কলকাতা 

চলে গেলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী পার্থ সেনগুপ্ত, শোক প্রকাশ বিশিষ্টদের

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : স্বাধীনোত্তর ভারতে বিশেষ করে বাংলায় হিন্দু-মুসলিম মিলনের ক্ষেত্রে কয়েকজন ব্যক্তি নীরবে কাজ করে গেছেন প্রচারের আলোয় না থেকেও। তাদের মধ্যে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে কাজ করেছেন পার্থ সেনগুপ্ত। তিনি শুধু নীরবে কাজ করেছেন তা নয় মঞ্চে দাঁড়িয়ে হিন্দু-মুসলিম মিলনের কথা বলেছেন তা নয় তিনি যেমন বলেছেন তেমন সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন একই সঙ্গে যেখানে সম্প্রীতি ভাঙার কাজ হয়েছে সেখানেই ছুটে গেছেন পার্থ সেনগুপ্ত।

আজকের এই সংকটের দিনে পার্থবাবু চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে এটা বড় দুঃখের বড় কষ্টের। হযরত ফতেহ আলী শাহ ওয়াইসির  মাজার সংলগ্ন মসজিদ উদ্ধার এবং ওই এলাকার দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বাতাবরণ তৈরি করার যে উদ্যোগ পার্থ সেনগুপ্ত এবং আহমদ আলী রা নিয়েছিলেন তা এখন ইতিহাস হয়ে রয়ে যাবে। পার্থবাবু এমন এক সময়  হিন্দু মুসলমান মিলন এর কাজ সে কাজটা এখনও প্রয়োজন রয়েছে।

তার বিশ্বকোষ পরিষদ আমাদের বাংলা তো বটেই ওপার বাংলা  বাংলাদেশের মানুষকেও আকৃষ্ট করেছে। তার মত মানব দরদী মানুষের মৃত্যু আমাদেরকে অভিভাবক শূন্য করল। তার মৃত্যুতে একটা যুগের অবসান ঘটল। তিনি আমাদের কাছে পরম পূজনীয় ছিলেন। বামফ্রন্ট সরকারের ৩৪ বছরের রাজত্বে সংখ্যালঘুদের সমস্যা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার হয়েছিলেন পার্থ সেনগুপ্ত। তার সেই দিনের কাজের ইতিহাস লেখার লোক নেই। অথচ পার্থবাবুরা এই রাজ্যের তো বটেই দুই দেশের সেই সকল মনীষীদের জন্য কাজ করেছিলেন নীরবে যারা এদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বার্থে কাজ করে গেছেন।

পার্থবাবু আজ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে তিনটেয় হৃদরোগে মারা যান তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এই রাজ্যের একাধিক বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী। শোক প্রকাশ করে বার্তা পাঠিয়েছেন আমানত ফাউন্ডেশনের মোঃ শাহ আলম।

তিনি শোক বার্তায় লিখেছেন, “আমরা অত্যন্ত মর্মাহত যে, পার্থদা অর্থাৎ পার্থ সেনগুপ্ত আর ইহজগতে নেই। আজ ভোর তিনটেয় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোকগমন করেছেন। তাঁর মত একজন সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী, সংখ্যালঘু সমাজের প্রকৃতবন্ধু ও পিছিয়ে-পড়া এবং বঞ্চিত মানুষের দরদী অভিভাবক আজ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন।
পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের তিনি ছিলেন একজন বরেণ্য সমাজকর্মী তথা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল প্রতীক।
সবসময় জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে এই দেশ তথা রাজ্যের গুণী এবং সংস্কৃতিবান মানুষদেরকে জাগিয়ে তোলার এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একজন অতন্দ্র প্রহরী।
বিশ্বকোষ পরিষদ-এর মাধ্যমে সমাজের উপেক্ষিত ও হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিত্ব ও কর্মকান্ডকে মানুষের মাঝে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি ছিলেন নিরলস।
আমরা তাঁর প্রয়াণে ব্যথাহত। তাঁর শোকাহত পরিবার ও তাঁর গুণমুগ্ধদের সাথে সমব্যথী।”
শোক ভারাক্রান্ত হৃদয়ে,
মুহাম্মদ শাহ আলম
ডাইরেক্টর,
আমানত ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট।

ছবি : ফাইল চিত্র।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment