কলকাতা 

বামেদের আমলে নির্দিষ্ট সরকার ছিল, মমতার আমলে কোনো সরকারই নেই, যা আছে তা হল জো-হুজুরের সরকার : সোমেন মিত্র

শেয়ার করুন
  • 142
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সোমেন মিত্র সত্তরের দশক থেকে রাজ্য কংগ্রেস দলের অন্যতম প্রথম সারির নেতা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন । তারপর কেটে গেছে, প্রায় ৫০ বছর । রাজ্য রাজনীতিতে সোমেন মিত্র আইকন হিসাবে বিরাজ করছেন । ব্যক্তিগতভাবে তিনি এখনও অনেক অসহায় মানুষের পরিত্রাতা হিসেবে কাজ করে চলেছেন । কলকাতার এক সময়কার যুব নেতা পরবর্তীকালে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে তিনিই বামেদের আমলে কংগ্রেসকে সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই শক্তিশালী করে তুলেছিলেন । ৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি না হলে হয়তো সোমেন মিত্রের নেতৃত্বেই বাংলায় কংগ্রেস রাজ শুরু হত । তা হয়নি কংগ্রেস ভেঙে যাওয়ার ফলে ঐক্যবদ্ধ কংগ্রেসের শক্তি অনেকটাই কমে যায় । ফলে বামেরা জনপ্রিয়তা হারিয়েও এক দশক ক্ষমতায় টিকে যায় ।

কালের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বামফ্রন্টকে এই রাজ্য থেকে সরানোর লক্ষ্যে সোমেন-মমতা এক হয়েছিলেন । ২০০৯ সালে তিনি ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের সাংসদ নির্বাচিত হন । ২০১১তে এসেছিল কাঙ্খিত পরিবর্তন । কিন্ত দেখা গেল ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগেই সোমেন মিত্র নিরবে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না করে ফিরে এলেন কংগ্রেসে । এখন তিনি সাংসদ নন. বিধায়কও নন তবু প্রতিদিন অগণিত মানুষ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান । অনেক অসহায় বঞ্চিত মানুষ সোমেন মিত্রের  কাছে যান সুবিচার পাওয়ার আশায় । তিনি এখনও চেষ্টা করেন নির্যাতিত মানুষকে ন্যায় পাইয়ে দেওয়ার ।

বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদকে বঙ্গ রাজনীতিতে আর এক অতুল্য ঘোষ বলা হয় । রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকরাও তাকিয়ে থাকেন সোমেন মিত্রের প্রতিক্রিয়ার দিকে । আর বঙ্গ রাজনীতির সত্যিকারের ধর্মনিরপেক্ষ মুখ হলেন সোমেন মিত্র । এ হেন একজন রাজনীতিবিদ বাংলার জনরব নিউজ পোর্টালের মুখোমুখি হয়েছেন । কী বললেন বাংলার এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তা জানতে পড়তে থাকুন বাংলার জনরব ?

সোমেন মিত্র শুক্রবার বারবেলায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন । এআইসিসি-র পক্ষ থেকে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁর প্রতি আস্থা রেখেছেন রাহুল-সোনিয়া গান্ধী । রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন প্রদেশ কংগ্রেসের বর্তমান যা অবস্থা তাতে হয়তো সাংগঠনিক অবস্থার দ্রূত উত্থান সম্ভব হবে না। তবে কংগ্রেস সোমেন মিত্রের মত একজন সাংগঠনিক নেতার হাত ধরে যে রাজ্যে সংগঠন মজবুত করতে পারবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই । যাইহোক সোমেনবাবু প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে সফল হবেন এই প্রত্যাশা রাজ্যের সাধারণ মানুষের মনে রয়েছে । বাংলার জনরব তাঁর সাফল্য কামনা করছে । তিনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হবেন এই প্রত্যাশা নিয়ে বাংলার জনরব তাঁর সাক্ষাৎকার নেয়নি । তিনি একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে বাংলার রাজনীতির নাড়ি-নক্ষত্র সম্পর্কে অবহিত আছেন । সেই প্রেক্ষাপটেই আমরা তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম । তবে আমরা জানতাম অধীর চৌধুরিকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে সরানো হলে সেই পদে সোমেন মিত্র ছাড়া অন্য কাউকে দায়িত্ব এআইসিসি দেবে না।

যাইহোক বিশ্বকর্মা পুজোর দিনেই সোমেনবাবু বাংলার জনরবকে একান্তে বিশাল সাক্ষাৎকার দিয়েছেন । সেই সাক্ষাৎকারের দুটি কিস্তি ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে । আজ তৃতীয় কিস্তি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বুলবুল চৌধুরি ।

প্রশ্ন : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার কেমন চলছে বলে আপনার মনে হয় ?

সোমেন মিত্র :  সরকারটাই নেই তো আবার তা চলবে কিভাবে ? এই সরকারের আমলে কোনো গঠনমূলক কাজ হয়েছে কী ? ভিক্ষা দেওয়া হচ্ছে । প্রতিটি জায়গায় দেখবেন সরকার কিছু টাকা উপঢৌকন দিচ্ছে । কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, যুবশ্রী, মেলা-খেলাতে দানছত্র চলছে । সার্বিক কোনো উন্নয়ন হয়েছে কি ? কলকাতার রাস্তাঘাট দেখলে সেই উন্নয়ন টের পাওয়া যায় । আসলে আধিপত্যবাদ কায়েম করতে গিয়ে উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না । রাজ্যজুড়ে চলছে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি । জো -হুজুরের সরকার চলছে ।

প্রশ্ন : বামফ্রন্ট সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের পার্থক্য কি ?

সোমেন মিত্র : সরকারই নেই তো । পার্থক্য কি করে থাকবে ? বামেদের আমলে একটি নির্দিষ্ট সরকার ছিল । মন্ত্রীদের আলাদা আলাদা দায়িত্ব ছিল । কিন্ত এই সরকারের আমলে সব জো-হুজুর-ই চলছে । উদাহরণ আপনি দেখুন এই সরকারের আমলেই বেশ কয়েকটি সেতু ভেঙে গেল । কোনো সর্তকতা নেই । কেন নেই ? বাগরির মত এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম পাইকারি বাজার পুড়ে ছাই হয়ে গেল । ব্যবসায়ীরা দাবি করল, সেনা নামানোর । সেনা নামিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করলে হয়তো তাড়াতাড়ি নেভানো যেত । কিন্ত মুখ্যমন্ত্রী যেহেতু বাইরে আছেন তাই মন্ত্রীগোষ্ঠী সিদ্ধান্ত নিতে পারল না। কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেল ।

 


শেয়ার করুন
  • 142
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment