Featured Video Play Iconপ্রচ্ছদ 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সদিচ্ছা # সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংখ্যালঘুদের সার্বিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে : মাওলানা মোঃ আব্দুল মতিন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিনিধি : শুধু সরকার নয় যে কোন জাতির সার্বিক উন্নয়ন লুকিয়ে থাকে  সম্মিলিত প্রচেষ্টার উপরে। আজ রবিবার বাংলার জনরব এর ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া মুখোমুখি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুন্নাতুল জামাতের রাজ্য সম্পাদক মাওলানা মোঃ আব্দুল মতিন এ কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেন, কোন সরকারি সার্বিক উন্নয়ন করতে পারেনা সার্বিক উন্নয়ন করতে গেলে চাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে যে কোন জাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়ন সম্ভব হয় না।

তিনি একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, মুসলমানের উন্নয়ন মানে এটা নয় যে কোন একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের উন্নয়ন মুসলমানের উন্নয়ন মানে এটা সেটা হচ্ছে সার্বিকভাবে দেশের উন্নয়ন। শরীরের একটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মধ্যে একটি অংশ যদি খারাপ থাকে তাহলে যেমন শারীরিক ভাবে সুস্থ হয় না মানুষ ঠিক সে রকম ভাবে একটি জাতির উন্নয়ন তখনই সম্ভব হতে পারে যখন সংখ্যালুঘুরা উন্নয়নের শিখরে পৌঁছয়।

বিশিষ্ট এই আলেম সাক্ষাত্কার দিতে গিয়ে স্পষ্ট বলেন, ২০০৬ সালে সাচার কমিটির রিপোর্ট এবং তার সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য এই সরকারকে বিভিন্ন প্রজেক্ট তৈরি করে আমাদের জমা দিতে হবে। সেই প্রজেক্ট গুলো সঠিক পথে সঠিক পদ্ধতিতে জমা দিতে পারি সরকার অবশ্যই আমাদের কাজ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

রাজ্যে অনেকগুলি ধর্মনিরপেক্ষ দল এবং জোট থাকা সত্ত্বেও কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আপনারা সমর্থন করেছিলেন এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে সাধারণ মানুষ বিজেপির বিকল্প হিসাবে মেনে নিয়েছে। ২৯৪ টি আসনের মধ্যে ৭৭ বিজেপি পেয়েছে সেটা বিজেপি না পেয়ে যদি ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলি পেত সিপিএম কংগ্রেস অন্যান্য দলগুলো তাহলে আরো ভালো হতো।

তিনি এদিন বলেন, আসলে বাংলার মানুষ বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল বাংলার মানুষের কাছে সেই আহবানে শুধুমাত্র তৃণমুলকেই তারা সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয় এজন্যই কংগ্রেস এবং বামেরা বিধানসভায় শূন্য হয়ে গেছে এটা দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য।

তিনি এদিন বলেন, শুধু মুসলিমরা তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছে এটা ঠিক নয় তৃণমূল কংগ্রেস মোট ভোট পেয়েছে ৪৮ শতাংশ সেখানে ২৬ থেকে ২৭ শতাংশ ভোট দিয়েছে সচেতন হিন্দুরাও মুসলিম ভোট হয়তো থেকে ২৩ শতাংশ বা ২৪ শতাংশ পেয়েছে।

আব্দুল মাতিন সাহেব অন্যান্য মুসলিম বুদ্ধিজীবিদের মত সরাসরি সরকারকে দায়ী না করে তিনি বলেন উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে, কি হচ্ছে না, সাধারণ মানুষের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রকল্প গুলি পৌঁছাচ্ছে, কি পৌঁছাচ্ছে না, এজন্য আমাদেরকে রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট বা তথ্য জানার অধিকার আইনের সাহায্যে প্রতিটা পঞ্চায়েত এলাকায় নজরদারি চালাতে হবে।

তিনি এদিন বলেন, শুধু সরকার করছে না সরকার দিচ্ছে না এটা বললে হবে না সরকারের কাজগুলো আদৌ বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা সেটার দিকে লক্ষ্য আমাদের রাখতে হবে, সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের আমলাদের  মধ্যে একটা অংশ সংখ্যালঘু উন্নয়নের প্রতি খানিকটা হলেও বিতৃষ্ণা তাদের মধ্যে রয়েছে সেই বিতৃষ্ণা যাতে না থাকে তার জন্য আমাদেরকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে । যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের মনে হয় পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিবেন এবং আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে সজাগ থাকতে হবে।

আব্দুল মাতিন সাহেবের দীর্ঘ এক ঘন্টা ধরে চলা সাক্ষাৎকারটি লিংক আমরা এই খবরের সঙ্গে দিলাম আগ্রহীরা এই লিংকে গিয়ে ক্লিক করে পুরো সাক্ষাৎকারটি দেখতে পাবেন। পশ্চিম বাংলার ইতিহাসে এই মুহুর্তে একজন আলেম যে সাক্ষাৎকারটি দিয়েছেন তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে কোন আলেমকে এই ধরনের নিরপেক্ষ বিশ্লেষণমূলক সাক্ষাৎকার দিতে দেখা যায়নি। আপনারা অবশ্যই আমাদের লিংকে ক্লিক করে পুরো সাক্ষাৎকারটি দেখবেন এবং ভালো লাগলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলকে সাবস্ক্রাইব করবেন। পরবর্তীকালে আমাদের সমস্ত অনুষ্ঠান আপনাদের ঘরে পৌঁছে যাবে।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ