কলকাতা 

বিধ্বংসী আগুনে কলকাতার সবচেয়ে বড় পাইকারী বাজার পুড়ে ছাই হয়ে গেল , ২০ ঘন্টা পরও আগুন নেভেনি , দমকল বলছে ৪৮ ঘন্টা লাগবে , বাগরি মার্কেটের জতুগৃহে দায় কার পুরসভা, না সাধারণ মানুষের ?

শেয়ার করুন
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিবেদক : বিধ্বংসী আগুনে কলকাতা সবচেয়ে বড় পাইকারী বাজার বাগরি মার্কেট পুড়ে ছাই হয়ে গেল । চোখের সামনে কয়েকশো বড় ব্যবসায়ীর সব কিছু পুড়ে গেল । পুজোর আগে বাগরি মার্কেটের এই আগুনে সর্বশান্ত হয়ে গেল ব্যবসায়ীরা ।

২০ ঘণ্টা পরেও আগুন নেভেনি বড়বাজারের বাগরি মার্কেটে। গ্যাস সিলিন্ডার  বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ঘটনাস্থল থেকে । বাজারের মধ্যে একাধিক গুদামে প্রচুর পরিমাণে ওষুধ সহ বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তু মজুত রয়েছে। সেই সমস্ত রাসায়নিক বস্তু পোড়ায় আগুনের রং এখন নীল, সেই সঙ্গে বাড়ছে ধোঁয়া। এর জেরে এলাকার বিভিন্ন বাড়ি থেকে লোকজনকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

রবিবার ভোর পৌনে তিনটে নাগাদ বড়বাজারের বাগরি মার্কেটে ভয়াবহ আগুন লাগে। দমকলের ৩০টি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজ চালাচ্ছে। ঘটনাস্থলে আসেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা ও মুকুল রায়। দমকল অধিকর্তা জগমোহন জানিয়েছেন, আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে।

লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত আগুনে হতাহতের কোনও খবর নেই। তবে জিনিসপত্রের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জলের সমস্যার কারণে লাল দিঘি থেকে দমকলকে জল আনতে হচ্ছে । এই কারণে নেভানোর কাজে দেরি হচ্ছে বলে জানা গেছে ।

আগুন লাগার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থালে আসেন কলকাতার মেয়র শোভন চ্যাটার্জি। তিনি জানান, আগুন নেভানোর কাজ জোরকদমে চলছে। তবে অনেক বিল্ডিং থাকায় দেরি হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর নেই।

তিনি আরও বলনে, “আমি তো এসেছি রাত তিনটের সময়। ক্লান্ত দেখতে দেখতে। আগুন একবার করে কমছে, আবার জ্বলে উঠছে। ভিতরে এত দাহ্য পদার্থ রয়েছে যেগুলো হয়ত রাখা বাঞ্ছনীয় ছিল না। ব্যবসা করুক কিন্তু নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা উচিত। তাহলে হয়ত এই ঘটনার সম্মুখীন হতে হত না। যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে ও জীবন বাজি রেখে দমকল কর্মীরা কাজ করছেন।”

রবিবার সকালে বিদেশ সফর যাওয়ার সময়  কলকাতা বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সব খোঁজ আমার আছে। রাত তিনটে নাগাদ আগুন লাগে। কোনও প্রাণহানি হয়নি। আগুন তো লাগতেই পারে। আর কিছুক্ষণের আগুন নিভে যাবে আশা করি।” দমকল কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ করছেন। তবে যা পরিস্থিতি তাতে ২০ ঘন্টা পরও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার এখনও কোনও লক্ষণ নেই। দমকল জানিয়েছে,৪৮ ঘন্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।


শেয়ার করুন
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment