প্রচ্ছদ 

পঞ্চায়েতে জিতবে তো তৃণমূলই, তাহলে এত হারাকিরি কেন?

শেয়ার করুন
  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গালিব ইসলামঃ  গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই চিত্র এতটা প্রকট হয়নি। এবার টিভির পর্দা খুলতেই

রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বোমা পিস্তল নিয়ে দাদাগিরির ছবি ভেসে উঠছে। বোমা  শব্দে কান  পাতা দায় হয়ে যাচ্ছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন থেকে শুরু শেষ দিন পর্যন্ত এই বোমাবাজি, হল্লাহারামি চলেছেই অবাধে।
সত্তর দশকও হার মেনে যায়।

মনে হয়না, এ রাজ্যে কোনও মুখ্যমন্ত্রী আছেন কিংবা প্রশাসন আছে। অবাক লাগে, এখন প্রশ্ন তুলে বলা  হচ্ছে, এসব কি CPM
আমলে ছিলনা? নিশ্চয়ই এইভাবে গনতন্ত্রকে CPM ব্যাপক ম্যাল প্রাকটিস করেছে।
কিন্তু তাই বলে এখনও সেই ট্রাডিশন চলবে নাকি?  অদ্ভুত (কু) যুক্তি এসব, নয়কি?
একটা বিষয় মনে রাখা দরকার, এ রাজ্যে এখনও দিদির বিকল্প নাই। হেসেখেলে জিতে যাবে তৃনমূল, সে বিষয়ে সন্দেহই নেই। তা ছাড়া এখন উন্নয়ন, মানে রাস্তাঘাট, জীবনের গতিও বেশ বদলে গেছে, দাবি শাসক দলের। এবং তাইই যদি হয়ে, হয়ে থাকে, তাহলে, এত হুলিগানসদের হাতে এ রাজ্যের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া কেন? এখন এত তাড়াতাড়ি তো এন্টিইনকামবেন্সি ফ্যাক্টর হবার কথাও নয়!
কিন্তু সমস্যা হল, গনতন্ত্রকে রীতিমতো চূড়ান্ত ম্যালাইন করে,
মিস ইউজ করে, ম্যাল প্রাকটিস
করে রাজ্যটার বারোটা বাজিয়ে দেওয়া হচ্ছে!
সবচেয়ে আশঙ্কার ব্যাপার হলো
যে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদি শক্তিকে অবদমন জরুরি ছিল, বর্তমান শাসক দলের অবিমিশ্রকারী হটকারিতার ফলে তারা অনেকটা সহানুভুতিও পেয়ে যাচ্ছে। সমস্যাটা তাই লঘু নয়।
বর্তমান শাসকদলের  কোনওভাবে  আদর্শগত সংগ্রাম ফ্যাসিবাদের পক্ষে করা সম্ভবই নয়। রাম, হনুমান,গরু, মায় হিন্দুত্বের অনেককিছুই তৃনমূল আত্মসাৎ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যা ভ্রান্ত লাইন।
আজকের হুলিগানি বাংলার ভবিষ্যৎ যদি  প্রকাশ্য এই হারাকিরির দিকে ধাবিত হয়, তার চেয়ে দূর্ভাগ্য আর কিছু নেই !
পঞ্চায়েতকে উন্নয়নের হাতিয়ার করা, মানুষের কাছে তার অসাংবিধানিক অধিকার, পরিষেবা ইত্যাদি সুলভ করার প্রয়োজনীয়তা আজকের জরুরি ছিল। কিন্তু তার বদলে যেকোনও রাজনৈতিক দলই পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে নিজেদের ‘ হেফাজতে ‘
নিয়ে রাখতে চাইছে, এটা বিগত জমানা ও আজকের মমতাযুগে ও হুজুগে সমান লক্ষ্যনীয়। তাই এত লাগামছুট বেসাতি চলছে এই বাংলায়। কেউ কম যেতে চায়না। সবাই টেক্কা দিতে চায়। এটাই সমস্যা। এর মাঝে এসে পড়েছে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী বিপদ। যারা শাসন ক্ষমতায় এবার নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রে আসীন, বলাবাহুল্য গুজরাটকে হিন্দুত্বের সুতিকাগার বানাতে সফল, সেই ভয়াবহ অপশক্তি হিংস্র, অসুয়াভারতকে লুঠেরায় রুপান্তরিত করে চলেছে।
রাজ্যস্তরে মমতা স্বৈরাচারের নিষ্ঠুরতায় এক ব্লান্ট হুলিগানি জনতাকে মাঠে নামিয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে তাঁর প্রশাসনও সমান রাষ্ট্রবাদের হিংস্রতায় নতুন বিপদ ধর্মীয় ফ্যাসিবাদকে এ রাজ্যে নানাভাবে স্পেস করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।
বলাবাহুল্য রাজ্য এক দুঃসহ হারাকিরির দিকেই এগুচ্ছে বলে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।


শেয়ার করুন
  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment