জেলা 

কেন সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন ছেড়ে বেরিয়ে এলাম, আমার কৈফিয়ত : আবদুল মোমেন

শেয়ার করুন
  • 189
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধি : আবদুল মোমেন সংখ্যালঘু সমাজের অন্যতম মুখ বলা যেতে পারে । তিনি ছাত্র জীবন থেকে সংখ্যালঘু সমাজের নানা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত আছেন । প্রথমে মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়ন , পরে সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সামাজিক আন্দোলন সঙ্গে যুক্ত হন। ঘটনাচক্রে তিনি সম্প্রতি সারা বাংলা যুব ফেডারেশন থেকে পদত্যাগ করেছেন বা নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন । কেন তিনি হঠাৎ করে সামাজিক আন্দোলনের একটা সংগঠন থেকে সরে গেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে  সংশ্লিষ্ট মহলের মধ্যে । আমরা তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে ছিলাম তিনি যা বলেছেন তা তুলে ধরা হল ।

আমি মাদ্রাসা তথা সংখ্যালঘু আন্দোলনের সাথে যুক্ত আছি ১৯৮৮ সাল থেকে। যদিও তখন আমি যথেষ্ট ছোট ছিলাম। তবুও একদম নিচুস্তরে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে আন্দোলনে হাতে খড়ি। এরপর ১৯৯২ সালে আলিয়া মাদ্রাসা এসে সরাসরি রাজ্য নেতৃত্বের সাথে যুক্ত হই। ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ইউনিয়নের রাজ্য নেতৃত্বের শূন্যতার কারণে কমিটিই ছিল না, ফলে কোন আন্দোলন হয়নি। তখন আমি প্রয়াত আমার বন্ধু শহিদুল্লাহ ফজলুর রহমান মণ্ডল ও কামরুজ্জামান উদ্যোগ নিয়ে ৯৬ সালের ২৩ নভেম্বর ফুটনানি চেম্বারে এক সভার আয়োজন করা হয় । সেখান থেকেই আবার নতুন করে পথ চলা শুরু হয়।  ওই সংক্রান্ত কিছু ক্রিয়াকলাপে তৎকালীন ছাত্র নেতৃত্ব ওর বিরুদ্ধে চরম ক্ষুব্ধ হয় এমনকি ওকে বিশ্বাস ঘাতক বলে আখ্যা দেয়। আমি নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ করে কিছুটা প্রসোমিত করতে সক্ষম হই। পরবর্তীতে কামরুজ্জামান আলোচনা করল যে, ছাত্র অবস্থায় যে লড়াই সংগ্রাম করেছি এখন তো আর ছাত্র নেই তাই আমাদের সেই সংগ্রামী চরিত্রের প্রতিফলনের জন্যে তো একটা প্লাটফর্ম থাকা দরকার। তাই একটা সংগঠন করবো ভাবছি তোর কি মতামত? আমি মত দিলাম আরও কেউ কেউ মত দিল। সম্ভবত ২০০৫ সালের দিকে সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন নামটা গ্রহন করা হয় এবং অঘোষিত ভাবে একটা কমিটি গড়া হয়। আমি ছিলাম তার সহ সম্পাদক। তারপরে আমার কর্মসূত্রে জড়িয়ে পড়া ও কিছু বিতৃষ্ণার কারণে আর সংগঠন বা কামরুজ্জামানের সাথে সম্পর্ক রাখি। ওই সময় শহিদুল্লাহ আমার কাছে অনেক অভিযোগ ও ক্ষোভ জানাতো।
এরপর ২০১১ সালের জুলাই মাসের দিক থেকে ওর অনুরোধে পুনরায় সংগঠনে যোগ দিলাম। জামান বললো দক্ষিণ ২৪ পরগণাতে সংগঠনের কিছুই করতে পারছিনা একটু জেলায় সংগঠন করার ব্যবস্থা কর। আমি উদ্যোগ নিয়ে বেশ কয়েকটা ব্লকে সংগঠন করলাম। যতগুলো ব্লকে সংগঠন করছিলাম এখনো পর্যন্ত সেই কটাই আছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আমার পরপরই সংগঠনে এসেছিল ইফতেকার হোসেন ও মীর্জা আজিবুর রহমান। খুব অল্প দিনের মধ্যে আজিবুর সংগঠন ছেড়ে দিল। কেন ছাড়লো জানতে পারিনি। কামরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে যা পেরেছিলাম তাতে বুঝেছিলাম আজিবুর সংগঠন করতে চায় না। ঠিক তেমনই দীর্ঘদিন থেকে ছিল হাফেজ আজিজুদ্দিন সেও সংগঠনে আর সময় দিচ্ছে না। জামানের কাছে জানতে চাইলে যে উত্তর পেলাম তাতে বুঝলাম আজিজ আর সংগঠন করতে পারছে না।

তারপর আজিজের সাথে দেখা হলে জানতে চাইলাম কি হল তুমি সংগঠন ছেড়ে দিলে? আজিজ বলেছিল আমি ছাড়িনি আমাকে বাদ দিয়েছেন আপনারা। আমি অবশ্যই এই বিষয়ে আর কোন কথাও বলিনি বা জাচাইও করতে যাইনি। এরপর ২০১৪ সালে রাজ্য সম্মেলনের পূর্বে সেখ গোলাম মঈন উদ্দিন সংগঠনে যোগ দেয়। রাজ্য সম্মেলনে ইফতেকার হোসেন কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাচিত হন। সহ সভাপতি হয় গোলাম মঈন উদ্দিন। বছর খানেকের মধ্যেই ইফতেকার ভাই গুটিকয় যেতে থাকে। ওপর ওপর বুঝতে পারছি ইফতেকার ভাই দায়িত্বজ্ঞান হীন কাজ করছেন। কোর কমিটির মিটিং এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। মিমাংশার সূত্র বার হয় না। পরে ফ্রন্টপেজের এক মিটিং এ আমার ও বাবর হোসেনের ওপর দায়িত্ব পড়লো ইফতেকার ভাইকে সক্রিয় করার। সেই মর্মে আমরা কথা বলতে থাকি। প্রচণ্ড ক্ষোভ ওগরাতে থাকেন। কোনমতে ফিরিয়ে আনা গেলনা। আমি জামানের কাছে ইফতেকার ভাই প্রতিটা ক্ষোভের কথা খুলে খুলে বললাম। এবং সমস্ত ক্ষোভ জামানের বিরুদ্ধে। ওই সময় একটা মারাত্মক অভিযোগ করেছিলেন। সেটা হল যে, সংগঠন রেজিস্ট্রেশন হওয়ার কথা ছিলো ১১ জনের নামে কিন্তু মাত্র তিন জনের নামে কেন হল তার কোন সিদ্ধান্ত হয়েছে? এবং কোন তিন জনের নামে হল তা আমাদের জানো হলনা কেন? এটা নিয়ে লুকোচুরি খেলা হচ্ছে কেন?এই অভিযোগের কথা আমি কোনো দিন প্রকাশ করিনি।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে ইফতেকার ভাই এর উদাহরণ দিয়ে সংগঠনের পরিকাঠামোর দিকে নজর দেওয়ার কথা বলতে থাকি। এই বিষয়ে বিভিন্ন রকম কথা শুনতে থাকি। এবং ভিন্ন পরিকল্পনা দেখতে পাই। বিগত চার বছর কোনো কোর কমিটির মিটিং নেই। সংগঠনের কোন কর্মসূচি একক সিদ্ধান্তে হচ্ছে। সমস্ত কর্মসূচির যাবতীয় রূপরেখা একক সিদ্ধান্ত। কাকে সংগঠনে নেওয়া হবে কোথায় নেওয়া সবাই একক সিদ্ধান্ত। এইসব যেন আর মানা যাচ্ছিল না। তাই চলতি বছরের শুরু থেকে সংগঠন ছাড়ার পরিকল্পনা করি। ইচ্ছাকৃত বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতাম না। বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে ইঙ্গিতে সংগঠনের প্রতি যে আমি বিরক্ত তার প্রকাশ করতে থাকি। দেখলাম জামান আমাকে ব্লক করেছে।

এমন ধরনের চাপা ক্ষোভ দীর্ঘ চার মাস ধরে প্রকাশ করতে থাকি। অবশেষে শেষ দু মাস অনেকটাই খোলামেলা ভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকলাম। ইতিমধ্যে সংগঠনের দীর্ঘদিনের কোষাধ্যক্ষ এবং  কার্যকরী সভাপতি খলিল মল্লিক আমাকে ফোন করে ভাই আপনার এমন উল্টাপাল্টা পোষ্ট দেখছি কেন? আমি এড়িয়ে যেতে চাইলে চেপে ধরতে হালকা হালকা কিছু প্রকাশ করি। তখন মল্লিক আমার কাছে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেয়। তখন আমি এত ক্ষোভ যখন তো তা আমার কাছে কেন? যেখানে করলে হয় করুন। অসহায়ের মত বললেন কোনো মিটিং তো করেনা বলবো টা কোথায়? বললাম খুঁজলে জায়গা পাবেন। তর কয়েকদিন পরেই অপমানিত বোধ করে মল্লিক একটা পোষ্ট করে। তাতে বলে সংগঠন কি জামানের একা? তাহলে রাজ্য কমিটি ভেঙে দিক। একাই চালাক।

আমি সেই পোষ্টটাকে ফেসবুকে শেয়ার করি। তখন নড়েচড়ে বসে। কোর কমিটির মিটিংও ডাকে। তবে সেই মিটিং ডাকার আগে কোর কমিটির সদস্যদের জানানোর পূর্বে সাধারণ সদস্যদের জানানো হয়েছে। অর্থাৎ কোর কমিটির সদস্যদের ওপর পরোক্ষে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সংগঠনের সমস্ত গ্রূপ থেকে আমাকে বার করা হয়। এই অবস্থায় আমি গত ৬ আগষ্ট ফেসবুকে ঘোষণা করি যে আমি যে সংগঠনে ছিলাম সেই সংগঠনের সাথে সাংগঠনিক সম্পর্ক ছেদ করছি। আমি এটাও বলেছিলাম ওই সংগঠনের সাফল্য কামনা করি। সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করলেও সবার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক অটুট থাকবে। এরপরেও একদম নিচুস্তরের কর্মীদের থেকে আমার প্রতি অতি নিম্নমানের আক্রমণ করা হয়েছে। আর করবেই না বা কেন? ঘোষণার পরেই একমাত্র নেতা তার পোষ্টে বলেছিল প্রকাণ্ড বৃক্ষ থেকে অনেক পাতা ঝরে যাবে আবার অনেক নতুন  পাতা গজাবে।

এরপর এক ব্লকস্তরের সাধারণ কর্মী আমার পূরাতন একটা তীর্যক পোষ্ট এর স্ক্রিনশর্ট দিয়ে আমাকে একটা সাম্প্রদায়িক দলের দালাল বলে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে ফেসবুকে পোষ্ট করে। সেই পোষ্টটা মহামান্য নেতা শেয়ার করে। এখানে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য  যে সদস্য ওই পোষ্টটা করে সে আমার ফেসবুকের বন্ধু ছিল না। কিন্তু সে কেমন করে জানলো? আর যে ভাষা ব্যবহার করেছে সে ওই ভাষা লিখতে বা প্রয়োগও করতে পারে না। সুতরাং বুঝতেই হবে কোথা থেকে কি হচ্ছে। পরিশেষে আমি অতি বিরক্ত হয়ে বলতে বাধ্য হলাম লড়াইটা ষাঁড়ে বাছুরে না হয়ে ষাঁড়ে ষাঁড়ে হওয়া উচিত। সুতরাং বাছুররা ময়দান ছেড়ো ষাঁড়কে নামাও। তোমরা ষাঁড়ে ষাঁড়ের লড়াই দেখো।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য  যে সকল মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের নেতা যারাই জামানের সাথে এবং ওর ইউনিয়নের নেতৃত্বে ছিলো তাদের একজনও জামানের সাথে নেই এবং থাকতেও চায় না  । একমাত্র আমিই এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন সাথে ছিলাম। আমিই সবার শেষে সঙ্গ ছেড়েছি। জানিনা এই সমস্যাটা আমরা সঙ্গে থাকিনি তাদের না ওর ।


শেয়ার করুন
  • 189
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment