কলকাতা 

ডিএ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অধিকার কিনা মামলায় কাল রায় দেবে হাইকোর্ট, আশায় সরকারি কর্মচারীরা, কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ-র পার্থক্য দাড়াল ৪৭%

শেয়ার করুন
  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিবেদক : শুক্রবার ৩১ আগষ্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির ফয়সালা হতে চলেছে । ডিএ সরকারি কর্মচারীদের অধিকার না, রাজ্য সরকারের দয়ার দান তা নিয়ে ২০১৭ সালে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালে মামলা হয় । সেই মামলায় স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল জানিয়েছিল ডিএ সরকারি কর্মীদের অধিকার নয়। ২০১৭ সালে  স্যাটের নির্দেশকে চ্যালেঞ্চ করে হাইকোর্টে মামলা করে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দুটি সংগঠন। গত মাসে হাইকোর্টে ডিএ মামলার শুনানি শেষ হয়েছে।

এই মামলায় ৩৪টি শুনানী হয় । সরকারি কর্মচারীদের পক্ষে প্রথমে আইনজীবী ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ সরদার আমজাদ আলি, কিছুদিন পর আবার সরকারি কর্মচারীদে আরেকটি সংগঠনের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। এই দুই প্রখ্যাত আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রে ও তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে শুনানিতে অংশ নেন একাধিকবার। নিশীথা মাত্রে অবসর নেওয়ার পর মামলাটি দেবাশিস করগুপ্ত এবং ববি শরাফের বেঞ্চে যায়। এই বেঞ্চেও একাধিকবার শুনানি হয়। সব মিলিয়ে এই মামলায় ৩৪ বার শুনানি হয়েছে।

প্রথম থেকেই আইনজীবী সরদার আমজাদ আলী ডিএ রাজ্য সরকারী কর্মীদের অধিকার বলে দাবি করে এসেছেন । তার সপক্ষে নানা যুক্তি আইনি ব্যাখ্যাসহ রোপা রুলের কথা তুলে ধরে জনাব আলী কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিসন বেঞ্চে ডিএ সরকারী কর্মীদের অধিকার বলে সওয়াল করেছেন। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে দাবি করেছেন, ডিএ সরকারী কর্মীদের অধিকার নয়, এটা রাজ্য সরকারের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। তবে আদালতের প্রথম থেকে পর্যবেক্ষন ও বিচারপতিদের মন্তব্য দেখে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা আশ্বস্ত হচ্ছেন যে তারা হয়তো এবার আদালতের নির্দেশেই ডিএ তাদের অধিকার হিসেবে ঘোষিত হবে । তবে সব কিছু নির্ভর করছে কাল শুক্রবার বেলা ১টায় বিচারপতি দেবাশিষ করগুপ্ত এবং বিচারপতি ববি শরাফের ডিভিসন বেঞ্চ কী রায় দেয় সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের কর্মীরা।

অন্যদিকে , আবার রাজ্য সরকারী কর্মচারীদের সঙ্গে ডিএ পার্থক্য বেড়ে দাঁড়াল ৪৭ শতাংশ । গতকালই কেন্দ্র সরকার তার কর্মীদের আর একপ্রস্থ ২ শতাংশ ডিএ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে । আর কার্যকর হবে গত জুলাই মাস থেকে । এই মুহুর্তে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ১৪৭ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন। আর রাজ্যের কর্মীরা পাচ্ছেন ১০০ শতাংশ হারে। কেন্দ্রীয় কর্মীদের সঙ্গে রাজ্যের কর্মীদের ডিএ-র ব্যবধান ৪৭ শতাংশ। রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে রাজ্যের কর্মীরা ১২৫ শতাংশ হারে মহার্ঘভাতা পাবেন। তাহলে জানুয়ারি মাসেও কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের কর্মচারীদের ভাতার তফাৎ থেকে যাবে ২২ শতাংশ ।

আবার জানুয়ারিতে যদি কেন্দ্র আরেক প্রস্থ ডিএ ঘোষণা করে তাহলে পার্থক্য অনেকটাই থেকে যাবে। রাজ্য সরকারি কর্মীদের দাবি কেন্দ্রের সঙ্গে বেতনের অনেকটাই ফারাক রয়েছে রাজ্যে কর্মীদের। একই দেশে বাস করে, একই সংবিধান দ্বারা পরিচালিত সরকার তার কর্মীদের প্রতি কেন বৈষম্য করছে, সেটাই রাজ্য সরকারের কর্মীদের প্রশ্ন। তবে সব কিছু প্রশ্নের সমাধান মিলতে পারে শুক্রবারে হাইকোর্টের ডিভিসন বেঞ্চের ঐতিহাসিক রায়ে । সরকারি কর্মচারীদের আইনজীবী প্রাক্তন সাংসদ সরদার আমজাদ আলীকে কলকাতা হাইকোর্ট আগামী কাল কী রায় দিতে পারে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিচারপতি কী রায় কাল দেবেন তা বলা এখনই সম্ভব নয়।

 

 

 

 

 


শেয়ার করুন
  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment