কলকাতা 

আমরা রাস্তার কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করছি না,আইনি আধিকার দাবি করছি মাত্র ডিএ মামলায় রাজ্যকে তোপ সরকারি কর্মচারিদের আইনজীবী সর্দার আমজাদ আলির

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিনিধি : কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিসন বেঞ্চে আজ সরকারি কর্মচারিদের ডিএ আইনি অধিকার, না রাজ্য সরকারের দয়ার দান সেই মামলার শুনানী শেষ হয়েছে । এবার যেকোন দিন মামলার রায় বের হতে পারে। শেষ দিনে আবেদনকারী সরকারি কর্মচারি ফেডারেশনের পক্ষে বিশিষ্ট আইনজীবী সর্দার আমজাদ আলি সওয়াল করেন। এর আগে ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেছিলেন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত ।

কিশোর দত্তকে ডিভিসন বেঞ্চের দুই বিচারপতি ববি শেখর শরাফ ও দেবশিষ করগুপ্ত প্রশ্ন করেছিলেন, রাজ্য সরকারের যেসব কর্মচারি দিল্লি,মুম্বই ও চেন্নাইয়ে কর্মরত আছেন তাদের সঙ্গে রাজ্যে একই পদে কাজ করা সত্ত্বেও ডিএ-র দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য কেন? এর উত্তরে অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেছিলেন, কলকাতা শহরের তুলনায় দিল্লি ,মুম্বই ও চেন্নইয়ের মূল্যবৃদ্ধি  বেশি এবং দৈনন্দিন খরচ কলকাতার তুলনায় বেশি ।

বিচারপতিরা রাজ্য সরকারের আইনজীবীর এই যুক্তি শুনে বলেছিলেন, এই রাজ্যের যেসব কর্মচারি গ্রামাঞ্চলে থাকেন তাদের তুলনায় কলকাতা শহরের বাসিন্দা সরকারি কর্মচারিদের খরচ বেশি তাহলে একই নিয়ম এখানে হবে না কেন ? আর কোন আইন ও নিয়মের ভিত্তিতে রাজ্য সরকারের কর্মচারিদের ডিএ দেওয়া হয় ? এর উত্তরে অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেছিলেন, রাজ্য সরকারের এরকম কোন আইন নেই, ডিএ আসলে সরকারের বিবেচনার উপর নির্ভর করে ।

আজ কলকাতা হাইকোর্টে সরকারি কর্মচারিদের হয়ে সওয়াল করতে উঠে বিশিষ্ট আইনজীবী ও প্রাক্তন সাংসদ সর্দার আমজাদ আলি বলেন, আমাদের দেশ পরিচালিত হয় ,বিধিবদ্ধ সংবিধান মেনে । আর সংবিধান দ্বারা পরিচালিত কোন সরকার কোষাগার থেকে যা জনগণের অর্থ তা খরচ করতে হলে বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনেই করতে হয়। তাহলে রাজ্য সরকার ডিএ দেওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা করে বিঞ্জপ্তি জারি করে কেন ? শুধু তাই নয়, ২০০৯ সালে রোপা রুল চালু হওয়ার পর ডিএ নিয়ে আর কোন বির্তক থাকে না। রোপা রুলে পরিস্কার বলা হয়েছে, পে-কমিশন যে সুপারিশ করেছে সেই সুপারিশকে মান্যতা দেবে সরকার ।

এখানেই আইনজীবী সর্দার আমজাদ আলি সওয়াল করেন, রোপা রুল তৈরি করা হয়েছে ভারতের সংবিধানের ৩০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী , সুতরাং এই রুল যতদিন কার্যকরী থাকবে ততদিন ডিএ রাজ্যের সরকারি কর্মচারিদের অধিকার থাকবে। তিনি সওয়ালে আরও বলেন, “রাজ্য সরকার কখনো খাপ পঞ্চায়েতের মতো আচরণ করতে পারে না। খাপ পঞ্চায়েত নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করে৷ রাজ্য কি কখনো সেটা করতে পারে?” কারন রাজ্যকে দেশের সংবিধান মেনে চলতে হয় । তিনি দুই বিচারপতির উদ্দেশে বলেন, আমরা রাস্তার কুকুরের মত ডিএ দেওয়ার দাবিতে মোটেই ঘেউ ঘেউ করছি না ।আমরা দেশের সংবিধান মেনে যে রুল তৈরি হয়েছে সেই মোতাবেক অধিকার দাবি করছি মাত্র ।

আমজাদ আলি এদিনও বিচারপতিদের সামনে দাবি করেন, ডিএ রাজ্য সরকারের দয়ার দান নয় , এটা রাজ্যের সরকারি কর্মচারিদের অধিকার। আজ এই মামলার শুনানী শেষ হল । এবার হাইকোর্ট কী রায় দেয় সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সরকারি কর্মচারি ও রাজ্য সরকার।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment