কলকাতা 

সংবিধান মতে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সরকার কোনো সাহায্য করতে পারে না , আর ইমাম ভাতার সঙ্গে শারদীয় উৎসবে টাকা দেওয়া এক হতে পারে না : সোমেন মিত্র

শেয়ার করুন
  • 15
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সোমেন মিত্র শুক্রবার বারবেলায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন এআইসিসি পক্ষ থেকে ২০১৯এর লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁর প্রতি আস্থা রেখেছেন রাহুলসোনিয়া গান্ধী রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন প্রদেশ কংগ্রেসের বর্তমান যা অবস্থা তাতে হয়তো সাংগঠনিক অবস্থার দ্রূত উত্থান সম্ভব হবে না। তবে কংগ্রেস সোমেন মিত্রের মত একজন সাংগঠনিক নেতার হাত ধরে যে রাজ্যে সংগঠন মজবুত করতে পারবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যাইহোক সোমেনবাবু প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে সফল হবেন এই প্রত্যাশা রাজ্যের সাধারণ মানুষের মনে রয়েছে বাংলার জনরব তাঁর সাফল্য কামনা করছে তিনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হবেন এই প্রত্যাশা নিয়ে বাংলার জনরব তাঁর সাক্ষাৎকার নেয়নি তিনি একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে বাংলার রাজনীতির নাড়িনক্ষত্র সম্পর্কে অবহিত আছেন সেই প্রেক্ষাপটেই আমরা তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম তবে আমরা জানতাম অধীর চৌধুরিকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে সরানো হলে সেই পদে সোমেন মিত্র ছাড়া অন্য কাউকে দায়িত্ব এআইসিসি দেবে না।

যাইহোক বিশ্বকর্মা পুজোর দিনেই সোমেনবাবু বাংলার জনরবকে একান্তে বিশাল সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সেই সাক্ষাৎকারের তিনটি কিস্তি ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে আজ চতুর্থ কিস্তি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বুলবুল চৌধুরি

 

প্রশ্ন : সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে ২৮ হাজার পুজো কমিটিকে ১০ হাজার টাকা করে সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন । এরপরেই এই রাজ্যে প্রথম রাজনীতিবিদ হিসেবে আপনি টুইট করে মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন । শারদীয় উৎসবে সাহায্য করে মুখ্যমন্ত্রী কি ভুল করেছেন বলে আপনি মনে করেন ?

সোমেন মিত্র : মুখ্যমন্ত্রী আমাদের সরকারের প্রধান । তাঁর দায়িত্ব হল আমাদের করের টাকাগুলিকে হেফাজত করে তা উন্নয়নের জন্য খরচ করা । দেশের সংবিধান স্পষ্ট বলেছে, কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সরকার সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারে না। তাহলে তিনি সংবিধানকে মানছেন না কেন ? সরকারের টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যে, তিনি বিলিয়ে বেড়াবেন । সরকারের টাকা খরচ করতে হলে সংবিধানের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে খরচ করতে হবে । আর এটা করা হচ্ছে ভোটের দিকে তাকিয়ে । এই দানছত্র করে ভোট পাওয়া যায় ঠিকই কিন্ত রাজ্যের সাধারণ মানুষের কোনো স্বার্থ সুরক্ষিত হয় না । তাই পুজো কমিটিগুলিকে টাকা সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি দেওয়া যায় না । সেজন্যই আমি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছি ।

প্রশ্ন : ইমাম-মোয়াজ্জেমদের ভাতা তো সংবিধান মতে সরকার দিতে পারে না । কিন্ত মুখ্যমন্ত্রী যখন ইমাম ভাতা চালু করেছিলেন তখন আপনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি কেন ? তৃণমূলে ছিলেন বলে ?

সোমেন মিত্র : ইমাম-মোয়াজ্জেমদের ভাতা সংবিধান মতে সরকার দিতে পারে না, এটা ঠিকই । কিন্ত মনে রাখতে হবে ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতা ওয়াকফ বোর্ড থেকে দেওয়া হয় । কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানদের যে ওয়াকফ সম্পত্তি আছে তা থেকে কোটি কোটি টাকা আয় হতে পারে । সুতরাং ইমাম ভাতার সঙ্গে শারদীয় উৎসবে টাকা দেওয়া এক হতে পারে না ।


শেয়ার করুন
  • 15
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment