কলকাতা 

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই কী তৃণমূল দল নবজাগরণের পথে

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : বাংলার জনরব আগেই বলেছে, শনিবার দলের কর্মসমিতির বৈঠকে তৃণমূল দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পেতে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকদিন আগে করা আমাদের এই আগাম রাজনৈতিক পূর্বাভাস আজ ৫ ই জুন শনিবার তৃণমূল ভবনে বৈঠকে সিলমোহর দিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ দলের কর্ম সমিতির বৈঠকে ঘোষণা করেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পদে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মনোনীত করা হয়েছে। তৃণমূল যুব কংগ্রেসের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সদ্য তৃণমূলে আসা অভিনেত্রী এবং বিধানসভা নির্বাচনে কঠিন লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত হেরে যাওয়া সেই সায়নী ঘোষ কে। দলের সঙ্গে কাজ করার পুরস্কার হিসাবে সায়নী ঘোষ এই পদ পেলেন বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর উত্থান। তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার দিন থেকে এই দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন মুকুল রায়। মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে স্বাভাবিকভাবেই এই পদটি ফাঁকা ছিল। বিভিন্ন মহলে কানাঘুষা থাকলেও কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই অর্থে দলের সংগঠনে যুক্ত কোন পদে ছিলেন না। তিনি ছিলেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে গুরু দায়িত্ব পেলেন তা তিনি যোগ্যতার সঙ্গে পরিচালনা করবেন বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন।

এমনিতেই সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে মোদী এবং অমিত শাহ দুজনের মূল নিশানা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিটি সভাতে নিয়ম করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছিলেন দেশের দুই প্রধান পরিচালক। তাসত্ত্বেও বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে বেছে নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ- র প্রচারকে গুরুত্ব দেয়নি বাংলার মানুষ। সেই অর্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার মানুষই স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং নতুন করে তার পদ পাওয়া নিয়ে বিতর্ক থাকা উচিত নয়।

মনে করা হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর এবার পুরো সংগঠন  তিনি নিজে পরিচালনা করবেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যতটা আমরা দেখেছি তিনি যদি আরেকটু সাধারণ মানুষের কাছাকাছি পৌঁছে যান তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত গুণ তার মধ্যে বিদ্যমান আছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান কৌশলী রাজনীতিবিদ এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

তিনি যুব তৃণমূল কংগ্রেসকে যেভাবে পরিচালনা করেছেন সেই ভাবে যদি তৃণমূল কংগ্রেসকে পরিচালনা করেন তাহলে সাফল্য যে ধরা দেবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে প্রথমেই মনে রাখতে হবে শাখা সংগঠন গুলির গুরুত্ব বাড়াতে হবে শিক্ষক সংগঠন থেকে শুরু করে সংখ্যালঘু সংগঠন সমস্ত স্তরে ভালো ভালো মানুষকে ঠাই দিতে হবে।

কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ এই দলে যারা নেতৃত্ব দেন তাদের একটা অংশ বিভিন্ন অসামাজিক কাজকর্ম, দুর্নীতি স্বজনপোষণ ও তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত। দলকে এই সব অভিযোগ থেকে মুক্ত করা এখন অভিষেকের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি যদি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে দলকে ভালো মানুষদের নিয়ে নতুন করে সাজান তাহলে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment