কলকাতা 

আল-আমীনের শিক্ষায় আলোর সন্ধানী ফারুক হোসেন গাজী নিঃস্ব মানুষের স্বার্থে গড়ে তুলেছেন নব-দিগন্ত/২

শেয়ার করুন
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফারুক হোসেন গাজী একজন নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। অসামান্য মেধা-শক্তিকে সম্বল করে এবং আল-আমীন মিশন এবং তার প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামের উদ্যোগে আজ তিনি চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্ত জীবন-সংগ্রামের সাফল্যের পরও তিনি ভুলে যাননি দরিদ্র মানুষদের কথা । নিজের জীবনের সুখ-শান্তি সব কিছু খুজে নিয়েছেন তিনি ওই মানব সেবার মাধ্যমে । গড়ে তুলেছেন নব-দিগন্ত নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।
তিনি শুধু একা নন, তাঁর সহধর্মিনী নিলুফা পারভীন সমানভাবে স্বামীর সঙ্গ দিচ্ছেন। আজকের দিনে এই আত্মত্যাগ শোনা যায় না। ডা, ফারুক হোসেন গাজীর অসামান্য কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষমতা বাংলার জনরবের নেই,তবে তাঁর কাহিনী মানুষের কাছে তুলে ধরার ক্ষমতা আমাদের আছে ।  স্বামীর দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম এবং সমাজ সেবার কাহিনী সুনিপুণ দক্ষতায় এবং শিল্প-সম্মত বাংলায় তুলে ধরেছেন নিলুফা পারভীন । দুটি কিস্তি তা প্রকাশ করা হবে। আজ দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি ।
প্রথম অংশের পর—-পাশাপাশি তিনি যেহেতু ডাক্তার তাই গ্রামের মানুষের দুঃখ মেটাতে মিশন স্কুল এর পাশাপাশি হাসপাতালের ন্যায় স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে শুরু করেন, গ্রামের ছেলে মেয়ে দের নিয়ে হেলথ টিম গড়ে তোলেন, যার দ্বারা কত মানুষ যে আজ উপকৃত সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। বই, খাতা, জামাকাপড়, টিউশন ফি সবই ফ্রি, ওষুধ পরীক্ষা নিরীক্ষা তাও ফ্রি, আসে পাশের দু দশটা গ্রাম আজ উপকৃত। ডাঃ ফারুক হোসেন বীরভূম জেলার দুবরাজপুর সরকারি মেডিকেল অফিসার হিসাবে চাকরি পেয়ে গিয়েছেন তত দিনে।

কিন্তু তিনি ভাবলেন তিনি ডাক্তার, তার সব বন্ধু বান্ধবীরাও ডাক্তার, নার্স, ইঞ্জিনিয়ার, পুলিশ অফিসার, সরকারি অফিসার বিভিন্ন মহলে সবাই প্রতিষ্ঠিত, তাদের যদি কাজে লাগলো যায়, এর সুফল সারা পশ্চিমবঙ্গের দরিদ্র অসহায় মানুষ পাবে! এই চিন্তা করে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে তিনি সবাই কে ডাকলেন কোলকাতার নিউটাউন , তার এক ডাকে প্রায় ৫০ জন প্রতিষ্ঠিত বন্ধু বান্ধব হাজির হলেন, তিনি বক্তৃতা রাখলেন তারা মুগ্ধ হয়ে শুনলেন। সবাই তার ডাকে সাড়া দিয়ে নব দিগন্ত যোগদান করলেন সেই বছর থেকেই সারা পশ্চিমবঙ্গের সব জেলায় নব দিগন্ত এর কাজ শুরু করলেন, শুরু হল বিনামূল্যে শিক্ষা চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া কর্ম সংস্থান এর ব্যবস্থা করা , শুরু হল হেলথ ক্যাম্প, বস্ত্র বিতরণ, স্কলারশিপ বিতরণ, ব্যাগ বিতরণ, কম্বল বিতরণ, বন্যা ত্রাণ বিতরণ, অসহায় এর পাশে দাঁড়ানো ইত্যাদি। এই কাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গের ২৩ জেলা কে তারা টি জোন বিভক্ত করে কাজ শুরু করলেন (যথাক্রমে:সুন্দর বন, জঙ্গল মহল, উত্তর বঙ্গ, কোলকাতা বর্ধমান জোন)
এরপর ঠিক হলো মিশন, ভিশন, গঠিত হল পরিচালন সমিতি। পরিচালন সমিতির বেশির ভাগ সদস্যরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত, তারপর সদস্য হিসাবে যারা এগিয়ে এলো তার বেশির ভাগই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পুলিশ অফিসার, সরকারি আধিকারিক চাকুরিজিবি।

তারা নিজেরা দিলেন শ্রম,অর্থ, সংগ্রহ করলেন দান, যাকাত, কেউ বা হয়ে উঠলেন মাসিক দাতা। নব দিগন্ত এর লক্ষ্য একটি জাতীয় স্তরের এনজিও হয়ে ওঠা, যত দ্রুত সম্ভব জাতির সেবায় নিয়োজিত হওয়া। দেশের সেবায় নিয়োজিত হয়ে, জাতীয় স্তরে কাজ করে দারিদ্র মোচন, শিক্ষা স্বাস্থ্যের হাল ফেরানো। নব দিগন্ত এর পাশে দাঁড়িয়েছে ছোটো বড় সমস্ত পত্র পত্রিকা সহ নিউজ চ্যানেল গুলোও। যেমন আনন্দ বাজার পত্রিকা, দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার মত নিউজ পেপার গুলো। জি বাংলার মাধ্যমে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এরদাদাগিরি রচনা বন্দোপাধ্যায় এরদিদি নং 1′ এর মত জনপ্রিয় টিভি শো তে নব দিগন্ত এর কাজ কর্ম তুলে ধরা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি সাহায্য মেলেনি, আসা করা যায় খুব শীঘ্রই মিলবে। যদিও বহু মানুষ প্রতিষ্ঠান আজ নব দিগন্ত এর পাশে দাঁড়িয়েছেন। অফিস,মিশন, হাসপাতাল গড়ে তোলা এত বহুবিধ কর্মকান্ড প্রতি নিয়ত চালিয়ে যাওয়ার জন্য নব দিগন্ত এর প্রয়োজন বহু অর্থের ।আশাকরি সবাই পাশে দাঁড়াবে, যারা এখনো গুরুত্ব বোঝেননি ভবিষ্যতে
বুঝবেন।
কোনো জাতি বা ধর্মের ভেদাভেদ নয়, মানব সেবাই মূলমন্ত্রনব দিগন্তএর
এভাবেই সমাজ পরিবর্তনের ইচ্ছা নিয়ে জাতির সেবায় নিয়োজিত নব দিগন্ত টিম ডাঃ ফারুক হোসেন গাজী

সবাই যাতে নব দিগন্ত সম্বন্ধে জানতে পারে, তাই আমার এই লেখা বা প্রচেষ্টা মাত্র, কাউকে বড় করে দেখানো, ঢাক পেটানো বা অতিরঞ্জিত করে কিছু বলা আমার স্বভাব এর পরিপন্থী। একটা লেখনীর মাধ্যমে কিছু মানুষের ধারণা যদি বদলায় তাহলেই লেখা সার্থক।
নিলুফা পারভীন


শেয়ার করুন
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment