কলকাতা 

চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা তোলার অভিযোগ ফোরামের বিরুদ্ধে (ছবিটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

শেয়ার করুন
  • 24
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিজে নিউজ ডেস্কঃ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন চালু রাখতে সুপ্রিমকোর্টে মামলা চালানোর নামে বেকার ছেলে মেয়েদের কাছ থেকে নাকি কয়েক কোটি টাকা তুলেছেন বেঙ্গল  মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরামের কর্তারা। এই অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফোরামের সদস্য থেকে শুরু করে চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষকরা ফেসবুকে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এক মহিলা নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছেন, সুপ্রিমকোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ফোরামের আইনজীবীর  বক্তব্য শোনা হবেনা। এটা যেহেতু মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের বিষয়, তাই সরকার ও ম্যানেজমেন্ট কমিটির তরফে মামলাকারি কাঁথি রহমানিয়া ট্রাস্টের আইনজীবীর বক্তব্যই প্রাধান্য পাবে। সেক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্টে ফোরামের আইনজীবীর কোনও ভূমিকাই থাকছে না। অথচ ফোরামের কর্তারা মামলা চালানোর নাম করে চাকরিপ্রার্থী ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা তুলছেন। ওই মহিলার দাবি, তাঁকে ফোরামের এক সদস্য জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টে মামলা চালাতে এখনও পর্যন্ত ২৭ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। অথচ টাকা তোলা হয়েছে সাড়ে ছয় কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে ফোরামের কর্তারা কি করছেন, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি।
মহিলার ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা প্রশ্ন তুলেছেন,  ফোরামের সভাপতি ইসরারুল হক মন্ডল কিংবা অন্য কর্তারা কি আদৌ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন চালু রাখার সদিচ্ছা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন? নাকি মামলার নামে নিজেদের একটা আয়ের পথ খুঁজেছেন তাঁরা। তাঁদের মন্তব্য, যদি তা না হয়, তাহলে একটা মামলা চালানোর জন্য সাড়ে ছয় কোটি টাকা তোলার কি প্রয়োজন? দেশের ইতিহাসে কোনও মামলায় এই বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে কিনা মনে করতে পারছেন না তাঁরা।
চাকরিপ্রার্থী কিংবা শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা তোলার কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন ফোরামের সভাপতি ইসরারুল হক মন্ডল। ‘বাংলার জনরব’ প্রতিনিধিকে তিনি জানিয়েছেন মামলা চালানোর জন্যই টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে কাউকে চাপ সৃষ্টি করা হয়নি বলেই দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, মামলা চালানোর জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। যে পরিমাণ অর্থ একটা ছোট সংগঠনের পক্ষে যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। তাই কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষককে টাকা দোওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। স্বেচ্ছায় তাঁরা যা দিয়েছেন, সেটাই নেওয়া হয়েছে। তবে মামলা চালানোর জন্য সাড়ে ছয় কোটি টাকা তোলা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠছে, তা অস্বীকার করেছেন ইসরারুল। এসম্পর্কে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, চাকরির স্বার্থে টাকা দিয়েছেন অনেকেই। সেই পরিমাণটা মাথা পিছু ৭ হাজারও হতে পারে, আবার ৭ লক্ষ টাকাও হতে পারে। তাহলে মোট কত টাকা তোলা হয়েছে? এই প্রশ্ন করতেই বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
সুপ্রিমকোর্ট ফোরামের আইনজীবীর বক্তব্য শুনতে চাইছে না বলে যে অভিযোগ উঠছে, সে সম্পর্কে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলে ইসরারুল বলেন, ‘এটা মিথ্যা অভিযোগ। কারণ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন চালু রাখতে সরকারের থেকেও আগে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল ফোরাম। ফোরাম মামলা দায়ের করেছিল ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ। অন্যদিকে, সরকার মামলা করেছে ২০১৭ সালে।’ সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, হাইকোর্ট মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে বাতিল বলে যে রায় দিয়েছিল, ফোরামের মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট সেই রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে।  তাঁর প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্ট যদি ফোরামের আইনজীবীর বক্তব্য না শুনতে চায়, তাহলে কেন ফোরামের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিমকোর্ট হাইকোর্টের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল? এই প্রসঙ্গে ম্যানেজমেন্ট কমিটির আইনজীবী আবু সোহেল বলেন, ‘ বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরামের নামে সুপ্রিম কোর্ট কিংবা হাইকোর্ট কোথাও কোনও মামলা ফাইল হয়নি। তাহলে কেন,ফোরামের নামে টাকা তোলা হবে? আসলে মামলা চালানোর নামে চাকরিপ্রার্থী কিংবা শিক্ষকদের প্রতারণা করা হচ্ছে। এনিয়ে শীঘ্রই হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হবে’।
প্রসঙ্গত, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন সংক্রান্ত মামলাটির পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী ১৯ এপ্রিল।

শেয়ার করুন
  • 24
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment