বিনোদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য 

জীবনানন্দ সভাঘরে অঞ্জলি স্মরণে কবি শঙ্খঘোষ

শেয়ার করুন
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেখ আব্দুল মান্নান, কলকাতা : সাহিত্যের সৌরভ কোনো সীমারেখার বাঁধ মানে না। সে বিচ্ছুরিত হবেই, দেশ থেকে দেশান্তরে।আর সেটাই গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  কলকাতা জীবনানন্দ সভাঘরে বীরঙ্গণা অঞ্জলি লাহিড়ীর স্মৃতি তর্পন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সাহিত্য-বোদ্ধার প্রাঞ্জল আলোচনার মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। সাহিত্য সাধনা, সমাজ চেতনা, গৃহকর্মে নিপুনা, সংবেদনশীল নারী অঞ্জলি জন্মসূত্রে কলকাতার হয়েও তিনি মেঘালয় এবং অসমের আবাল বৃদ্ধবনিতার আদরের ধনে পরিনত হয়েছিলেন।বিশেষ করে সমাজের সমস্যা জর্জরিত মানুষের তিনি ছিলন ভরসার স্থল। তিনি তাঁর সাধ্যমত যা কিছু দিয়ে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করতেন না।এমন কি তিনি বাংলা দেশের মুক্তিযুদ্ধে অসহায় মানুষের সেবায় ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে সীমান্তে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন নিজের জীবন বিপন্ন করে।

যুদ্ধকালীন পাকসেনার বিভীষিকাময় নিজস্ব অভিজ্ঞতা দিয়ে পরবর্তীতে রচনা করেছেন কালজয়ী সাহিত্য। যা সাহিত্য বোদ্ধাদের কাছে সমাদৃত।তাই এমন একজন সর্বগুণ সম্পন্না বীরঙ্গণা নারীর সমগ্র কর্মজীবনের মূল্যায়ণের মধ্যে দিয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতেই কবি শঙ্খ ঘোষের উপস্থিতিতে এদিন সাহিত্য সংস্থা ‘জীবনস্মৃতি’ এবং ‘অহর্নিশ’ যৌথভাবে আয়োজন করেছিল অঞ্জলি লাহিড়ী স্মরণানুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে সবিস্তারে আলোচনার জন্য আমন্ত্রীত বক্তা হিসেবে উপস্থিত গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার বিভাগীয় প্রধান ড. উষারঞ্জন ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট কবি সাংবাদিক ও গুয়াহাটির বাংলা দৈনিক ‘সময় প্রবাহ’ (অধুনা লুপ্ত)-র সম্পাদক সুকুমার বাগচী, কবি শঙ্কর চক্রবর্তী এবং সাহিত্য অন্তপ্রাণ অনুবাদ সাহিত্যে পারদর্শী বাসুদেব দাস।

আমন্ত্রীত চার বক্তারই ছিল অঞ্জলি লাহিড়ীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তারাঁ দীর্ঘদিন ধরে অঞ্জলি কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁর কথা শুনেছেন, তাঁর সাহিত্য পাঠ করেছেন,মায় তাঁর পারিবারিক খুঁটিনাটি বিষয়েও অবগত থেকেছেন। তাই এদিন বক্তারা লেখিকা অঞ্জলি, মানবি অঞ্জলি, সমাজহিতৈষী অঞ্জলির বিভিন্ন দিক পুংখানুপুংখ বিশ্লেষণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সুকুমার বাগচী মেঘালয়ের পটভূমিতে খাসি জনজীবনকেন্দ্রীক অঞ্জলি লাহিড়ীর উপন্যাস ‘বিলোরিস’ সে সময়ে ‘সময় প্রবাহ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

ড.উষারঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁর বক্তব্যে ‘জগজ্যোতি’ উপন্যাসের কথা তুলে ধরেন। প্রসঙ্গক্রমে অঞ্জলি লাহিড়ীর সাথে বাংলাদেশের প্রখ্যাত লেখিকা সাইন আখতারের সখ্যতার কথা উল্লেখ করেন। বাসুদেব দাস অঞ্জলি লাহিড়ীর তিনটি উপন্যাস বিলোরিস,পামভিউ নার্সিংহোম, সোনার সিঁড়ি উপকথা সহ তাঁর অনুদিত নির্বাচিত অসমিয়া গল্প সংকলনেরও বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তব্য রাখেন দিল্লী থেকে আগত অধ্যাপক অনিন্দ বিশ্বাস। এদিনের মনোগ্রাহী অনুষ্ঠানটির পরিসমাপ্তি ঘটে প্রীয়াঙ্গী লাহিড়ীর পরিবেশিত একগুচ্ছ রবীন্দ্র সংগীত দিয়ে।বিশেষ করে যে গানগুলি অঞ্জলি লাহিড়ীর জীবনাদর্শের সাথে সম্পৃক্ত।এই মহতী অনুষ্ঠনটির সঞ্চালনা করেন অঞ্জলি অনুরাগী শুভাশিষ চক্রবর্তী।


শেয়ার করুন
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment