কলকাতা 

সৌমিত্রের দাবি সুখোবৃষ্টির বিতর্কিত ফ্ল্যাটের মালিক বাংলাদেশি, সত্যি কি তাই?কে এই সুমিত কুমার যার নামে ফ্লাট ভাড়া নেওয়া হয়েছিল? জানতে হলে ক্লিক করুন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : নিউটাউনের সুখোবৃষ্টি আবাসনের বি-ব্লকে ২০১ নম্বর কিভাবে ভাড়া পেয়েছিল পাঞ্জাবের দুইজন স্টার গ্যাংস্টার তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে রাজ্য পুলিশ। এদিকে নিউটাউন এর ঘটনা নিয়ে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ চিঠি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে । তিনি ওই চিঠিতে দাবি করেছেন নিউটাউনের এই ঘটনার তদন্ত জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এন আই এ কে দিয়ে করানোর। তিনি আরো দাবি করেছেন দুই গ্যাংস্টার যে ফ্ল্যাটে ভাড়া নিয়েছিলেন সেই ফ্লাটে মালিক আসলে বাংলাদেশি। সৌমিত্র খাঁ এর মত সাংসদ এই ধরনের মন্তব্য করার পরেই দেশ জুড়ে চাঞ্চল্য দেখা যায়। একজন বিদেশি নাগরিক অন্য দেশে গিয়ে কিভাবে ফ্ল্যাট কিনতে পারেন এবং তা ভাড়া দিতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কিছু মহল থেকে দাবি উঠতে শুরু করে এই তদন্ত কেন্দ্র সরকারের করা উচিত।

এদিকে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে ওই ফ্ল্যাটের মালিক কে এবং কেন বার ওই দুইজনকে ভাড়া দেয়া হয়েছিল তা নিয়ে তদন্ত গতকাল থেকেই শুরু হয়েছিল। আজ বৃহস্পতিবার সারা দিন পর জানা যায় ওই ফ্ল্যাটের মালিক কোন বাংলাদেশী নয় ওই ফ্ল্যাটের মালিক কলকাতার এন্টালির বাসিন্দা। তার নাম আকবর আলী। তিনি এক প্রকারের মাধ্যমে সুমিত কুমার নামে একজনকে ভাড়া দিয়েছিলেন। আর যার মাধ্যমে ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া হয়, তিনি ‘সুখবৃষ্টির’ই বাসিন্দা, পেশায় ব্রোকার সুশান্ত সাহা।

এই রহস্যের জট ছাড়াতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন বেশ কয়েকটি নাম। সেই নামগুলির মধ্যেকার যোগসূত্র খুঁজে বের করাই মূল লক্ষ্য তাঁদের।  জানা গিয়েছে, ২০১ নং ফ্ল্যাটের মালিক আকবর আলির সঙ্গে সুশান্ত সাহার যোগাযোগ হয়। একটি ফ্ল্যাট ভাড়ার কথা হয় তাঁদের। নিউটাউনের নারকেলবাগানের বাসিন্দা আরেক ব্রোকার সৌরভ কুমারের সঙ্গে আকবর আলি ও সুশান্ত যোগাযোগ করেন। সুশান্ত আকবরের ভাইয়ের থেকে ফ্ল্যাটের চাবি নেন, ভাড়াটেদের দেওয়ার জন্য। ২২ মে, সুমিত কুমার নামে এক ব্যক্তি থাকবেন বলে কাগজপত্রে সই করেন। ২৩ তারিখ থেকে তিনি থাকতে শুরু করেন। তবে বুধবারের ঘটনার পর দেখা যায়, ফ্ল্যাটে এতদিন ছিল জসপ্রীত-জয়পালরা।

এখানেই উঠছে প্রশ্ন। তাহলে কি সুমিত কুমার এই ফ্ল্যাট নিজের নামে ভাড়া নিয়ে জসপ্রীতদের থাকতে দিয়েছিল? নাকি এদেরই মধ্যে একজন সুমিত কুমার? স্রেফ ছদ্মনামে বসবাস করছিল? এর উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

এছাড়া গত প্রায় দু সপ্তাহ ধরে ফ্ল্যাটে গা ঢাকা দিয়ে থাকা দু’জনের দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কেও কিছু তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, সম্পূর্ণ নিরামিষাশী জসপ্রীত ও জয়পালের খাবার আসত হোম ডেলিভারি  মারফত। রুটি, ডাল, সবজি নিত তারা। রোজ দুপুর দেড়টার মধ্যে ফ্ল্যাটের দরজা খুলে, কোলাপসিবল গেটের বাইরে ডেলিভারি বয়ের হাত থেকে খাবার নিয়ে নিত একই ব্যক্তি। আগেরদিন রাতে যে ফোন নম্বর থেকে খাবার অর্ডার দেওয়া হতো, দেখা গিয়েছে সেই নম্বরটি সুমিত কুমারের।

আর এখানেই সন্দেহ আরও গাঢ় হয়েছে। তবে কি সুমিত কুমার এদেরই কারও নাম নাকি সে নিজের ফোনটি জসপ্রীতদের ব্যবহারের জন্য দিয়ে গিয়েছিল জটিলতা এড়াতে? যেহেতু তারই নামে ফ্ল্যাট ভাড়া এবং নথি দেওয়া ছিল, তাই অন্য কোনও ফোন ব্যবহার করা হোক, তা সে চায়নি। এসব বিষয় ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment