বিনোদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য 

কুসুমের ফেরা সাহিত্য পত্রিকার উদ্যোগে শান্তিনিকেতনের খোয়াইয়ের পাড়ে অনুষ্ঠিত হল সোনাঝুরি কবিতা উৎসব

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্মৃতি সামন্ত : ‘আমাদের শান্তিনিকেতন,সে যে সব হতে আপন।’এই কবিগুরুর বাক্যকে পাথেয় করে এগিয়ে চলা কুসুমের ফেরা সাহিত্য পত্রিকার উদ্যোগে খোয়াইয়ের পাড়ে অনুষ্ঠিত হল সোনাঝুরি কবিতা উৎসব।সোনাঝুরি শাল পিয়ালকে সাক্ষী রেখে সাঁওতাল কন্যাদের নাচের তালে তালে কোন বাঁধাধরা আনুষ্ঠানিকতা কে এক লহমায় দূরে সরিয়ে বেজে উঠল ধামসা মাদল।শুরু হল উৎসবের নান্দিমুখ, নান্দনিকতা।

পরে উৎসব গিয়ে পৌঁছাল রবীন্দ্র জীবনীকার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির উঠোন পাশে একটি বাণিজ্যিক হোটেলে।

উৎসবের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকলেন রবীন্দ্র স্নেহধন্য বিজনবিহারী ভট্টাচার্যের সুযোগ্য পুত্র রবীন্দ্র ও বঙ্কিম গবেষক বিশ্বভারতীর প্রাক্তন অধ্যাপক অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য। কথায় কথায় উঠে এলো গুরুদেবের সঙ্গে তাঁর বাবার নিকট আত্মীয়তার সুর।তাঁর বাবা বিজনবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রামতনু অধ্যাপক।যিনি ছিলেন কবিগুরুর আপ্ত সহায়ক।ফলে আত্মীয়তার সূত্র ধরে সোনাঝুরি উৎসব পেল রবীন্দ্র সুজন।আর সৃজনের হাত ধরে এগিয়ে গেল লাল পাহাড়ির দেশে যা রাঙা মাটির দেশে যা গানের গীতিকার কবি অরুণকুমার চক্রবর্তীর পৌরোহিত্যে।

কুসুমের ফেরা সাহিত্য পত্রিকার উদ্যোগে এবং ডায়মন্ড হারবার প্রেস ক্লাবের পরিচালনায় উৎসবকে হোটেল কক্ষে প্রাণবন্ত করে তুললেন উৎসব সম্পাদক সাকিল আহমেদ।

বৃক্ষপ্রেম, প্রকৃতিকে ভালবাসা মানে রবীন্দ্রনাথকে ভালোবাসা।

তাই প্রধান করা হল সোনাঝুরি কাব্যরত্ন সম্মান।

দেখতে দেখতে৩৭টি বসন্ত পার করা কুসুমের ফেরা সাহিত্য পত্রিকার নামাঙ্কিত কুসুমের ফেরা সাহিত্য পুরস্কার তুলে দেওয়া হল কবি সৈয়দ হাসমত জালালের হাতে।তুলে দিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যাপক অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য ও কবি অরুণকুমার চক্রবর্তী।ঘন ঘোর দুর্যোগ যখন শ্রাবণের সৃজনধারায় প্রবাহিত তখন এক ঝাঁক অধ্যক্ষ ও অধ্যাপক পেলেন গীতাঞ্জলি সৃজন সম্মান।একসময় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি অধ্যাপক হিসেবে বাংলা প্রমিত বানান নিয়ে গবেষণা ও অধ্যাপনা করতেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ।তাঁর গীতাঞ্জলির সৃজনধারা অব্যাহত রেখে পুরস্কার গ্রহণ করলেন অধ্যক্ষ ড, দেবপ্রসাদ সাহু, ড, পীযুষ কান্তি দন্ড পাঠ, অধ্যাপক ড, নির্মল বর্মণ, অধ্যাপক আশিস অধিকারী, অধ্যাপক গোবিন্দ প্রসাদ কর,সুদূর প্রবাস ইতালি থেকে আসা কবি বিপুল বিহারী হালদার।

সোনাঝুরি কাব্যরত্ন সম্মান পেলেন কবি চিত্র শিল্পী বিষ্ণু সামন্ত, সাংবাদিক ও কবি সুনীল চন্দ, অধ্যাপক অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য।

উৎসব মঞ্চে উদ্বোধন হল কবি পরেশ সরকার ও অধ্যাপক যুথিকা পান্ডের পরপর চারটি কাব্য ও গদ্য গ্রন্থ।

সুরের খেয়ায় ভাসালেন বিজ্ঞান আন্দোলনের নেত্রী বিশিষ্ট প্রধান শিক্ষিকা সরস্বতী পোদ্দার।

বাউলরানী শাশ্বতী চট্টোপাধ্যায়ের একতারার সুরে বেজে উঠলো আনন্দ সংগীত।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ