কলকাতা 

বাংলা তথা দেশের মানুষের কাছে আরও বেশি করে তৃণমূলকে জনপ্রিয় করে তোলাটাই এখন অভিষেকের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল শনিবার দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে । এই দায়িত্ব গ্রহণ করার পর অভিষেকের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দলকে দূনীর্তি মুক্ত করা একইসঙ্গে নবীন এবং প্রবীণের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী সংগঠন গড়ে  তোলা । সেই কাজে তিনি কতটা সফল হন সেটাই এখন দেখার । মনে রাখতে হবে এবারের বিধানসভায় যে বিপুল জনাদেশ তৃণমূল পেয়েছে এর নেপথ্যে ছিল বিজেপির বিরোধিতা । বিজেপি বিরোধী সব ভোট তৃণমূলের দিকে চলে যাওয়ার ফলে এই সাফল্য এসেছে ।

তার মানে এটা নয় যে তৃণমূল দলের কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে যে দূনীর্তি, তোলাবাজি, স্বজনপোষনের অভিযোগ ছিল তা মিথ্যা । এটা সত্য জেনেও মানুষ ভোট দিয়েছে শুধুমাত্র বিজেপির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য । কারণ বিজেপি যে বিভাজনের রাজনীতি করেছে তার বিরুদ্ধে ছিল বাংলার মানুষ । সেজন্যই তৃণমূলের এই ফল । তাই অভিষেক দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেকটাই বেড়ে গেল । কারণ তাঁর প্রতি বাংলার মানুষের যাতে খারাপ প্রতিক্রিয়া হয় সেজন্য বিজেপি বহুদিন আগে থেকেই প্রচার অব্যাহত রেখেছিল । মানুষে মধ্যে প্রচলিত ধারণা তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে যে তৃণমূল আসলে অভিষেকের দল । অভিষেক সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন । সেই সময় যদিও অভিষেক যুব তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন মাত্র । আর এখন তিনি দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড হয়েছেন । আক্ষরিক অর্থে দলীয় সংগঠন তাঁর হাতেই রয়েছে । এই অবস্থায় অভিষেককে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে ।

জনগণের সঙ্গে আরও সংযোগ বৃদ্ধি করতে হবে । সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষে কাছে পৌছাতে হবে । মানুষের প্রতিটি কথার জবাব দিতে হবে । হোয়াটস্যঅ্যাপ করলে উত্তর দিতে হবে । এক কথায় মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে হবে । অভিষেককে মনে রাখতে হবে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাইপো । জনসংযোগ সেই রকম হতে হবে । তৃণমূলের অন্য নেতা-মন্ত্রীদের মতো অহংকারী হলে, অভিষেকের চলবে না । মানুষের সঙ্গে মিশতে পারলে মানুষ কোনো দিন প্রত্যাখান করবে না । কারণ সাধারণ মানুষ চায় শুধুমাত্র নেতারা তাদের কথাটা অন্তত মনোযোগ দিয়ে শুনুক । সাধারণ মানুষের এই প্রত্যাশা পূরণ হলেই জনপ্রিয় জননেতা হওয়া যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আর একটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে তাহল গণসংগঠনগুলির বিস্তার । দলের বিভিন্ন গণসংগঠনে বাস্তঘুঘূরা প্রশয় পাচ্ছেন । এদের সঙ্গে মাটির কোনো যোগ নেই । কিছু নেতা তাঁদের ঘনিষ্ঠদের এই সব সংগঠনের দায়িত্ব পাইয়ে দিয়েছে মাত্র । আর ওই সব সংগঠনের নেতারা কোনো কাজ না করে শাসক দলের প্রতিনিধি হয়ে বিভিন্ন জায়গায় আধিপত্য কায়েম করেছেন । এই সকল জনভিত্তিহীন নেতাদের থেকেও দূরে থাকতে হবে অভিষেককে । প্রয়োজন হলে সৎ এবং মানুষের জন্য কাজ করতে চান এমন ব্যক্তিদের ওই পদে বসানো হোক । দলের স্বার্থে এমন ব্যক্তিদেরকে খুঁজে বার করে সামনে আনার প্রয়োজন রয়েছে ।

এক কথায় অভিষেকের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে, জনমুখী করে গড়ে তোলা । আর দলের স্বার্থ না দেখে যারা নিজেদের স্বার্থে দল করেন তাঁদেরকে এখনই দল থেকে বের করে দেওয়া হোক । কারণ এরাই দলের সুদিনে থাকলেও সংকটের সময় গা ঢাকা দেবে । তাই এখন থেকেই অভিষেককে নতুন করে নতুন তৃণমূলের জন্ম দিতে হবে । মনে রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজস্ব ইমেজে জিতে থাকেন ঠিকই , কিন্ত এবার সংগঠনকে এমনভাবে সাজাতে হবে যেখানে সবাই যেন সমান সুযোগ পায় সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে অভিষেককেই ।

যদিও তিনি দলের দায়িত্ব নেওয়ার পরেই মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে প্রণাম করেছেন , তাঁর সঙ্গে শলাপরামর্শ করেছেন । এর মাধ্যমে তিনি বার্তা দিলেন দলের নবীন এবং প্রবীণ দুই প্রজন্মকে নিয়ে তিনি দলকে পরিচালনা করবেন । এটা ভাল দিক । তবে অভিষেকের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ এখন তৃণমূল দলকে এমন ভাবে গড়ে তোলা যাতে তার জনপ্রিয়তা আগামী ৫০ বছর বাংলায় আটুট থাকে । সেজন্য সব শাখা সংগঠনগুলিকে ঢেলে সাজাতে হবে । এমনভাবে সাজাতে সেখানে প্রকৃত অর্থে যারা জনসাধারণের স্বার্থে কাজ করতে চান তাঁরাই সুযোগ পান , না হলে দল জিতলেও মানুষের কাছে বেশি দিন জনপ্রিয় থাকতে পারবে না । অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার কোন পথে দলকে পরিচালনা করেন সেদিকেই তাঁকিয়ে থাকবে বাংলার সাধারণ মানুষ ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment