জেলা প্রচ্ছদ 

বাদুড়িয়ায় কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুস সাত্তার এর সমর্থনে পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর সভায় জনজোয়ার, চাপে তৃণমূল

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরী : আজ শুক্রবার বাদ জুম্মা বাদুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্রের সংযুক্ত মোর্চার মনোনীত কংগ্রেস প্রার্থী ড. আবদুস সাত্তার এর সমর্থনে নির্বাচনী সভায় অংশ নেন আই এস এফ এর প্রতিষ্ঠাতা পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী। এই সভায় জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে আক্রমণ করেন।

তিনি বলেন, বিজেপিকে রোখার ক্ষমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেই, বিজেপিকে রোখার ক্ষমতা রয়েছে একমাত্র সংযুক্ত মোর্চার। কারণ আমরা মানুষের রুটি-রুজির প্রশ্নে লড়াই করি, আমরা চাকরির দাবী করি মানুষের পেটের ভাতের দাবি করি, অন্যরা তা করে না। তাই আমাদের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস’ বাড়ছে। আগামীদিনে সংযুক্ত মোর্চার সরকার হবে। তিনি আরো বলেন২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসবে না।

এদিনের সভায় কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুস সাত্তার বলেন, ২০২১ এর নির্বাচন এমন এক সন্ধিক্ষণে হচ্ছে যখন এই রাজ্যের মানুষের রুটি রুজির প্রশ্নে লড়াই নেই। সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলি বলছে না ওরা । ওরা মেরুকরণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করছে। হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে ভাগ করতে চাইছে এই অবস্থায় সংযুক্ত মোর্চা সঠিক পথ তুলে ধরার চেষ্টা করছে। আমরা বিশ্বাস করি সাধারণ মানুষ আমাদেরকে সমর্থন করবে। বাংলার ঐতিহ্য সংস্কৃতি রক্ষার জন্য সম্প্রীতি রক্ষার জন্য সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীদের  জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান আব্দুস সাত্তার।

আজকের সভায় জনজোয়ার দেখে তৃণমূল কংগ্রেস খানিকটা ঘাবড়ে গেছে। আব্দুস সাত্তার সম্পর্কে পশ্চিমবাংলার বাঙালি মুসলিম সমাজের ধারণা খুব ভালো। এই অবস্থায় আজ সংযুক্ত মোর্চার সভায় যে জনজোয়ার লক্ষ্য করা গেছে একইসঙ্গে সিপিএম কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের কর্মীরা কাঁধে কাঁধ দিয়ে যে লড়াইয়ের শপথ নিয়েছে তাতে তৃণমূল প্রার্থী এখানে যে বেশ খানিকটা বেকায়দায় পড়ে গেলেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

প্রসঙ্গত বলা যেতে পারে তৃণমূল প্রার্থী আব্দুর রহিম কংগ্রেস নেতা আব্দুল গাফফার সাহেব এর পুত্র। তিনি ২০১৬ সালে বাম কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে বাদুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। কয়েক মাস আগে তিনি  কংগ্রেস ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে  যোগদান করেন।

ফলে প্রায় কয়েক দশক ধরে বাদুড়িয়ায় যে কংগ্রেসের আধিপত্য ছিল সেটা বিনষ্ট হয়েছে আব্দুর রহিমের এই সিদ্ধান্তে। এই কারণে এলাকার কংগ্রেস কর্মীরা যেমন আব্দুর রহিম এর  প্রতি ক্ষুব্ধ একইভাবে এলাকার মানুষ আব্দুর রহিমের এই বিশ্বাসঘাতকতার জবাব দিতে চাইছে। কারণ বহু প্রলোভনেও গাফফার সাহেব কংগ্রেস ত্যাগ করেননি তিনি আজীবন কংগ্রেস করে গেছেন। কংগ্রেসের বিধায়ক হিসেবে তিনি বাদুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হতেন। গাফফার সাহেব এর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণেই অনেকটাই ব্যাকফুটে রয়েছেন আব্দুর রহিম ।

এখানেই খানিকটা হলেও চাঙ্গা হয়েছে আবদুস সাত্তারের আবেদন। তার আবেদনে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষ তার প্রচারে অংশ নিচ্ছেন এবং কংগ্রেসকে  সমর্থনের কথা ব্যক্ত করছেন বলে জানা গেছে।

এলাকার মানুষ বলছে, বাদুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্রে চিরাচরিত কংগ্রেসের হাতেই থাকবে, না তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে থাকবে তা আগামী দোসরা মে জানা যাবে।তবে স্থানীয়রা দাবি করছেন ,কংগ্রেসের যে পরম্পরা এখানে ছিল সেই পরম্পরা থেকে বেরিয়ে গিয়ে আব্দুর রহিম ঠিক কাজ করেননি। তাহলে কি এবার আব্দুস সাত্তার কংগ্রেসের পতাকাকে তুলে ধরবেন বাদুড়িয়ায়? তিনি কি তুলে ধরতে পারবেন ? বাদুড়িয়া মানুষের কাছে সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

তবে যাই হোক আব্দুস সাত্তার কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে বাদুড়িয়ার মানুষের মনকে জয় করে নিয়েছেন তা আজকের সভা থেকে প্রমাণিত হয়েছে। সংযুক্ত মোর্চার ডাকে পশ্চিমবাংলার যে কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী জনসমাবেশ হয়েছে তার মধ্যে আবদুস সাত্তারের সমর্থনে আজকের নির্বাচনী জনসভা টি অবশ্যই ঐতিহাসিক হিসাবে চিহ্নিত হবে। জনসমাগম শেষ কথা বলে না শেষ কথা বলে মানুষের সমর্থন। তবে মানুষের জনসমাগম দেখে একথা স্পষ্ট হয়েছে বাদুড়িয়ার মানুষ কংগ্রেসের পাশে ছিল, কংগ্রেসের পাশে আছে কংগ্রেসের পাশেই থাকবে আব্দুস সাত্তার মানুষের মন জয় করে নেবেই।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment