতার হাত ধরে যে রাজ্যে সংগঠন মজবুত করতে পারবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যাইহোক সোমেনবাবু প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে সফল হবেন এই প্রত্যাশা রাজ্যের সাধারণ মানুষের মনে রয়েছে বাংলার জনরব তাঁর সাফল্য কামনা করছে তিনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হবেন এই প্রত্যাশা নিয়ে বাংলার জনরব তাঁর সাক্ষাৎকার নেয়নি তিনি একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে বাংলার রাজনীতির নাড়িনক্ষত্র সম্পর্কে অবহিত আছেন সেই প্রেক্ষাপটেই আমরা তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম তবে আমরা জানতাম অধীর চৌধুরিকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে সরানো হলে সেই পদে সোমেন মিত্র ছাড়া অন্য কাউকে দায়িত্ব এআইসিসি দেবে না।

যাইহোক বিশ্বকর্মা পুজোর দিনেই সোমেনবাবু বাংলার জনরবকে একান্তে বিশাল সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সেই সাক্ষাৎকারের পাঁচটি কিস্তি ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে আজ ষষ্ঠ কিস্তি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বুলবুল চৌধুরি

প্রশ্ন : আমাদের রাজ্যে যেভাবে গেরুয়া শিবিরের উত্থান হয়েছে তা নিয়ে কী আপনি চিন্তিত নন ?

সোমেন মিত্র : অবশ্যই চিন্তিত । কিন্ত এই রাজ্যে বিজেপি কিংবা আরএসএসের উত্থানের নেপথ্যে মমতা সরকারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি

দায়ী । একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের কোনো সার্বিক উন্নয়ন না করে যেভাবে উন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী চিৎকার করছেন তাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা মনে করছে এই সরকার সবই মুসলমানদের জন্য করছে । আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে নিজেদের টানতে অনেকটাই সফল হয়েছে বিজেপি । এই রাজ্যে যেটা এতদিন তারা করে উঠতে পারেনি , আজ তারা তা করতে পারছে ।

প্রশ্ন : তাহলে আপনি বলতে চাইছেন মুসলমানদের জন্য মমতা সরকার করছে বলেই বিজেপি এই রাজ্যে বাড়ছে ?

সোমেন মিত্র : তা নয় । একটি গণতান্ত্রিক-ধর্মনিরপেক্ষ সরকার সব সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করবে এটা বাঞ্ছনীয় । মুসলমানদের সব কাজ এই সরকার করেছে বলে যে দাবি করে থাকে সেটা ঠিক ? সত্যিকার অর্থে মুসলমানদের জন্য যদি কোনো মুখ্যমন্ত্রী করে থাকেন তাহলে তিনি হলেন সিদ্ধার্থশংকর রায় । তিনি ১১ শতাংশ মুসলিমকে চাকরি দিয়েছিলেন । আচ্ছা বলুন তো ! এই রাজ্যে মুসলমানরা কী পেয়েছে এই সরকারের আমলে ? ১০ হাজার মাদ্রসার অনুমোদন পেয়েছে ? চাকরি পেয়েছে কত শতাংশ ? বাড়ি পেয়েছে কত শতাংশ ? ভাতা পেয়েছে কত শতাংশ ? মুসলিম এলাকায় উন্নয়ন কেমন হয়েছে ? এসব উত্তর খুঁজতে গেলে দেখতে পাওয়া যাবে যে আসলে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি । রাজ্যের সবচেয়ে প্রাচীন মাদ্রাসা হুগলী মাদ্রসা এই সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে গেছে । ভাবা যায় ! আমার কথাটা স্পষ্ট মুসলমানদের সার্বিক উন্নয়ন না করে শুধু মাত্র প্রচারের জোরে বলা হচ্ছে ওই সম্প্রদায়ের ৯৯ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে । স্বাভাবিকভাবে সুযোগ-সন্ধানী রাজনীতিবিদরা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বাড়াচ্ছে ।

প্রশ্ন : বিরোধী দল হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব ছিল এই রাজ্যে গেরুয়া শিবিরকে আটকে দেওয়া । সেটা আপনারা করতে পারেননি কেন ?

সোমেন মিত্র : আধিপত্যবাদের রাজনীতিতে এই রাজ্যে বিরোধীদের রাজনীতি করার জায়গাটা ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে । শাসক তৃণমূল দল যেভাবে কংগ্রেস ও বামেদের একাংশকে ভেঙে দিয়েছে তাতে তো রাজনীতির মূল্যবোধটাই পাল্টে গেছে । ফলে এই রাজ্য বিরোধী শূন্য করতে গিয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে । আবার বলছি কংগ্রেস এবং বামেরা এই রাজ্যে যত বেশি শক্তি হারাবে তত দ্রূত উত্থান হবে বিজেপি-র । যেটা এখন চোখের সামনে ঘটছে ।

প্রশ্ন : বিজেপি এই উত্থানকে কী ঠেকানো সম্ভব নয় ?

সোমেন মিত্র : সম্ভব তবে সেক্ষেত্রে  শাসক দলকে ভূমিকা নিতে হবে । আর যেভাবে কাজ না করে সংখ্যালঘু সভায় গিয়ে আল্লাহ –ভগবান করছেন এটা বন্ধ করতে হবে ।  বন্ধ করতে হবে সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা ।

 

 


শেয়ার করুন
  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment