কলকাতা 

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভূয়ো সিবিআই কৌসুলি সনাতন রায় চৌধুরি! নেপথ্যে কে ? ধন্দে গোয়েন্দারা

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : সিবিআইয়ের কৌসুলি সেজে ঘুরে বেড়ানো জালিয়াত সনাতন রায় চৌধুরির কান্ড কারখানা দেখে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা চমকে উঠেছেন । ‍তিনি আন্তর্জাতিক ব্রিকস সম্মেলনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন জেরায় জানিয়েছেন সনাতন । যা শুনে গোয়েন্দাদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড় । ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনেও ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি, তা-ও আবার খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশে! জেরায় সনাতন নিজেই তা কবুল করেছেন।

রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-এর কৌঁসুলি সেজে এত দিন সনাতন কলকাতায় প্রতারণচক্র চালিয়ে আসছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গড়িয়াহাট এলাকায় সম্পত্তি কেনাবেচায় তিনি যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ। রাজভবনের ঠিকানা দিয়ে সনাতন প্রতারণা করেছেন বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে বিদেশ মন্ত্রকের তাবড় কূটনীতিকদেরও সনাতন কী ভাবে ঘোল খাইয়ে ছেড়েছেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকেই।

পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তকারীদের সামনে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন সনাতন। জানিয়েছেন জোহানেসবার্গে ব্রিকস সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তার আগে ২০১৩ সালে টোকিয়োয় ইন্দো-জাপান ব্যবসায়িক সম্মেলনেও অংশ নিয়েছিলেন। বক্তৃতা করা-সহ ব্রিকস সম্মেলনে সনাতনের শামিল হওয়ার একাধিক ছবিও হাতে পেয়েছে পুলিশ।তবে সনাতনের দাবির সত্যাসত্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

কারণ ব্রিকস সম্মেলন, যেখানে নিরাপত্তার ফাঁকফোকর দিয়ে মাছি গলারও উপায় থাকে না, বিদেশ মন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কড়া নজরদারি থাকে যে অনুষ্ঠানের উপর, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সনাতন কী ভাবে শামিল হলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যিই যদি সনাতন বিদেশে সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে কোথা থেকে অনুমতি জোগাড় করলেন তিনি, অনুষ্ঠানে শামিল হওয়ার আমন্ত্রণপত্র কী ভাবে গিয়েছিল, এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

সনাতন চৌধুরি মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের  খাগড়া তেলঘরিয়ার বাসিন্দা। তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল কখনও হাইকোর্টের রাজ্য সরকারের স্ট্যান্ডিং কাউন্সিলের সদস্য, সিবিআই কৌঁসুলি এবং মুখ্যমন্ত্রীর অফিসের উপদেষ্টা হিসেবে নিজের পরিচয় দিতেন। নীলবাতি লাগানো গাড়ি নিয়ে ঘুরতেন। তবে শেষ দেবাঞ্জন কান্ড সামনে আসার পরেই পুলিশ এই সব নীল বাতি লাগানো গাড়িগুলিকে পরীক্ষা করার করতেই একের পর এক প্রতারক বেরিয়ে আসছে সামনে । সনাতন চৌধুরি দেবাঞ্জনের চেয়েও যে অনেক বড় প্রতারক তাঁর প্রতারণা জাল দেখলেই স্পষ্ট হয়েছে । তথ্য সূত্র : ডিজিটাল আনন্দবাজার ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ