অন্যান্য 

আমি দায়িত্ব ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার লোক নই, কংগ্রেস মানুষের অধিকার নিয়ে লড়াই করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠন করলে কংগ্রেসের মরা গাঙে ঢেউ উঠবেই : সোমেন মিত্র

শেয়ার করুন
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সোমেন মিত্র সত্তরের দশক থেকে রাজ্য কংগ্রেস দলের অন্যতম প্রথম সারির নেতা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন । তারপর কেটে গেছে, প্রায় ৫০ বছর । রাজ্য রাজনীতিতে সোমেন মিত্র আইকন হিসাবে বিরাজ করছেন । ব্যক্তিগতভাবে তিনি এখনও অনেক অসহায় মানুষের পরিত্রাতা হিসেবে কাজ করে চলেছেন । কলকাতার এক সময়কার যুব নেতা পরবর্তীকালে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে তিনিই বামেদের আমলে কংগ্রেসকে সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই শক্তিশালী করে তুলে ছিলেন । ৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি না হলে হয়তো সোমেন মিত্রের নেতৃত্বেই বাংলায় কংগ্রেস রাজ শুরু হত । তা হয়নি কংগ্রেস ভেঙে যাওয়ার ফলে ঐক্যবদ্ধ কংগ্রেসের শক্তি অনেকটাই কমে যায় । ফলে বামেরা জনপ্রিয়তা হারিয়েও এক দশক ক্ষমতায় টিকে যায় ।

কালের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বামফ্রন্টকে এই রাজ্য থেকে সরানোর লক্ষ্যে সোমেন-মমতা এক হয়েছিলেন । ২০০৯ সালে তিনি ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের সাংসদ নির্বাচিত হন । ২০১১তে এসেছিল কাঙ্খিত পরিবর্তন । কিন্ত দেখা গেল ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগেই সোমেন মিত্র নিরবে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না করে ফিরে এলেন কংগ্রেসে । এখন তিনি সাংসদ নন. বিধায়কও নন তবু প্রতিদিন অগণিত মানুষ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান । অনেক অসহায় বঞ্চিত মানুষ সোমেন মিত্রের  কাছে যান সুবিচার পাওয়ার আশায় । তিনি এখনও চেষ্টা করেন নির্যাতিত মানুষকে ন্যায় পাইয়ে দেওয়ার ।

বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদকে বঙ্গ রাজনীতিতে আর এক অতুল্য ঘোষ বলা হয় । রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকরাও তাকিয়ে থাকেন সোমেন মিত্রের প্রতিক্রিয়ার দিকে । আর বঙ্গ রাজনীতির সত্যিকারের ধর্মনিরপেক্ষ মুখ হলেন সোমেন মিত্র । এ হেন একজন রাজনীতিবিদ বাংলার জনরব নিউজ পোর্টালের মুখোমুখি হয়েছেন । কী বললেন বাংলার এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তা জানতে পড়তে থাকুন বাংলার জনরব ? কয়েকটি কিস্তিতে প্রকাশিত হবে সোমেনবাবুর সাক্ষাৎকার । আজ দ্বিতীয়  কিস্তি । সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বুলবুল চৌধুরি ।

প্রশ্ন : সাংগঠনিক নেতা হিসাবে আপনি কী মনে করেন এই রাজ্যে কংগ্রেসের সাফল্যের আশা নেই ?

সোমেন মিত্র : সাফল্য অবশ্যই আসবে । কারণ কংগ্রেস দল মানুষের অধিকার নিয়ে লড়াই করে । আর বাংলার সাফল্যের ক্ষেত্রে সংগঠনকে ভালভাবে সাজাতে হবে । আর মনে রাখতে হবে কংগ্রেস কোনো দল নয় , এটা একটি পরিবার । এই পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সংগঠন সাজালে সাফল্য আসবেই । প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি এককভাবে কাজ করার বা সংগঠন করার চেষ্টা করছেন । এটা অবশ্যই ভাল উদ্যোগ কিন্ত প্রত্যেককে সমানভাবে গুরুত্ব দিলে দলের সংহতি আরও মজবুত হবে ।

প্রশ্ন : কংগ্রেসের মূল ভোট ব্যাঙ্ক হল সংখ্যালঘুরা । সেই সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক এখন কংগ্রেসর হাতছাড়া । এটাকে ফিরিয়ে আনার পেছনে রাজ্য কংগ্রেসের করনীয় কী ?

সোমেন মিত্র : কংগ্রেস দল এই রাজ্যে সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান-সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করে গেছে । সিদ্ধার্থ রায়ের আমলে মুসলিমদের ১১ শতাংশ সরকারি চাকরি হয়েছিল । তাঁর মন্ত্রীসভায় একাধিক মুসলিম মন্ত্রী ছিলেন যাদের হাতে ক্ষমতা তিনি দিয়েছিলেন । তিনি উদার হৃদয়ে রাজ্যের মুসলিমদের কথা চিন্তা করেছিলেন। ফলে মুসলিমদের একটা বিরাট অংশ বরাবরি কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছে । মুর্শিদাবাদ , মালদহ, উত্তর দিনাজপুর প্রভৃতি এলাকায় কংগ্রেস শক্তিশালী ছিল । কিন্ত এখন মমতার আমলে যেভাবে গ্রাস করে নেওয়া হচ্ছে তাতে এইসব এলাকায় কংগ্রেস দূর্বল হয়ে পড়ছে । তবে আশার কথা এই যে কংগ্রেস যদি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠে তাহলে আবার কংগ্রেস তার হৃত-গৌরব ফিরে পাবে ।

প্রশ্ন : আপনি কংগ্রেস দলের সাংগঠনিক নেতা হিসেবে পরিচিত । এখন যদি আপনাকে বাংলা কংগ্রেসের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাহলে কী পারবেন কংগ্রেসের মরা গাঙে ঢেউ তুলতে ?

সোমেন মিত্র : মরা গাঙে ঢেউ তুলতে পারব কিনা জানি না । তবে একথা বলতে পারি আমি দায়িত্ব ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার লোক নই ।


শেয়ার করুন
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment