জেলা 

“জাকির আমাদের দলের কর্মী, গরিব ঘরের ছেলে, সেই জাকিরকে ওরা ক্রিমিনাল বলছে ” : সুজন চক্রবর্তী ; আমডাঙায় হোক আমাদের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের পথ : বিমান বসু

শেয়ার করুন
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধি : পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করাকে কেন্দ্র করে অশান্ত আমডাঙায় রবিবার সভা করল সিপিএম । এই প্রতিবাদ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু । তিনি বলেন,”আমডাঙাই হোক আমাদের পথ। মানুষ প্রতিবাদ করতে করতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। রাজ্যে ফ্যাসিস্ট সরকার চলছে। প্রতিবাদ করতেই হবে। এছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। স্বৈরাচারী সরকার দেওয়ালের লিখন পড়ার চেষ্টা করুন।” আজ আমডাঙার মাধবপুর বাজারে বামফ্রন্টের প্রতিবাদ সভায় একথা বললেন চেয়ারম্যান বিমান বসু।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য পুলিশ ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে আক্রমণ করে বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “এক পয়সার মুরোদ নেই, বসে বলে দিচ্ছে বিএসএফ-এর সাহায্যে বাংলাদেশ থেকে অস্ত্র আনা হচ্ছে। যদি তেমন হয়, তাহলে পুলিশ অস্ত্র খুঁজুক। অস্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছে যে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তাঁকে আটক করুক। উনি বলছেন AK 47 এসেছে। তাহলে তাঁকে ধরুক। উদ্ধার করুক অস্ত্র। যদি না পারে তাহলে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলুন কোথায় AK 47 রাখা আছে।”

পুলিশকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “কারও কথা শুনে উত্তেজিত হয়ে লম্ফঝম্ফ করবেন না। বিপদে যেদিন পড়বে সরে গিয়ে আপনাদের ঘাড় দোষ চাপিয়ে দেবে। খাকি উর্দি কোনও পোশাক নয়। এটা একটা সম্মান। উর্দির সেই সম্মান রাখুন। সাধারণ মানুষের করের টাকায় আপনাদের খরচ চলে। সেটা মনে রাখুন।”
আমডাঙা কাণ্ডে ধৃত মূল অভিযুক্ত জাকির ভুল্লক প্রসঙ্গে সুজন চক্রবর্তী বলেন, “জাকিরের হাতের পাশে গাঁজার প্যাকেট রেখে তাকে দোষী বানিয়ে দিল। তদন্তের আগেই ওকে দোষী বলে দিল। তদন্ত হোক। জাকির আমাদের দলের কর্মী। গরিব ঘরের ছেলে। সেই জাকিরকে ওরা ক্রিমিনাল বলছে।”
পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে গত ২৮ অগাস্ট তৃণমূল ও CPI(M) দু’পক্ষের সংঘর্ষে তিন জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। ৩ সেপ্টেম্বর সাংসদ মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্ব বামেরা আমডাঙা থানা ঘেরাও কর্মসূচি নিয়েছিল। সেদিন পুলিশ তাঁদের আমডাঙা পর্যন্ত ঢুকতেই দেয়নি। চার কিলোমিটার দূরে সন্তোষপুরে লরির ওপরে দাঁড়িয়ে সভা করেন সেলিমরা। ঠিক তার তিন দিন পরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমডাঙার বহিসগাছি গ্রামে পুলিশ সভা করতে দেয়। আবার ৮ সেপ্টেম্বর অধীর চৌধুরিদের আটকে দেয় পুলিশ।
এরপর ১১ সেপ্টেম্বর রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর কাছে বামেরা আমডাঙায় পুলিশি সন্ত্রাসের অভিযোগ জানায়। তারপর আজ বিমান বসুর সভা নিয়েও বিস্তর জলঘোলা হয়। পুলিশ প্রথমে অনুমতি দেয়নি। শেষে মাধবপুর বাজারে সেই সভা করার অনুমতি মেলে। এছাড়া সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রমলা চক্রবর্তী, তন্ময় ভট্টাচার্য, হরিপদ বিশ্বাস সহ অন্য বাম নেতারা।

 

ছবি : ফাইল চিত্র

 

 

 

 


শেয়ার করুন
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment