কলকাতা 

শাহজাহানের ইজ্জত আছে, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর ইজ্জত নেই, ইজ্জত বিক্রি করে তৃণমূল কংগ্রেসে আমি আসিনি, মন্ত্রী হতে চাইনি, বিস্ফোরক মন্তব্য সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : কয়েক বছর আগে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী তাতে খানিকটা কাজের কাজ হয়েছিল শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হস্তক্ষেপ করে সমস্যার সমাধান করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়বার রাজ্যের মন্ত্রী হওয়ার পর সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর প্রতি তৃণমূল নেতৃত্তের  মধ্যে যেন খানিকটা অবজ্ঞার সুর।

তা না হলে বসিরহাটের সরবেড়িয়া এলাকায় ইয়াস দুর্গতদের ত্রাণ দিতে গিয়ে রাজ্যের গ্রন্থকার মন্ত্রী যেভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন তা নিয়ে পুলিশ প্রশাসন নীরব রয়েছেন। এই বিষয়টি নিয়ে সমগ্র রাজ্যজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে। তাহলে কি এবার সিদ্দিকুল্লাকে তৃণমূল দল ছেঁটে ফেলতে চাইছে?

এই প্রেক্ষাপটেই দাঁড়িয়ে গতকাল বুধবার গভীর রাতে রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী ও জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী মুখ খুলেছেন। তিনি বিচার চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। বিচার চেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, শাহজাহানের ইজ্জত রয়েছে, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ইজ্জত নেই, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ইজ্জত বিক্রি করে তৃণমূল কংগ্রেস করতে আসেনি, মন্ত্রী হতে আসেনি। সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর এই প্রতিক্রিয়ার পর মনে করা হচ্ছে তিনি কি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে চলেছেন?

কয়েকদিন আগে বসিরহাটের সরবেড়িয়াতে ইয়াস দুর্গতদের ত্রাণ দিতে গিয়ে জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে নিগৃহীত হন বলে খবর। সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে হেনস্তা করার নেপথ্যে ওই এলাকার তৃণমূলের দোদণ্ড প্রতাপ নেতা শেখ শাজাহানের অবদান আছে বলে রাজনৈতিক মহলের  জোর চর্চা। এমনকি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীও পুলিশ প্রশাসনের কাছে যে অভিযোগ করেছেন সেখানেও শাহজহানের বিরুদ্ধে তার মূল অভিযোগ।

কয়েকদিন চুপচাপ থাকার পর গতকাল রাতেই সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী সরাসরি বিদ্রোহ করেছেন।  তিনি বিদ্রোহ করেছেন সরকারের বিরুদ্ধেই বলা যেতে পারে। সরাসরি বিদ্রোহের ভাষা না বললেও আকার-ইঙ্গিতে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন শাজাহানদের শাস্তি না হলে তিনি ছেড়ে কথা বলবেন না। প্রয়োজন হলে জমিয়ত রাস্তায় নামবে এবং আন্দোলনের পথে যাবে।

তার ভাষায় সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী তৃণমূল কংগ্রেসের থাকবেন, কী থাকবেন না, তিনি মন্ত্রী থাকবেন, কি থাকবেন না ?  সেটা পরের বিষয় কিন্তু জমিয়াতের অপমান মানে বাংলার মানুষের অপমান সেই অপমান তিনি সহ্য করবেন না এর শেষ দেখে ছাড়বেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি এও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করুক এবং সমস্যার সমাধানে তারা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করুক।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ