কলকাতা 

সোমেন পুত্র মমতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল , তৃণমূলে যাচ্ছেন কী ? ক্ষোভ অধীরের বিরুদ্ধে দক্ষিণবঙ্গে কংগ্রেসের আইসিইউ যাত্রা সময়ের অপেক্ষা !

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : দক্ষিণবঙ্গে একমাত্র সংখ্যালঘু মুখ ও কংগ্রেস বিধায়ক আবদুর রহিম দিলু কংগ্রেস ছাড়ার পর বাংলার জনরব বলেছিল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরির ব্যবহারের ফলে আরও ভাঙবে কংগ্রেস । তবে সোমেন মিত্রের পুত্র রোহন মিত্র কংগ্রেস ছাড়তে চলেছে সূত্রের খবর । তিনি ইতিমধ্যেই আবদুর রহিম গাজির দলত্যাগ নিয়ে নিশানা করেছেন অধীর চৌধুরিকে । কংগ্রেসের এই যুব নেতা তৃণমূল কংগ্রেসে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে ।

বৃহস্পতিবার বেচারাম মান্নাকে নিয়েও টুইট করেছেন রোহন। হরিপালের বিধায়কের ইস্তফা নিয়ে যখন হইচই চলছে, তখন রোহন বেচারামের ছবি সম্বলিত টুইটে লেখেন, ‘যাঁদের একদিন কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ই ছিল না, আস্তাকুঁড় থেকে তাঁদের তুলে এনে কখনও প্রয়াত সোমেন মিত্র বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা একদিন সিংহাসনে বসিয়েছিলেন যে মানুষদের, তাঁরা কি আজ অন্য গন্ধ পেয়ে বেইমানির পথে হাঁটছেন’? তার পর শুক্রবার ফের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সোমেন-পুত্র। টুইটে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রদেশ কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক এবং দক্ষিণ কলকাতার ভোটার হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার জেলা কংগ্রেসের কর্মী সম্মেলনে ডাকা হল না কার নির্দেশে?

রোহন সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘বাবার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াই ছিল ঠিকই। কিন্তু বাবা কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক ভাবে ছোট করার চেষ্টা করেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে তৃণমূল স্তর থেকে উঠে এসেছেন, বাবা সেটাকে সব সময় সম্মানের চোখেই দেখতেন। কারণ, বাবা নিজেও তৃণমূল স্তর থেকে লড়াই করে উঠে আসা নেতা ছিলেন।’’ তিনি কি তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন? সরাসরি জবাব না দিয়ে সোমেন-পুত্র বলেছেন, ‘‘আমি নিজে যুব কংগ্রেস থেকে উঠে এসেছি। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ যুব কংগ্রেসের ইতিহাস জানি। যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী হিসেবে এক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংগঠনকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিলেন, তা-ও জানি। যুব কংগ্রেস সভানেত্রী থাকাকালীনই তিনি প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন। যুবনেত্রী তথা বিরোধী নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সব মাইলফলক স্পর্শ করে গিয়েছেন, তাতে আমি তাঁর প্রতি অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল।’’

আসলে সমস্যাটা অন্য জায়গায় প্রয়াত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র সংখ্যালঘু সমাজের প্রতি দরদী মন নিয়ে কাজ করতেন । তাঁর মধ্যে সংখ্যালঘু দরদটা মেকি ছিল না । উল্টো দিকে অধীর চৌধুরির সংখ্যালঘু দরদের মধ্যে কোথাও আন্তরিকতা নেই । তিনি কাজ করেন ভোটের লক্ষ্যে । আর বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সকলে যা বলেন বিকেলে অধীর চৌধুরি সেই কথাগুলি বলেন ।  দলের সংগঠন তৈরি করার ক্ষেত্রে দলের উন্নতির দিকে লক্ষ্য না রেখে বিজেপি ঘনিষ্ঠ নেতাদের তিনি জেলা সভাপতি করেছেন যেটা অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না । দলের সংখ্যালঘু নেতারা একের পর এক চলে যাবেন তৃণমূলে । আর সোমেন অনুগামীদের অধিকাংশই চলে যাবেন তৃণমূলে । কংগ্রেস যে অংশটা পড়ে থাকবে তাদের দিয়ে ভোট পাওয়া কঠিন হবে । এমনকি অধীর চৌধুরি তাঁর নিজের গড় ধরে রাখতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment