দেশ 

বন্যাবিধ্বংস্ত কেরালায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজীর মন্দিরের হলঘরে ঈদ-উল-আযহার জামাত, এটাই দেশের প্রকৃত সম্প্রীতি ও ভালবাসার ঐতিহ্য : মুহাম্মদ সেলিম

শেয়ার করুন
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধি : বাম শাসিত কেরালায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির গড়ল হিন্দু সম্প্রদায় । বন্যার কারণে কেরালার ত্রিসুর জেলার এরাভাথুরের ঈদ গাহটি জলের তলায় চলে গেছে , এর কাছাকাছি মসজিদটিও জলের তলায় । ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে এলাকার মুসলিম ভাইয়েরা কোথায় নামাজ আদায় করবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রতিবেশী হিন্দু সম্প্রদায় এগিয়ে এসে জানিয়ে দেয় তাদের মন্দিরের ভিতরের হল ঘরটিতে মুসলিমরা ঈদের নামায আদায় করতে পারে। কেরালার হিন্দু সম্প্রদায়ের এই উদারতা ও সিদ্ধান্ত সমগ্র দেশজুড়ে প্রশংসা আদায় করে নিয়েছে । এটাই ভারতের প্রকৃত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বলে মন্তব্য করেছেন সিপিএম সাংসদ মুহাম্মদ সেলিম ।

জানা গেছে,এরাভাথুরের পুরাপ্পাল্লিক্কাব রক্তেশ্বরী মন্দিরের কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেন যে, কাছাকাছি কচুকাদাব মহল মসজিদটি বন্যার জলে ডুবে যাওয়ায় বুধবার ইদ-উল-আযহার নমাজের জন্য তাঁরা তাঁদের মন্দির সংলগ্ন হলঘরটি খুলে দেবেন। সেই সিদ্ধান্ত মত এই হলঘরেই ইদের নমাজ পড়েন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রায় ৩০০ জন মানুষ।

শ্রীনারায়ণ ধর্ম পরিপালন যজ্ঞম (এসএনডিপি) পরিচালিত এই মন্দিরে ইতিমধ্যেই বন্যার্তদের জন্য ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। এলাকায় ত্রাণকাজে দেখাশোনা করছেন অভিনব নামে এক যুবক। তিনি বলেন, “মন্দিরের হলঘরে ইতিমধ্যেই ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম কাছাকাছি কোনো শুকনো জায়গা নেই যেখানে জড়ো হয়ে ইদের নমাজ পড়া যায়। তাই এখানকার যুবকরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে হলঘরটিকে অস্থায়ী ইদগা (প্রার্থনাকক্ষ) বানিয়ে দেন।”অভিনব আরও জানান, “নিজেদের ধর্ম ভুলে এখানকার মানুষজন আশেপাশের বাড়ি থেকে মাদুর ইত্যাদি জোগাড় করে হলঘরটিকে অস্থায়ী প্রার্থনাকক্ষ করে তোলেন। আজ এখানে ৩০০-এরও বেশি মানুষ নমাজ পড়েছেন। তার পর সভা হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের জন্য বিশেষ প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হয়।”

সিপিএম সাংসদ মুহাম্মদ সেলিম এক বার্তায় এ প্রসঙ্গে বলেছেন, মুসলিমদের ঈদের নামায পড়ার জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দিয়ে কেরালার ত্রিসুর জেলার হিন্দুরা দেশের এই সংকট সময়ে  সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভালাবাসার এক নজীর সৃষ্টি করল। দেশের সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির অনন্য প্রতীক হিসেবে ত্রিসুর জেলার হিন্দু-মুসলিমরা বিরাজ করবে বলে মুহাম্মদ সেলিম আশা প্রকাশ করেছেন।

ত্রিসুর জেলার বন্যাদুর্গত অঞ্চলগুলির মধ্যে এরাভাথুর এলাকাটির অবস্থা খুবই খারাপ। এখানে তিনটি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে।

 

 


শেয়ার করুন
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment