কলকাতা 

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হিংসার বিরুদ্ধে, সম্প্রীতির পক্ষে আওয়াজ ও পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা তৈরির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান আহব্বান প্রগতিশীল নাগরিক মঞ্চের

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : বাংলাদেশের কুমিল্লায় একটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে যেভাবে পবিত্র কোরানের অবমাননা করা এবং তাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে হামলা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর শাস্তির দাবি করছি। ওই ঘটনাটা কে বা কারা ঘটাল সেই সত্যটা এখনও উন্মোচিত হল না এটা দুর্ভাগ্যজনক।

বাংলাদশে ইসলামের নামে দুষ্কৃতীরা যেভাবে এই ঘটনার প্রতিবাদ করার নামে জেলায় জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের পুজো মণ্ডপ আক্রমণ করেছে এবং দাঙ্গার পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে, সেটা আরও বড় অন্যায়।

প্রতিবেশী বাংলাদেশের এই সাম্প্রদায়িক হিংসা রোধে হাসিনা সরকারের পুলিশ-প্রশাসন কিছুটা দেরিতে হলেও পদক্ষেপ নিয়েছে। উৎসবের সময় এইরকম দুর্ঘটনা না ঘটতে দেওয়ার ক্ষেত্রে ওই দেশের সরকার আরও তৎপরতা দেখানো বাঞ্চনীয় ছিল। সাম্প্রদায়িক হিংসা ঠেকানো এবং দাঙ্গায় লিপ্ত সমস্ত দোষীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে হাসিনা সরকারের পাশে দাঁড়াবেন এবং ধর্মের আশ্রয়ে লুকিয়ে থাকা দুষ্কৃতীদের জনবিচ্ছিন্ন করবেন, এটাই প্রত্যাশা।

বাংলাদেশের এই দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অপচেষ্টা চলছে। কেউ বাংলাদেশে কোরানের অবমাননার প্রতিশোধ নিতে আমাদের রাজ্যে হিংসার উস্কানি দিচ্ছে, কেউ কেউ আবার এই সুযোগে এখানকার সংখ্যালঘু মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সংখ্যালঘুদের উৎসবের প্রেক্ষিতে সাম্প্রদায়িক হিংসার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বলেছেন “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”। তাকে ব্যঙ্গ করে পশ্চিমবঙ্গের এক মহান নেতা “বিয়ে যার যার, বৌ সবার”, এই জাতীয় নোংরা, এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য করে পরিবেশ উত্তপ্ত করতে চাইছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়াচ্ছে নানান অপপ্রচার । এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়িয়ে বা ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে হিংসা সংগঠিত করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। বিভিন্ন দেশে সোশ্যাল মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং ঘৃণাজনিত অপরাধের (Hate Crime) বিরুদ্ধে নতুন আইন করা হচ্ছে। কিন্তু ভারতের সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদী, সংখ্যালঘু-বিরোধী মোদী সরকার যাদের প্রাণভোমরাই হচ্ছে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা, বিদ্বেষ এবং হিংসা ছড়ানো। সুতরাং তারা এই ধরণের আইন কোনদিনই আনবে না। ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার্থে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সাম্প্রদায়িক হিংসা এবং ঘৃণাজনিত অপরাধ রোধে এই ধরণের আইন প্রণয়ন করা উচিৎ ছিল।

২০১৬, ২০১৭, ২০১৮-তে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর ভাসান, মহররম, রামনবমী, নবী দিবস ইত্যাদি ধর্মীয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে একের পর এক জায়গায় সুপরিকল্পিত ভাবে দাঙ্গা লাগানো হয়েছে। চন্দননগর, হাজিনগর, ধূলাগড়, আসানসোল প্রভৃতি — ঘটনাগুলি অনেকেরই মনে আছে। এই দাঙ্গাগুলিতে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে পারলে আজ বাংলাদেশ নিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার সাহস কেউ পেত না। ভারতের দণ্ডবিধিতে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা বা হিংসা ছড়ানোর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট বেশ কয়েকটি ধারা আছে। কিন্তু অন্যান্য রাজ্যের মতনই পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ-প্রশাসন রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ইত্যাদি বিষয়গুলিকে উপেক্ষা করে চলেছে। তাই হিংসা-দাঙ্গা ঘটলেও সুবিচার হয় না।

ধর্মনিরপেক্ষ সরকার কখনো পুজার্চনা বা মন্দির মসজিদের সহায়তায় সরকারি কোষাগার থেকে অনুধাবন দেওয়া উচিত নয়। তবুও দেখা যায় কখনো হনুমান জয়ন্তীর মিছিল করায় অংশগ্রহণ, ঈদের নামাজে যোগদান ইত্যাদি এসব কোনটাই ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষা করেনা। বরং এসব ধর্মের নামেই সুড়সুড়ি দেওয়ার নামান্তর। এইসব বন্ধ করে পশ্চিমবঙ্গে যাতে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা-হিংসার রাজনীতিকে প্রতিহত করা যায়, সরকার-পুলিশ-প্রশাসনের অবিলম্বে সেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।

বর্তমান সঙ্গীন পরিস্থিতিতে দুই বাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে, সমস্ত রঙের সাম্প্রদায়িক এবং মৌলবাদী শক্তিদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে। এদের জনবিচ্ছিন্ন করতে হবে। বিপদের দিনে, এক বাংলার মানুষ অন্য বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়াবেন, এটাইতো আমাদের ঐতিহ্য। সংগঠনের পক্ষে।

আনিসুর রহমান

আবদুল মোমেন

যূগ্ম আহ্বায়ক

প্রগতিশীল নাগরিক মঞ্চ

৯৮৩০৫৬১১৪০

কলকাতা, ১৭.১০.২১


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ