অন্যান্য কলকাতা 

অভিষেকের জনসংযোগে খুশি রাজ্যের সাধারণ মানুষ, অভিষেকের কাছ থেকে জনসংযোগের প্রকৃত পাঠ নিতে হবে সাবালক নেতাদেরও!

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরী : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রাজ্ঞতা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অভিষেককে নাবালক বলে কটাক্ষ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। যেমনটা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে পাপ্পু বলে অভিহিত করে থাকেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় নরেন্দ্র মোদির চেয়ে রাজনৈতিক দূরদর্শীতায় অনেকটাই এগিয়ে  রয়েছেন রাহুল গান্ধী। বিশেষ করে করোনাকালে তার যে প্রাজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে তা অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিও মেনে নিয়েছেন। কিন্তু মোদীজি তা মানছেন না তিনি মনে করেন তিনিই সেরা।

একই রকমভাবে বাংলার রাজনীতিতে এই মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে প্রাজ্ঞতা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দেখিয়েছেন বা দেখাচ্ছেন দিলীপ ঘোষ কিংবা শুভেন্দু অধিকারীদের মধ্যে যে তা নেই সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ তার জবাব দিয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতায় থাকার দরুন একটা অহমিকা কাজ করে থাকে শুভেন্দু দিলীপ ঘোষের মধ্যে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রতিনিধি হিসাবে নিজেদেরকে দাবি করে হিন্দুত্বের পোস্টার বয় হিসাবে নিজেদেরকে তুলে ধরার ব্যর্থ চেষ্টা করে চলেছেন শুভেন্দু দিলীপ ঘোষেরা।

আর অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন সময়ে আমরা দেখলাম প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি থকে শুরু করে বিজেপির ছোট-বড় রাজ্য নেতারা পর্যন্ত যে ভাষায় যে কায়দায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন তা এককথায় বাংলা সংস্কৃতির বিরোধী ছিল। একজন ৩৩/৩৪ বছরের যুবক এই শাণিত আক্রমণের সামনে যেভাবে বিনম্রতা দেখিয়েছেন সমস্ত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঠান্ডা মাথায় উত্তর দিয়েছেন বাংলার মানুষের কাছে বিচার চেয়েছেন তার এই রাজনৈতিক দূরদর্শিতা প্রমাণ করেছে তিনি সত্য,বাকিরা সব মিথ্যা। বাংলার মানুষ তার আহবানে সাড়া দিয়ে বিপুল ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসকে জয়যুক্ত করেছে। ভোটে জেতার পর স্বাভাবিক নিয়মেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে অভিষিক্ত হয়েছেন।

মূল দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি আরো বেশি বিনয়ী হয়েছেন মমতার কায়দায় জনসংযোগ অনেকটাই বাড়িয়েছেন। শহর কলকাতায় নয়, গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে ছুটে যাচ্ছেন তাদের অভাব-অভিযোগ শুনছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন তখন তাকে নিয়ে বিরোধীরা কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। দায়িত্ব গ্রহণ করার এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজকর্ম দেখে অনেক বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা একান্তে বলছেন এতো মমতারই ছায়া।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে কায়দায় জনসংযোগ শুরু করেছেন সেই কায়দায় জনসংযোগের ধারা তিনি যদি অব্যাহত রাখেন তাহলে আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে যে নয়া যুগের সূচনা হবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ