কলকাতা 

মনুবাদীরা সুকৌশলে রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে দলিত-মুসলিমদের বঞ্চিত করে চলেছে : ড. নজরুল ইসলাম

শেয়ার করুন
  • 29
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিনিধি : খুব সুকৌশলে মাথা খাটিয়ে দেশের সিংহভাগ মানুষকে ব্রাম্ভ্রণ্যবাদীরা রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করে চলেছে বলে প্রাক্তন আইপিএস ড. নজরুল ইসলাম দাবি করেন। তিনি তথ্য দিয়ে বলেন, দেশের ১৫ শতাংশ মানুষকে ব্রাম্ভ্রণ্যবাদী বলা হয় । এই ১৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে ব্রাম্ভ্রন-ক্ষত্রিয়-বৈশ্য। আর বাকীরা সবাই শূদ্র । এই শূদ্রদের একটা বড় অংশ ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান খ্রিষ্টান হয়েছেন । সুতরাং এদেশের মুসলমানরা আসলে দলিত সম্প্রদায় থেকে উঠে এসেছে। রবিবার বারবেলায় মৌলালী যুব কেন্দ্রে দলিত-মুসলিমদের রাজনৈতিক কনভেনশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন দুঁদে পুলিশ কর্তা ড. নজরুল ইসলাম এই কথাগুলি বলেন।

মূল নিবাসী পার্টি অফ ইন্ডিয়ার সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলার ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পায় এখানে মাত্র ২ শতাংশ ব্রাম্ভ্রণ, বাকীরা সবাই শূদ্র । তবে এদের মধ্যে কায়স্থ্য আর বৈদ্যকে এখানে ব্রাম্ভ্রন্যবাদীদের সঙ্গে ধরা হয় । সেই হিসেবে আমাদের রাজ্যে প্রায় ৯৪ শতাংশ মানুষ মূল-নিবাসী । কিন্ত একটু তলিয়ে ভাবলে দেখা যাবে এই ৯৪ শতাংশ মানুষই সব দিক থেকে বঞ্চিত। বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ড. নজরুল ইসলাম বলেন, তাই আমাদের প্রচারের সময় জোস এবং হোস দুটিকেই কাজে লাগাতে হবে । তথ্য-পরিসংখ্যান দিয়ে দেখাতে হবে এই রাজ্যের সিংহভাগ জনগোষ্ঠী কোন অবস্থায় আছে।

তিনি বলেন, রাজ্যে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২৭ শতাংশ, কিন্ত মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন বলে দাবি করা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তাঁর মন্ত্রীসভায় ক‘জন মুসলিম মন্ত্রী আছেন। সংখ্যানুপাতে পাওয়ার কথা ১২/১৩ টি মুসলিম মন্ত্রী । কিন্ত আছেন ক‘জন ? এদের মধ্যে ক‘জনকে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দেওয়া হয়েছে । একইভাবে সংরক্ষণের আওতায় এসসি / এসটি বিধায়কদের সংখ্যা ২৮ শতাংশ থাকা সত্ত্বেও ক‘জন মন্ত্রী হতে পেরেছেন ? আসলে মুনবাদীরা খুব কৌশল করে মূল নিবাসীদের রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে । আমরা লড়াই করছি কিন্ত গদিতে বসছে ওরা। শুধু এখানেই নয়, আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ২০১২ সালে উচ্চশিক্ষায় সংরক্ষণ চালু করা হবে ওবিসি এ দের জন্য । তা কী চালু হয়েছে ? কেন হয়নি ?এই সব প্রশ্ন নিয়ে আমরা মানুষের কাছে যেতে পারলে তাহলে এরাজ্যে তৃণমূলের নির্দিষ্ট ভোট ব্যাঙ্কে আঘাত করা সম্ভব হবে বলে নজরুল ইসলাম দাবি করেন। সংখ্যালঘু ও দলিত ভোটের বেশ কিছুটা আমাদের দিকে আনতে পারলেই আমাদের জয় সুনিশ্চিত হবে ।


শেয়ার করুন
  • 29
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment