দেশ 

‘ভিন্ন মতামত গণতন্ত্রের সেফটি ভালভ হিসাবে কাজ করে। যদি এই সেফটি ভালভ না লাগানো হয় তাহলে প্রেসার কুকারে বিস্ফোরণ হবে ‘-মন্তব্য দেশের শীর্ষ আদালতের, গ্রেফতার হওয়া পাঁচ সমাজকর্মীকে জেল কিংবা হাজতে নয়, গৃহবন্দী রাখার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

শেয়ার করুন
  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিবেদক : পুনার কোরেগাঁও ভীমার অশান্তিতে মদদ দেওয়ার অভিযোগে  গ্রেফতার পাঁচজন সমাজকর্মীকে গৃহবন্দি করে রাখতে হবে। তাঁদের  কোনভাবে এখনই জেলে বা পুলিশ হেফাজতে রাখা যাবে না। ঐতিহাসিক রোমিলা থাপার-সহ কয়েক জন এই মামলায় দেশের সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের শুনানিতে বুধবার এই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত এদিন বলেছে এই মামলার  পরবর্তী শুনানি ৬ সেপ্টেম্বর হবে ততদিন পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ওই পাঁচ বিশষ্ট নাগরিকদের  গৃহবন্দি থাকবে। উল্লেখ্য,মহারাষ্ট্রের কোরেগাঁও ভীমায় ১ জানুয়ারি দলিতদের সভায় ব্য়াপক গণ্ডগোল হয়। সেই হিংসার তদন্তে নেমে পুনে পুলিশ।

তাঁরা দাবি করে এই হিংসার সঙ্গে ভারভারারা রাও-রা জড়িত। পুলিশ মাওবাদীদের লেখা একটি চিঠিও পায় বলে দাবি করে। এই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী হত্যার ছক ছিল বলেও পুলিশ দাবি করেছিল। মাওবাদীদের এই চিঠি-তে ভারভারারা রাও-সহ বেশ কয়েক জন অ্যাক্টিভিস্টের নাম ছিল বলেও দাবি করে পুলিশ এরপরই মঙ্গলবার বিকেল রাত পর্যন্ত হায়দরাবাদ, ফরিদাবাদ, মুম্বই, দিল্লি ও রাঁচি-র একাধিক স্থানে তল্লাশি চালায় পুলিশ ও গ্রেফতার করা হয় ৫ অ্যাক্টিভিস্টকে। স্বাভাবিকভাবেই ভারভারারাও রাও, সুধা ভরদ্বাজ, অরুণ ফেরেরা, ভার্নন গঞ্জালভেস ও গৌতম নওলাখা-র গ্রেফতারি এবং সমাজকর্মী স্ট্যানি স্বামীর রাঁচির বাড়িতে তল্লাশি-র ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

কলকাতা-সহ দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদে প্রতিবাদ আছড়ে পড়ে। এই গ্রেফতারির বিরোধিতা করে ঐতিহাসিক রোমিলা থাপার-সহ কয়েক জন সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেছিলেন। তারই শুনানি হয় এদিন। ঐতিহাসিক রোমিলা থাপার অভিযোগ করেন, ‘সুধা ভরদ্বাজ, মাওবাদ আদর্শে বিশ্বাসী ভারভারারা রাও, অরুণ ফেরেরা, গৌতম নওভলাখা, ভার্নন গঞ্জালভেস-এর গ্রেফতারি প্রমাণ করে ভিন্ন মত প্রকাশের অধিকারকে গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ কোরেগাঁও ভীমা-র যে হিংসার ঘটনায় এঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাতে নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি তোলেন রোমিলা থাপার।

প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র  এদিন কড়া ভাষায়  জানিয়ে দেন যে তিনজন সমাজকর্মীকে ইতিমধ্যেই পুনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁদেরকে বাড়িতে ফেরাতে হবে। এদিন এই মামলাটি প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র-সহ পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে ওঠে। এই মামলার নির্দেশ পড়ে শোনাতে গিয়ে বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় জানান, ‘ভিন্ন মতামত গণতন্ত্রের সেফটি ভালভ হিসাবে কাজ করে। যদি এই সেফটি ভালভ না লাগানো হয় তাহলে প্রেসার কুকারে বিস্ফোরণ হবে।’

ওই পাঁচ মানবাধিকারকর্মী গ্রেফতার হওয়ার পর এক বিবৃতি জারি করে রোমিলা থাপার দাবি বলেন, ‘যারা মানবাধিকার নিয়ে লড়াই করছেন তাদের গ্রেফতার না করে বরং যারা দেশজুড়ে অশান্তি ছড়াচ্ছে, যুক্তিবাদীদের হত্যা করে সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করছে, গণপিটুনিতে হত্যা করছে তাদের গ্রেফতার করাটা জরুরি। কীভাবে ভারতীয় নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে পা দিয়ে মাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে তা কি এই গ্রেফতারি প্রমাণ করছে না? ‘

পুনে পুলিশের আবারও দাবি করেছে, গ্রেফতার হওয়া অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে মাওবাদীদের যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে শুধু নয় এরা রাজনৈতিক সিস্টেমে একটা অস্থিরতা তৈরি করার ষড়যন্ত্র কষেছিলেন। এরা সকলেই একটা বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত।


শেয়ার করুন
  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment