অন্যান্য 

২০০৬ – ১১ সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরে প্রায় ১৬ হাজারের মতো নতুন পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ করা হয়েছিল , এক কথায় যা ইতিহাস : ড. আবদুস সাত্তার

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বামফ্রন্ট সরকারের শেষ পাঁচ বছর রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ড. আবদুস সাত্তার । তিনি মাত্র পাঁচ বছরে রাজ্যের সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের মোড়কে ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন । সফল মন্ত্রী হিসাবে আজও তাঁকে রাজ্যের সংখ্যালঘুরা উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরে । সেই আবদুস সাত্তার এবার বাংলার জনরব নিউজ পোর্টালের মুখোমুখি । এটা কোনো প্রথাগত সাক্ষাৎকার নয় । এটা ফেলে আসা অতীতের ঐতিহাসিক দলিল । বেশ কয়েকটি কিস্তিতে ধারাবাহিকভাবে তা প্রতি রবিবার ও বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে ।

প্রশ্ন : আপনি মন্ত্রী হওয়ার পর আপনার দফতরের কাজের “ পঞ্চমুখী লক্ষ্য” স্থির হয় , এ বিষয়টি একটু বলবেন ?

আবদুস সাত্তার : প্রথমত, সংবিধানের ৩০ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রদত্ত সংখ্যালঘু অধিকার সুনিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে যে সমস্ত স্বাশসিত সংস্থাগুলি আছে, সেগুলি যাতে ঠিক মতো কাজ করতে পারে তা দেখা । বলা বাহুল্য , ইতিপূর্বে সেই কাজই দফতরের মাধ্যমে করা হতো ।

দ্বিতীয়ত , মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও উন্নত , গুণমানসম্পন্ন , মডেল হিসাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার কার্যক্রম । পাশাপাশি মাদ্রাসার সংখ্যা আরো বাড়ানো । কলকাতা মাদ্রাসাকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ , যা আজ আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত ।

তৃতীয়ত, মূলস্রোতের দফতরগুলির সঙ্গে সমন্বয়সাধনে কমিটি । লক্ষ্য হলো , সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলে ঠিকমতো কাজ হচ্ছে কি না , এই অংশের মানুষ উন্নয়নের সমঅংশীদার , সুফল পাচ্ছে কি না , তা দেখা । এই কাজ ঠিক মতো করতে না পারলে উন্নয়নজনিত বিচ্ছিন্নতা বাড়বে । সরকারের প্রতি এই অংশের মানুষের হতাশা বাড়বে ।সরকারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হবে । তাই এটা খুব জরুরি বিষয় ছিল ।

চতুর্থত, যুগ যুগ ধরে চলে আসা পশ্চাদপদতার অবসান একদিনে হবে না । দেশভাগজনিত যন্ত্রণা বিষয়টিকে আরও জটিল বহুমাত্রিক করেছে । এবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ।তাই মূলস্রোতের দফতরগুলির মাধ্যমে ‘সমমাত্রিক উন্নয়নের’ প্রচেষ্টার পরও ঘাটতি থেকেই যাবে ।সেই ঘাটতি পূরণের জন্য ‘উন্নয়ন-ঘাটতি’ নিরুপণ করে দফতরের মাধ্যমে , কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্যান্য দফতরের সঙ্গে সংযোগসাধন করে তা দূর করার প্রয়াস নিতে হবে । তাই এক্ষেত্রে আলাদা বাজেট বরাদ্দও করা হলো ।

পঞ্চমত , একুশ শতকের শুরু থেকেই সংখ্যালঘুদের দ্বারা পরিচালিত বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সংগঠন শিক্ষা –স্বাস্থ্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে চলেছে ।সমাজও তাদের স্বীকৃতি দিয়েছে । সমাজ মানসে উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রমের ছাপও পড়েছে । এই সমস্ত সংস্থাগুলি যাতে আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে সরকারের ভূমিকা যেন সাহায্যকারী হয় , তাও লক্ষ্য হিসাবে ঠিক করা হলো । আলাদা বাজেট বরাদ্দ করা হলো ।

উপরোক্ত পঞ্চমুখী কার্যক্রমকে সামনে রেখে দফতর পরিচালিত হয়েছে । এই কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে রূপায়ণ করতে হলে প্রয়োজন উপযুক্ত পরিকাঠামো । দফতরের সচিবালয়ের আধিকারিক ও কর্মী সংখ্যা বাড়ানো হলো । ২টি ডাইরেকটরেট ( সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা) , সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ১২টি জেলায় সংখ্যালঘু অফিস ও অন্য সাত জেলায় সংখ্যালঘু সেল তৈরি করা হলো । পর্যায়ক্রমে এই কাজগুলি করা হলো । আধিকারিক ও কর্মীদের প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি করা হলো । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য করি , ২০০৬ থেকে ২০১১-এর মধ্যে এই দফতরের জন্য প্রায় ১৬ হাজারের মতো নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে , এক কথায় যা ইতিহাস । এই সবই প্রামাণ্য হিসাবে রাজ্য সরকারের দলিলে রয়েছে । এরমধ্যে এমএসকে , এসএসকে , মাদ্রাসার শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি , নতুন অনুমোদন সব মিলিয়ে তা হয়েছে ।

প্রশ্ন : যে উদ্দেশ্য নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষাকে এই দফতরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হলো তা কি সফল হয়েছে ? যদিও অনেকে এই সংযুক্তিকরণকে ভালোভাবে মেনে নেননি । মনে করেছেন ‘তোষণ’ এটা ঠিক ?

আবদুস সাত্তার : এটা ঠিকই সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করলে সমস্যা হবে , হয়েছেও ; এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই । তার মুখ্য কারণ হলো শিক্ষা দফতরের জন্ম হয়েছে শুধুমাত্র শিক্ষা নিয়ে কাজ ও গবেষণার করার জন্য । সর্বোপরি জাতীয়-আন্তর্জাতিক স্তরে শিক্ষা নিয়ে কী কাজ করা হচ্ছে , তার খোঁজ-খবর রাখা ও বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য আধিকারিকরা আছেন, যা সংখ্যালঘু দফতরের জন্য প্রযোজ্য নয়। এর সঙ্গে এই বিষয়টিকেও মনে রাখতে হবে, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও অধিকতর গুরুত্ব ও মর্যাদা দানের লক্ষ্যেই যুক্ত করা হয়েছিল । এবং তা সফলও হয়েছে । বলা ভালো কোনো ক্ষেত্রে বিদ্যালয় থেকেও মাদ্রাসা শিক্ষাকে  বেশি অর্থ ও শিক্ষক পদ দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে ।

পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা শিক্ষা পাঁচটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে । যথা , আধুনিক , ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মাদ্রাসার পরিচালন ব্যবস্থা, সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম , ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য এই শিক্ষার দরজা উন্মুক্ত এবং অবশ্যই মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে যোগ্য ও গুণমানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ ।এই ধরনের ব্যবস্থা শুধু জাতীয় স্তরেই নয় , আন্তর্জাতিক স্তরেও বিরল । তাই তো এই শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে সকলের এত আগ্রহ । পাকিস্থান সহ ইউরোপ , আমেরিকার মতো দেশের গবেষকরা এই শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে গবেষণা করছেন । এর সঙ্গে তোষণের কোনো সম্পর্ক নেই ।যারা পশ্চাদপদ তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা না দিলে তারা অগ্রসর হবে কি করে ? সারা জীবন তো পেছনেই পড়ে থাকবে । ( চলবে )।

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment