অন্যান্য 

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত , গুণমানসম্পন্ন , দেশের মধ্যে ‘মডেল’ রূপে গড়ে তোলার আন্তরিক প্রয়াসের কথা বুদ্ধদেববাবু বলতেন : আবদুস সাত্তার

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বামফ্রন্ট সরকারের শেষ পাঁচ বছর ( ২০০৬-১১ ) রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ড. আবদুস সাত্তার । তিনি মাত্র পাঁচ বছরে রাজ্যের সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের মোড়কে ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন । সফল মন্ত্রী হিসাবে আজও তাঁকে রাজ্যের সংখ্যালঘুরা উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরে । সেই আবদুস সাত্তার এবার বাংলার জনরব নিউজ পোর্টালের মুখোমুখি । এটা কোনো প্রথাগত সাক্ষাৎকার নয় ,বরং ফেলে আসা অতীতের ঐতিহাসিক দলিল । বেশ কয়েকটি কিস্তিতে এটি প্রকাশিত হবে ।

প্রশ্ন : আপনার আমলে সংখ্যালঘু দফতরের নতুন নামকরণ হয়েছিল । সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর । এই নামকরণের বিষয়টি একটু বলুন ।

আবদুস সাত্তার : আমার মনে হয়েছিল এই নামকরণটা সঠিক হয়নি । কেননা ১৯৯৬ সালে সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও কল্যাণ বিভাগ তৈরি হয় । যেমন সংখ্যালঘু কমিশন , সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগম , ওয়াকফ বোর্ড , উর্দু একাডেমি – এই পাঁচটি স্বশাসিত সংস্থাকে বিভিন্ন দফতর থেকে বিযুক্ত করে দফতরটি তৈরি করা হয় ।যেমন , ওয়াকফ বোর্ড আইন দফতর ,উর্দু একাডেমি তথ্য সংস্কৃতি , হজ্ব কমিটি ও সংখ্যালঘু কমিশন স্বরাষ্ট্র দফতরের সঙ্গে যুক্ত ছিল  । এই স্বাশাসিত সংস্থাগুলির প্রায় সবই জাতীয় স্তরে প্রতিষ্ঠান ছিল , তাই রাজ্যে প্রয়োজন হয়ে পড়ে । এগুলি মূলত সংবিধানের ৩০ নম্বর ধারায় উল্লেখিত সংখ্যালঘু অধিকার সম্পর্কিত বিষয় । সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগম একমাত্র ঋণদান সম্পর্কিত । তাছাড়া ‘উন্নয়ন ও কল্যাণ’ কোথায় ?

দ্বিতীয়ত , দফতরের নামের সঙ্গে ‘উন্নয়ন ও কল্যাণ’ শব্দবন্ধটি যুক্ত থাকায় সংখ্যালঘু মানুষের মধ্যে ভুল বার্তাও যাচ্ছিল ।মূলস্রোতের দফতরগুলির উন্নয়নকে ছেড়ে দিয়ে এই দফতরের মাধ্যমে যা হয়েছে , তাকেই সংখ্যালঘু উন্নয়নের মানদন্ড ও নিরিখ হিসাবে বিচার করার এক ধরনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছিল । একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে – আমাদের রাজ্যের উর্দু মাধ্যম বিদ্যালয়গুলির পরিচালনা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন ও অবসরকালীন ভাতা প্রদান করে থাকে বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর অথচ ভারতের বহু রাজ্যে তা দেয় উর্দু একাডেমি ।তুলনীয় হতে লাগল উর্দু একাডেমির বাজেট । সমস্যাটা এখানে ।

প্রশ্ন : মাদ্রাসা শিক্ষাকে বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর থেকে আলাদা কেন করলেন ? এতে তো সমস্যা বাড়তে পারে ?

আবদুস সাত্তার : সেই সময় ধারণা তৈরি হয়েছিল মাদ্রাসা শিক্ষা যথোচিত গুরুত্ব পাচ্ছে না ।সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে এনিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল । নানা ধরনের আন্দোলনও ছিল । এটাই মুখ্য কারণ হতে পারে । মাদ্রাসা ‍শিক্ষাও শিক্ষা তাই শিক্ষা দফতরের সঙ্গে যুক্ত থাকাটাই স্বাভাবিক ছিল । কেননা জাতীয় , আন্তর্জাতিক স্তরে শিক্ষা ভাবনা এই দফতরের সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ছিল ।

প্রশ্ন : বামফ্রন্টের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এক সময় মাদ্রাসাগুলিকে ‘ সন্ত্রাসবাদের আখড়া’ বলে মন্তব্য করেছিলেন । তা নিয়ে সমগ্র দেশজুড়ে জোরালো প্রতিবাদ উঠেছিল । রাজ্যের মুসলিমদের মধ্যেও এনিয়ে ক্ষোভ দেখা দেয় । তারপরেই মাদ্রাসা শিক্ষার উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে বামফ্রন্ট সরকার , মুসলিমদের ক্ষোভকে প্রশমন করার লক্ষ্যে কী এই সিদ্ধান্ত ছিল ?

আবদুস সাত্তার : মুখ্যমন্ত্রী কোথায় কী বলেছিলেন তা আমি বলতে পারব না , সেই সময়কার দলিলে তা ধরা আছে ।দেখলেই বুঝতে পারবেন । এইটুকু আমি জানি এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত , গুণমানসম্পন্ন , দেশের মধ্যে ‘মডেল’ রূপে গড়ে তোলার আন্তরিক প্রয়াসের কথা বারংবার তিনি ব্যক্ত করতেন ।

প্রশ্ন : মাদ্রাসা শিক্ষাকে ‘মডেল’ করার লক্ষ্যেই কী আপনাকে দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছিল ?

আবদুস সাত্তার : এটা একমাত্র তাঁরাই বলতে পারবেন যাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন । তবে এখানে এটুকু বলতে পারি যে আমার খুব একটা ইচ্ছা ছিল না । এই অনিচ্ছার কথা আমি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও অন্যদেরও জানিয়েছিলাম । অনিচ্ছা সত্ত্বে সিদ্ধান্তটা আমাকে মেনে নিতে হয়েছিল ।

প্রশ্ন : আপনাকে রাষ্ট্রমন্ত্রী করার নেপথ্যে নাকি পার্টির নেতাদের চাপ ছিল । রেজ্জাক মোল্লা বলতেন উপরে পলিটব্যুরো , নিচে কেন্দ্রীয় কমিটি , মাঝখানে পার্টি সদস্য ? এ বিষয়ে আপনার মতামত ?

আবদুস সাত্তার :  যাঁর কথা বলছেন তিনি সেই সময় পার্টির বড় নেতা ও সিনিয়র মন্ত্রী ছিলেন ।কী ভেবে বলেছিলেন তা আমি বলতে পারবো না ।তবে সেই সময় আমিও এই কথাটা শুনেছিলাম । আনুষ্ঠানিকভাবে যা শুনেছিলাম তা হলো , সংখ্যালঘু মুসলিমরা চান , এই দফতরের দায়িত্বে মুখ্যমন্ত্রী থাকলে তারা আশ্বস্তবোধ করবেন ।এটা ঠিক যে দফতরের একজন নয় , দু’জন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দুটি স্বশাসিত সংস্থার চেয়ারম্যান ছিলেন ।

প্রশ্ন : রাজ্যে সংখ্যালঘু দফতর তৈরি হওয়ার পর থেকে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে এই দফতরে সব সময় পূর্ণমন্ত্রী ছিল । কিন্ত আপনিই বামফ্রন্ট সরকারের শেষ সংখ্যালঘু দফতরের মন্ত্রী যিনি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন । শোনা যায় সেই সময় কার সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগমের চেয়ারম্যানের আপত্তিতেই নাকি আপনি পূর্ণমন্ত্রী হতে পারেননি । এবিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া ?

আবদুস সাত্তার : আমি সেই স্তরের নেতা কোনোকালেই ছিলাম না। তাই এবিষয়ে আলোকপাত করতে পারবো না ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment