অন্যান্য 

শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে অজয় মুখোপাধ্যায়ের প্রতিচ্ছবি পরিলক্ষিত হচ্ছে

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম ( নন্দীগ্রাম থেকে ফিরে ) : শুভেন্দু অধিকারী বাংলার জনপ্রিয় নেতাদের মধ্যে প্রথম সারিতে আছেন । এক কথায় বলা যেতে পারে জননেতা । আজ সকালে তিনি নন্দীগ্রামের তেখালিতে সভা করেন । সেই সভায় মানুষের উপস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে শুভেন্দুকে যাঁরা তাচ্ছিল্য করছিলেন তাঁরা আসলে ভুল করছেন । জনমানসে শুভেন্দুর মতো জনপ্রিয় নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাদে আর কেউ নেই । আমরা আশা করেছিলাম আজকের সভায় তিনি হয়তো দলের প্রতি কোনো ক্ষোভ উগরে দেবেন । কিন্ত তা হয়নি । তিনি সোজা কথা সোজাভাবে বলেছেন । তিনি যেমন ভারত মাতা কী জয় বলেছেন , একই সঙ্গে মুসলিমদের উদ্দেশেও সালাম দিয়েছেন । এটা তাঁর ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির যে একটা উদাহরণ তা প্রমাণ করেছেন ।

বিজেপির উত্থানের পর থেকে এই রাজ্যে অনেক রাজনীতিবিদ প্রকাশ্যে মুসলিমদের নাম উচ্চারণ করতে চান না । সেখানে তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে নাম ধরে ধরে শ্লোগানও দিলেন । তাঁর এই নয়া রাজনীতি প্রেক্ষাপটে মনে পড়ে যাচ্ছে অজয় মুখোপাধ্যায়ের কথা যিনি কংগ্রেস ভেঙে বাংলা কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন । ১৯৬৭ সালেই বাংলা কংগ্রেস তৈরি করে রাতারাতি মুখ্যমন্ত্রী হয়ে গিয়েছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায় । তিনিও অবিভক্ত মেদিনীপুরের সন্তান ছিলেন ।

১৯৬৭ সালে কংগ্রেস ভাঙার নেপথ্যে ছিল কলকাতা শহরের নেতাদের দাদাগিরি । অতুল্য ঘোষের মতো নেতাদের তাচ্ছিল্য মানসিকতা । মূলত দলের শহুরে নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে অজয় মুখোপাধ্যায় দল ছেড়েছিলেন । আর সব সভাতে গিয়ে দল ছাড়ার মর্মান্তিক কাহিনীর কথা বলতেন । সেই নির্বাচনে কংগ্রেস শুধু হেরে যায়নি । সেই দলের মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল সেনও হেরে গিয়েছিলেন । অজয় মুখোপাধ্যায়ের চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয় নেতা হলেন শুভেন্দু । তাই মেদিনীপুরের সন্তান অজয় মুখোপাধ্যায় বাংলার রাজনীতিতে নয়া যুগের সূচনা করেছিলেন । তিনি প্রমাণ করেছিলেন কংগ্রেসকেও সেই সময় হারানো যায় । মানুষই মূল শক্তি । মানুষ যাকে চাইবে তাকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না । শুভেন্দু কি অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতই তৃণমূল ভেঙে নতুন কোনো দল তৈরি করেন কিনা তা ভবিষ্যতে জানা যাবে ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment