অন্যান্য 

কমিটি নয়, সংখ্যালঘু চরিত্র অক্ষুন্ন রেখে কমিশনের মাধ্যমে মাদ্রাসায় নিয়োগ চাই : আবদুল মোমেন

শেয়ার করুন
  • 834
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আবদুল মোমেন : যদিও কথাটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ তবুও অপ্রিয় সত্য কথা বলতেই হবে। কমিটি নয় মাদ্রাসায় নিয়োগ হোক কমিশনের মাধ্যমে।
মাদ্রাসা শিক্ষার একটা ঐতিহ্য রয়েছে। এই শিক্ষার সাথে হযরত মুহাম্মাদ সঃ এর মসজিদে নববীর শিক্ষা ধারার প্রতক্ষ সংযোগ রয়েছে। তাই মুসলিমদের কাছে এই শিক্ষা অত্যন্ত পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বলে বিবেচিত হয়। বিশেষত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে।
এই বাংলায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায পরিচালিত অর্থাৎ সরকারি সাদ্রাসার সংখ্যা ৬১৪ টা। এই মাদ্রাসার শিক্ষক ছাত্র সবাই সরকারী সুযোগ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্কুলের সমমর্যাদার অন্তর্ভুক্ত। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা যেমন সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রীরাও তেমন। শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। ফলে মাদ্রাসা ও স্কুলের শিক্ষক নিয়োগের নিয়মও একই। এমনকী একটা সময় পর্যন্ত স্কুল সার্ভিস কমিশন থেকেই মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা ছিল।

মাদ্রাসার প্রশাসনিক কাঠামোও ছিল স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অধীন। এর ফলে দেখা গেছে স্কুলের ক্ষেত্রে যেমন একশো শতাংশ রোষ্টার ছিল মাদ্রাসাতেও। সেই রোষ্টার বলবত থাকার ফলে আরবি ও ইসলামী ধর্মশাস্ত্র বিষয়ের শিক্ষক পদ রোষ্টারের কবলে পড়ে দীর্ঘদিন ওই পদগুলো তফশিলি জাতি ও উপজাতির জন্যে সংরক্ষিত হয়ে পড়ে থাকত। ওই পদ গুলোতে নিয়োগ হচ্ছিল না। কারণ ওইসব ডিগ্রিগুলো তপশিলি জাতি উপজাতি কেন মুসলিম সম্প্রদায়ের ছেলে মেয়েরা ছাড়া আর কোন সম্প্রদায়ের মধ্যে পড়ে না। ফলে দীর্ঘদিন মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। তাই সংরক্ষণের ফাঁস থেকে রক্ষা করতে ২০০৭ সালে রাজ্য সরকার সরকারি নির্দেশনামা ১৪৬৫/এমডি এর বলে সরাসরি মাদ্রাসাগুলোকে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। যার ফলে, সংরক্ষণ প্রথা মাদ্রাসা থেকে বিলুপ্ত হয় এবং মাদ্রাসা নিয়োগের জন্য পৃথক মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন গঠিত হয়।

এই কমিশনের বদান্যতায় সাত বছর ধরে নিয়মিত নিয়োগের ফলে মাদ্রাসাগুলো শিক্ষকে পূষ্ট হচ্ছিল। ইতিমধ্যে কয়েকটি মাদ্রাসা সংবিধানের ৩০ ধারার সুযোগ নিয়ে নিজেদের ইচ্ছামত শিক্ষক শিক্ষাকর্মী নিয়োগ ক্ষমতা হাতে নিতে কোর্টের দ্বারস্থ হয়। হাইকোর্ট সার্ভিস কমিশনকে অবৈধ ঘোষণা করার ফলে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ ও বদলি বন্ধ থাকলো। এই বন্ধ থাকার কূফল আমরা পেয়েছি। যদিও অতি সম্প্রতি সুপ্রিমকোর্টের নজরদারিতে নিয়োগ হওয়ার ফলে কিছুটা হলেও শিক্ষকের আকাল ঘু়চেছে।অবশ্যই এর জন্য সম্পুর্ণ কৃতিত্বের দাবিদার বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম। তারা যে দাঁতে দাঁত চেপে অদম্য লড়াইটা চালিয়েছে তার জন্য কূর্নিশ জানানো উচিত।
খবরে প্রকাশ খুব শীঘ্রই আবার নিয়োগের তোড়জোড় নিতে চলেছিল কিন্তু বাদ সাধলো সেই কয়েকটি মাদ্রাসার কেস। গুটিকয় মাদ্রাসা ব্যতিত প্রায় সব মাদ্রাসা কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ চায় তা প্রমাণিত হওয়ার পরেও তারা কোন অধিকারে সব মাদ্রাসাতে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ চায় তা বোঝা যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে রাজ্য সরকার মাদ্রাসার সংখ্যালঘু চরিত্র আক্ষুন্ন রাখবে বলে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়েছে। সেই সাথে কমিশনের মাধ্যমেই নিয়োগ হোক সেই প্রার্থনা করেছে বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু কয়েকটি সংবাদে এমনই জানা যায় যে সরকার সংখ্যালঘু চরিত্র বজায় রাখতে চায় এবং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ চায়। যদি এটা সত্য হয়ে থাকে তাহলে সরকার ঠিক করেনি। সিংহভাগ মাদ্রাসা শিক্ষানুরাগীদের ইচ্ছা ও আবেগকে খুন করছে। কিন্তু যদি দ্বিতীয়টা ঠিক হয় তাহলে নিশ্চিত সরকার খুব ভালো কাজ করেছে। তার জন্যে লক্ষ লক্ষ মাদ্রাসা শিক্ষানুরাগীদের তরফ অসংখ্য ধন্যবাদ ও আশীর্বাদ পাওয়া উচিত।


শেয়ার করুন
  • 834
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

One Thought to “কমিটি নয়, সংখ্যালঘু চরিত্র অক্ষুন্ন রেখে কমিশনের মাধ্যমে মাদ্রাসায় নিয়োগ চাই : আবদুল মোমেন”

Leave a Comment