কলকাতা 

রাজনীতির উদ্দেশে মুসলমানদের অনুপ্রবেশকারী আর হিন্দুদের শরণার্থী এই শিক্ষা কংগ্রেস দেয়নি,আন্তর্জাতিক আইন অনুসারেও কাউকে তাড়ানো যায় কী ? : সরদার আমজাদ আলী

শেয়ার করুন
  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সরদার আমজাদ আলী প্রাক্তন সাংসদ । কংগ্রেস নেতা । কলকাতা হাইকোর্টের বর্ষীয়ান দুঁদে আইনজীবী । স্পষ্ট বক্তা । কিন্ত সমাজ দেশ সর্ম্পকে তাঁর রয়েছে অগাধ পান্ডিত্য । সম্প্রতি অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি ইস্যুতে সমগ্র দেশ জুড়ে হইচই পড়েছে। আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৪০ লক্ষ বাঙালির নাম বাদ পড়ে যাওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই উস্মা প্রকাশ করেছেন । অন্যদিকে অমিত শাহ কলকাতায় এসে বলেছেন, রাজীব গান্ধীর আমলে শুরু হয়েছিল এই নাগরিক পঞ্জি । তিনি করেননি, বিজেপি সরকার করেছে বলে দাবি করেছেন অমিত শাহ ।

তিনি আরও দাবি করেছেন অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করা হবে । শরণার্থী বা উদ্বাস্তদের এখানে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে । এই প্রেক্ষাপটেই বাংলার জনরব নিউজ পোর্টালে মুখ খুলেছেন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ সরদার আমজাদ আলী ।

প্রশ্ন : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাগরিক পঞ্জি নিয়ে অভিযোগ করছেন পরিকল্পিত মাফিক এটা বিজেপি করেছে । এনিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া ?

সরদার আমজাদ আলী :  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলছেন তা ঠিক বলছেন না। আবার মোদী বা অমিত শাহ বা বিজেপি নেতারা বলছেন তারাও ঠিক বলছেন । আসলে দুজনই দুদিক থেকে রাজনীতি করতে চাইছেন। একজন হিন্দুদের নিয়ে অপরজন বাঙালিদের নিয়ে । ভোট ব্যাঙ্ক রক্ষার তাগিদ যতটা আছে ঠিক ততটা নেই সমস্যার সমাধান করার উদ্যোগ ।

প্রশ্ন :  তাহলে কী এক কলমের খোচায় ৪০ লক্ষ বাঙালি রাষ্ট্রহীন হয়ে গেল ?

সরদার আমজাদ আলী : না । এটা বলার সময় আসেনি। কারণ যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে তা খসড়া মাত্র । এখনও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়নি। আমাদের দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার যা হাল তাতে আর যাইহোক এটা বলা যায় অন্তত কাল ধরে এই সংশোধনী চলতে থাকবে । যে দেশে আধার কার্ড কিংবা ভোটার কার্ড সংশোধন করতে বছরের পর বছর সময় লাগে সেই দেশের ৪০ লক্ষ মানুষের নাগরিকত্ব প্রমান পেশ অন্তত কাল ধরে চলতে থাকবে বলে আমার মনে হয়।

প্রশ্ন : তাহলে সমস্যার সমাধানের কী হবে ?

সরদার আমজাদ আলী : আমাদের দেশের সংবিধান এতটাই উদার যে সব সমস্যার সমাধান সংবিধান মতেই হবে । যারা বিদেশী চিহ্নিত হবে তাদেরকে বিদেশী নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশের সংবিধানে যে যে সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে তা দিতে হবে । আর যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে ।

প্রশ্ন : অমিত শাহদের হুংকার মত কী বৈধ কাগজপত্র যাদের নেই তাদেরকে কী তাড়িয়ে দিতে হবে?

সরদার আমজাদ আলী : দেখ, দেশের আইনের বাইরেও আন্তর্জাতিক একটা আইন আছে,সেই আইন মোতাবেক কাউকে কোন দেশ থেকে বিতাড়িত করা যায় না। আমেরিকা পারেনি, গ্রেট ব্রিটেন পারেনি, জার্মানি পারেনি । তাহলে প্রশ্ন ভারত কী পারবে অবৈধ নাগরিক চিহ্নিত করে তাদেরকে তাড়িয়ে দিতে ? এখানে শরণার্থী বা উদ্বাস্তু শব্দ গুলির তাৎপর্য কী? কাদেরকে উদ্বাস্তু বলা হবে ? সেই উত্তরও আন্তর্জাতিক আইনে বলা হয়েছে।

প্রশ্ন : এই সমস্যার সমাধানের পথ কী ?

সরদার আমজাদ আলী : সমস্যার সমাধানের পথ একটাই উদার মন নিয়ে সমস্যার গভীরে সমাধান করা । রাজনীতির উদ্দেশে মুসলমানদের অনুপ্রবেশকারী আর হিন্দুদের শরণার্থী এই শিক্ষা কংগ্রেস দেয়নি। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তি  যুদ্ধের সময় আমাদের দেশে যে লক্ষ লক্ষ মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে খান সেনাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এদেশে এসেছিল তারা কারা ? বাঙালি হিন্দু মুসলমান। সেদিন ইন্দিরা গান্ধী হিন্দু বাঙালি,মুসলিম বাঙালি বলে আলাদা করে কাউকে চিহ্নিত করেননি। তিনি সেদিন বিশ্বের রাষ্ট্রনায়কদের বলেছিলেন আমার দেশে শরণার্থীরা আশ্রয় নিয়েছে । এই দৃষ্টিভঙ্গিতে সমস্যার সমাধানে তৎপর হলে সমাধান হবেই।

 


শেয়ার করুন
  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment