জেলা 

হিন্দু ধর্ম বিক্রি করে বিজেপি রাজনীতি করে, দুর্নীতি করে বললেন অভিষেক, কৃষকের স্বার্থে একমাত্র মমতাই কাজ করছেন মোদীর পাল্টা সভায় দাবি ফিরহাদ-পার্থের

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কৃষক কল্যান সমাবেশের পাল্টা সমাবেশে শনিবার তৃণমূলের যুব নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ভাষায় বিজেপি ও মোদীকে আক্রমন করেন। নরেন্দ্র মোদী বিজেপি-র সমাবেশে বলেছিলেন তৃণমূল রাজ এখন সিন্ডিকেট রাজে পরিণত হয়েছে। এর উত্তর দিতে গিয়ে শনিবার অভিষেক বলেন,”নরেন্দ্র মোদি বলেছেন আমরা সিন্ডিকেট করি। হ্যাঁ আমরা সিন্ডিকেট করি। আমরা মানুষের সিন্ডিকেট করি। পাহাড়ে বিমল গুরুং, রোশন গিরি, হরকা বাহাদুর ছেত্রীর অশুভ আঁতাত ভেঙে দিয়ে পর্যটনের সিন্ডিকেট করি। আমরা জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের সরিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার সিন্ডিকেট করেছি। আগামীদিনে আমরা বিজেপি ভারত ছাড়ো সিন্ডিকেট গড়ব।”

তিনি আরও বলেন,”দেশের উন্নয়ন নিয়ে কোনও কথা বলতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী। দেশের এমন অবস্থা হয়েছে, স্টেশনের নাম পালটে যাচ্ছে। তাজমহলকে অপমান করা হচ্ছে। লালকেল্লাকে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের আত্মহত্যা করতে হচ্ছে। তারপর প্রধানমন্ত্রী বড় বড় কথা বলছেন। দরকারে আমরা জীবন দিতে প্রস্তুত। কিন্তু ভাঁওতাবাজদের রাজ্যে জায়গা নিতে দেব না।”নমানি গঙ্গে নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে গঙ্গা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। সেই প্রকল্পকে কটাক্ষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গঙ্গা পরিষ্কারের নামে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্র। সেই টাকায় একটা পুকুরও সাফ করেনি। হিন্দু ধর্ম বিক্রি করে বিজেপি রাজনীতি করে, দুর্নীতি করে। আমরা সিপিএমের মত নাস্তিক নই। আমরা বিজেপি-র মতো ধর্ম বিক্রি করে রাজনীতি করি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইমাম মোয়াজ্জেম ভাতা যেমন দিয়েছেন। তেমনই হিন্দুদের জন্য কাজও করেছেন। তারকেশ্বর, দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের উন্নতি করেছেন।”
বক্তব্যের শুরুতেই অভিষেক বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখানে সভা করেছিলেন কিন্ত লোক এনেছিলেন,” পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো থেকে লোক নিয়ে এসেছে। ১০টা জেলা ও ৪টে রাজ্য থেকে লোক এনেছে। বাইরের থেকে লোক এনে অশান্তি পাকাতে চাইছে এরাজ্যে।”

এদিনের সভায় মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন,”সে বাংলায় অশান্তি করার চেষ্টা করছে। বাংলায় যখন প্রধানমন্ত্রী আসছেন তাঁর সামনে ময়দান ভরানোর চেষ্টা করছে। বাংলার মায়েরা আমাদের মতো নপুংসককে জন্ম দেননি। আমরা বাংলা মায়ের ছেলে, আমরাও অস্ত্র হাতে লড়তে জানি। প্রতিবাদ করতে জানি।”

ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, “নরেন্দ্র মোদিকে কৃষকদের কথা ভাবতে হবে না। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষকদের কথা ভেবে চলেছেন। তিনি কৃষিপণ্যের উপর সহায়ক মূল্য দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ট্র্যাক্টরের ব্যবস্থা করেছেন। কৃষক হাসছে।”

সভামঞ্চ থেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “নরেন্দ্র মোদি আজ কৃষক কল্যাণ সভা করছেন। কিন্তু সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় কোথায় ছিলেন তিনি? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২৬ দিন অনশনের সময় কোথায় ছিলেন তিনি? কৃষকদের জন্য ১৫ দিন ধরনা দিয়েছিলেন মমতা। কৃষকদের দুর্দশার সময় নরেন্দ্র মোদি ছিলেন না। এখন ওদের সুখের সময়ে সভা করতে এসেছেন।”

এদিনের সভায় পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । আমরা দেশে বাঙালি প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই । তাই রাজ্যের ৪২ টি লোকসভা আসন আমাদের জিততে হবে । ৪২-এ ৪২ করে আমরা দিদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী করব এ মেদিনীপুরের সভা থেকে এই শপথ আমাদের নিতে হবে।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment