কলকাতা 

১৭ হাজারের বেশি কর্মরত রাজ্য সরকারের কর্মীর চাকরির ভবিষ্যৎ অন্ধকারে, সরকারি কর্মীদের একাংশের দাবি রাজ্যে এনআরসি চলছে,

শেয়ার করুন
  • 21
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিবেদক : এক আজব ভূতুড়ে কান্ড-কারখানা আবিস্কার হয়েছে । অবশ্য এটা কোনো ভুতের জেল খানা নয় , বরং বলা যেতে পারে এটা বাস্তব এবং নির্বাচিত সরকারের দপ্তরে ভিতরের ঘটনা । মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী কী মনে করে অর্থ দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যের অফিসগুলিতে কত সরকারি কর্মচারি আছে তার হিসেব দিতে । আর সেই হিসেব মেলাতে গিয়ে আধিকারিকদের চক্ষু চড়ক হয়ে গেছে। নয়, নয় করে রাজ্য সরকারের ৫০ টি দপ্তরে ৩ লাখ ১৩ হাজার কর্মচারীর মধ্যে ১৭ হাজার ৪২৭ জন কাজ করছেন অনুমোদনহীন পদে । যা সরকারি হিসেবে বেআইনি ।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ডিজিটাল আনন্দবাজারে এই খবরটি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ পেয়েছে । এই সংবাদ প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে । জানা গেছে মুখ্যমন্ত্রী এবার পুরসভা , পঞ্চায়েত ও স্কুল-কলেজগুলিতে কেউ অনুমোদনহীন পদে কাজ করে দিনের পর দিন বেতন নিচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে এইসব ভুতুড়ে কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে । জানা গেছে,এই কর্মীদের ভবিষ্যৎ ঘিরে সংশয় এবং উদ্বেগ তৈরি হয়েছে প্রশাসনের অন্দরে। কারণ, গত ২৮ অগস্ট অর্থসচিব এইচ কে দ্বিবেদী এক নির্দেশিকায় জানিয়েছিলেন, বিনা অনুমোদনের কর্মীদের সেপ্টেম্বর মাস থেকে আর বেতন দেওয়া হবে না।

 বিশেষ সূত্রে জানা গেছে,অর্থ দফতরের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এইচআরএমএস)-এর তথ্য বলছে, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার জন নিজেদেরবৈধসরকারি কর্মী হিসাবে প্রমাণ করতে পারেননি। ১০ তারিখ সিস্টেম বন্ধ হওয়ার আগে আরও কয়েকশো কর্মী পদের বৈধতার প্রমাণ দাখিল করে থাকতে পারেন বলে দফতরের একটি সূত্রের ধারণা।

এই ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারকেই দায়ী করেছেন কর্মীদের একাংশ। তাঁদের মতে, ‘‘অর্থ দফতর অযথা হুড়োহুড়ি করায় এত জন কর্মীর নাম বাদ পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যেন সরকারি দফতরেএনআরসিব্যবস্থা কায়েম করার শামিল।’’ যদিও অর্থ দফতরের এক কর্তার বক্তব্য, ‘‘সরকার যখন বেতন দিচ্ছে, তখন সঠিক লোককে তা দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটা যাচাই করার অধিকার তার রয়েছে।’’

অর্থ দফতরের খবর, এখন এইচএমআরএস সফটওয়্যারের মাধ্যমেই বেতন থেকে ছুটি, সার্ভিস বই থেকে পদোন্নতিসব কিছু নিয়ন্ত্রিত হয়। সেই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর গত জুলাইয়ে অর্থ দফতর প্রত্যেক কর্মীর নিয়োগের বৈধতা যাচাইয়ে নেমেছিল।

বলা হয়, এইচএমআরএসের মাধ্যমে যাঁরা বেতন পান, তাঁরা কোন দফতরে, কোথায়, কী পদে কাজ করেন, তাট্যাগকরা হবে। পাশাপাশি দফতরের নির্দিষ্ট সংখ্যক অনুমোদিত পদে কারা কাজ করেন তা চিহ্নিত করতে হবে। প্রথম দফায় অনেক দফতরই অনুমোদিত পদের সাপেক্ষে কর্মীদের বাছতে ব্যর্থ হয়। ১০ সেপ্টেম্বর সময়সীমা শেষের পরেও দেখা যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, কারা, ভূমি ভূমি সংস্কার, পঞ্চায়েত, স্কুলশিক্ষা দফতরের বহু কর্মীর নিয়োগঅনুমোদিতপদে হয়নি। অর্থ দপ্তরের কর্তারা জানাচ্ছেন, নিয়োগ বৈধ পথে হলেও তা যদি সরকার অনুমোদিতনির্দিষ্ট পদেনা হয়, তা যথার্থ নয়। ফলে যে সব কর্মীর এখনও এইচএমআরএস ট্যাগিং হয়নি, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অর্থ দপ্তরের কর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। পাশাপাশি শুধু ৫০টি দফতরেই সাড়ে ১৭ হাজার বিনা অনুমোদনের কর্মী মিলেছে, স্কুল, কলেজ, পঞ্চায়েত, পুরসভায় যে কত হাজার এমন কর্মী মিলবে তা সরকারি আধিকারিকরা দিশেহারা। ( তথ্য সূত্র : ডিজিটাল আনন্দবাজার)


শেয়ার করুন
  • 21
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment