অন্যান্য 

আল-আমীনের শিক্ষায় আলোর সন্ধানী ফারুক হোসেন গাজী নিঃস্ব মানুষের স্বার্থে গড়ে তুলেছেন নব-দিগন্ত

শেয়ার করুন
  • 44
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফারুক হোসেন গাজী একজন নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। অসামান্য মেধা-শক্তিকে সম্বল করে এবং আল-আমীন মিশন এবং তার প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামের উদ্যোগে আজ তিনি চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্ত জীবন-সংগ্রামের সাফল্যের পরও তিনি ভুলে যাননি দরিদ্র মানুষদের কথা । নিজের জীবনের সুখ-শান্তি সব কিছু খুজে নিয়েছেন তিনি ওই মানব সেবার মাধ্যমে । গড়ে তুলেছেন নব-দিগন্ত নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তিনি শুধু একা নন, তাঁর সহধর্মিনী নিলুফা পারভীন সমানভাবে স্বামীর সঙ্গ দিচ্ছেন। আজকের দিনে এই আত্মত্যাগ শোনা যায় না। ডা, ফারুক হোসেন গাজীর অসামান্য কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষমতা বাংলার জনরবের নেই,তবে তাঁর কাহিনী মানুষের কাছে তুলে ধরার ক্ষমতা আমাদের আছে । তাই স্বামীর দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম এবং সমাজ সেবার কাহিনী সুনিপুণ দক্ষতায় এবং শিল্প-সম্মত বাংলায় তুলে ধরেছেন নিলুফা পারভীন । দুটি কিস্তি তা প্রকাশ করা হবে। আজ প্রথম কিস্তি।

চারিদিকে মানুষের মনুষ্যত্ব যখন বিপন্ন, যে যার নিজের চিন্তায় ব্যস্ত, নিজের গাড়ি,নিজের বাড়ি, নিজের জমি, বিলাসিতা এবং আত্মকেন্দ্রিক জীবন যাত্রায় মানুষ যখন বিশ্বাসী ও যে সময়ে ডাক্তারদের প্রতি মানুষের আস্থায় চিড় ধরেছে , সেই সময়ে এমন ত্যাগও মানুষ করতে পারে নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। হ্যাঁ আমি আমার নিজের স্বামী, উত্তর ২৪ পরগনার, সন্দেশখালী থানার অন্তর্গত ডাঃ ফারুক হোসেন গাজীর কথা বলছি, তিনি যখন সবে মাত্র অত্যন্ত দুঃখ কষ্টের মধ্য দিয়ে ডাক্তারি পাশ করেছেন ২০১২ সালে, তখন বাস করেন মাটির ঘরে, বাবা পেশায় দিনমজুর। সাধারণত দেখা যায় আয় ইনকাম শুরু হলে সবাই গাড়ি, বাড়ি, জমি কেনা ও বিলাসিতার জীবন শুরু করে কিন্তু না তিনি গেলেন স্রোতের বিপরীতে, তিনি জানতেন যে শুধু নিজে শিক্ষিত হলে, বা নিজের জীবন নিয়ে ভাবলে তার চার পাশের সামাজিক পরিবর্তন আসবে না, কারণ তিনি যেখানে জন্ম নিয়েছেন সেখানে না আছে শিক্ষার আলো, না আছে স্বাস্থ্য পরিষেবা, না আছে কর্ম সংস্থান, তাই ভাবলেন আগে এদের পাশে দাঁড়াতে হবে, টেনে তুলতে হবে অন্ধকার থেকে আলোর পথে, এপথ মসৃণ নয় জেনেও, সেই যুদ্ধে আমি যে সামিল হবো ঠিক তার মত করে কখনো ভাবিনি, কিন্ত ধীরে ধীরে হয়ে উঠলাম তার এই দুর্গম চলার পথের দোসর অর্থাৎ সহধর্মিনী থেকে সহযোদ্ধা হয়ে উঠলাম।
মানুষের জন্য কিছু করতে হবে এমন ভাবনা ছোট্ট বেলা থেকেই তার ছিল, তাতে আরো ইন্ধন যোগায় আর এক মহান মানুষ, তিনি আর কেউ নন বাংলার শিক্ষা আন্দোলনের নব রূপকার আল আমিন মিশনের প্রাণ পুরুষ নুরুল ইসলাম ও তার প্রতিষ্ঠান আল আমিন মিশন, এই মানুষটি ও তার মিশন তাকে মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে, মানুষের জন্য ভাবতে সাহায্য করেছে এর পাশাপাশি তাকে উদ্বুদ্ধ করে রামকৃষ্ণ মিশন এর সেবার ধর্মও । আল আমিন মিশন এর অর্থ সাহায্য নিয়েই তিনি পড়াশোনা করেছেন বিনা খরচে। তাই স্যার এর প্রতি, আল আমিন এর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ ও তার এই সমাজ সেবা বলতে পারেন। তিনি তাই বলেনও।
ডাঃ ফারুক হোসেন গাজী ছাত্র অবস্থা থেকেই সমাজ সেবায় নিয়োজিত,২০০৮ সালে গ্রামের কিছু যুবক কে নিয়ে গড়ে তোলেন একটি সমাজ সেবা প্রতিষ্ঠান, তার মাধ্যমে ২০১০ সালে গড়ে তোলেন একটি মিশন স্কুল, সেই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসাবে ২০১৪ পর্যন্ত কাজ করেন, কিন্তু সাংগঠনিক বোঝা পড়া ঠিক না থাকায় ও তার স্বপ্নগুলো পাখা মেলতে না পারায় তিনি ২০১৩ সালে ভারাক্রান্ত মন নিয়ে পদত্যাগ করেন। এই ৬ বছরে তিনি কত দুঃখ, কষ্ট করে, পড়াশুনার ক্ষতি করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বহু চেষ্টা করেও তিনি স্বপ্ন কে বাস্তবে রূপ না দিতে পেরে, কত বার যে চোখের জলে বালিশ ভিজিয়েছেন তা আমার চেয়ে বোধ করি ভালো আর কেউ জানে না।
এক সময় মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছেটাই হারিয়ে যেতে বসেছিল, স্বপ্নের সলিল সমাধি হতে বসেছিল, কিন্তু না উনি কিছুতেই হার মানার পাত্র নন, কারণ উনি যে অন্ধকার থেকে আলোর পথে অসহায় কে টেনে তোলার দীক্ষা নিয়েছেন, আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন, পড়াশুনা চালিয়ে ২০১২ সালে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এম বি বি এস পাস করে,২০১৩ সালে হাউস ফিজিসিয়ান হিসাবে কোলকাতা, ফুল বাগান শিশু হাসপাতালে চাকরি করতে থাকেন, কিন্তু সমাজের জন্য বৃহৎ কিছু করতে তিনি পারছিলেন না তার আগের প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক সমস্যার কারণে, যা তাকে কুরে কুরে মারছিল, তাই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন, নিজের প্রথম সংগঠনের ব্যার্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০১৪ সালে আবার নতুন যাত্রা শুরু করলেন। কিন্তু নতুন প্রতিষ্ঠান, নতুন স্কুল অফিস খুলতে দরকার বহু টাকা কিছু নতুন সাথী, পাশে পেলেন শিক্ষিত কিছু যুবক যুবতী, কিন্তু টাকা আসবে কোথা থেকে, তারও তখন অভাব অনটন, সবে মাত্র কিছু টাকা মাইনে পান, যাইহোক নিজের পাকাঘর তৈরী করার জন্য যে কটা টাকা গুছিয়ে ছিলেন সেই সম্বল টুকু দিয়ে দিলেন প্রতিষ্ঠান শুরু করতে, প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা, যা সেই সময় তার কাছে অনেক কষ্টকর মূল্যবান ছিল, সমাজের জন্য এই ত্যাগ কজনই বা করতে পারে ওই বয়সে, সূচনা হলনব দিগন্তযে নাম তিনি নিজেই দিলেন। নব দিগন্ত মিশনে আজও কোনো ভর্তি ফি নেওয়া হয় না, কারণ তিনি মনে করেন, টাকা চাইলে এরা শিশু কে মিশন স্কুল পাঠাবে না, কারণ এই স্কুল যারা পড়ে তারা এতিম, অনাথ, কেউ প্রতিবন্ধী শিশু, তো কেউ আবার আদিবাসী শিশু।


শেয়ার করুন
  • 44
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment