কলকাতা 

পোস্তার উড়ালপুলের মতই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মাঝেরহাট ব্রীজ, নবান্নের সূত্রে খবর ৫ জন মৃত আহত ১৯, রাজ্য সরকারের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

শেয়ার করুন
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা আবার দেখল উন্নয়নের স্বরুপ । পোস্তায় উড়াল পুল ভেঙে পড়ার সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বাম আমলের গাফিলতিতে নাকি পোস্তায় দুর্ঘটনায় হয়েছিল। রাজনীতি ভাষাতে তিনি কথা বলেছিলেন। আজ মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ার কী বলবেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ? সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি করে উঠতে শুরু করেছে । পোস্তায় উড়াল ভেঙে পড়ার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন প্রতিটি ব্রিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে । মুখ্যমন্ত্রী সেই নির্দেশ কী ঠিকভাবে কার্যকর হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন তদন্ত হবে , সেই তদন্তের পর কী হবে সেই ব্যাখ্যা শোনা যায়নি মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। আসলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্তরিকতা নিয়ে আমাদের মনে কোন প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন উঠছে তাঁর মন্ত্রীসভার সদস্যদের কাজ নিয়ে ।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে দক্ষিণ শহরতলির এই গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত সেতুটি। সেই সময় সেতুর উপর অনেক যানবাহন ছিল। বেশ কয়েক জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনার পরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনাস্থলে দেখা যায়, বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বেশি কিছু রক্তাক্ত দেহ এবং ভাঙাচোরা গাড়ি। ঘটনার কিছু ক্ষণের মধ্যেই উদ্ধারকাজে নামে দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও সেনাবাহিনী।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সেনাবাহিনীও। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে আসে। অসমর্থিত সূত্রে খবর, ব্রিজ ভেঙে ১৫ জন চাপা পড়েছে। অনেকেই গুরুতর জখম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হঠাৎ প্রবল আওয়াজে সেতুর মাঝের অংশ ভেঙে পড়ে। সেতুর উপরে যানবাহনগুলি ছিটকে পড়ে। বাস এবং বিভিন্ন গাড়ি-বাইকের আরোহীরা গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার সময় কিছু শ্রমিক ওই ব্রিজে কাজ করছিলেন। এবং ব্রিজের নীচে মেরামত সংস্থার কর্মীদের অস্থায়ী থাকার জায়গা ছিল বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। সেখানেও কেউ চাপা পড়ে রয়েছেন কি না স্পষ্ট নয়।

ঘটনার কিছু ক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। ঘটনাস্থলে যান পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশের ডিজি। খিদিরপুর ও বেহালার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম দাবি করেছেন, এটা ৪০ বছরের পুরনো সেতু। এখনও পর্যন্ত তাঁর কাছে মৃত্যুর কোনও খবর নেই। যাঁরা আটকে ছিলেন, তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে।ব্রিজের নীচেও কেউ চাপা পড়ে রয়েছেন কি না তা স্পষ্ট নয়।

এই ব্রিজের নীচ দিয়ে গিয়েছে রেললাইন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরেই ছিল একটি লোকাল ট্রেন। সেতুর যে অংশ ভেঙে পড়েছে, ট্রেনটি তার নীচে থাকলে আরও বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার বজবজ-মাঝেরহাট লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ। আড়াই বছর আগেই পোস্তায় ভেঙে পড়েছিল সেতু। সেই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ২৭ জনের। আহত হয়েছিলেন অন্তত ৮০ জন।


শেয়ার করুন
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment