দেশ 

গো-রক্ষার নামে হিংসা বরদাস্ত করা হবে না,প্রয়োজনে নতুন আইন তৈরি করুক সংসদ : সুপ্রীম কোর্ট

শেয়ার করুন
  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধি : দেশে গত কয়েকমাসে গণ-রোষের শিকার হয়ে ২০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। এতে গভীর উদ্বিগ্ন ভারতের শীর্ষ আদালত গো-রক্ষার নামে হিংসা নিয়ে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি এ এম খানউইলকর এবং বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়কে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ বলেছে, “কোনও নাগরিক নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারে না। ভয় এবং অরাজকতার পরিবেশ তৈরি হলে রাষ্ট্রকে ইতিবাচকভাবে কাজ করতে হবে। হিংসা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে নতুন আইন তৈরি করুক সংসদ।” পাশাপাশি রাজ্যগুলি এই ধরনের ঘটনা রোধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তা নিয়েও বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে শীর্ষ আদালত।গোরক্ষার নামে বা ছেলেধরা গুজবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। এই ধরনের ঘটনা রুখতে সংসদকে নতুন আইন প্রণয়নের জন্য আবেদন জানাল সুপ্রিম কোর্ট। মহাত্মা গান্ধির প্রপৌত্র তুষার গান্ধি সহ অন্য সমাজকর্মীদের দায়ের করা এক পিটিশনের প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত সংসদের কাছে এই আবেদন জানিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আরও বক্তব্য, গো-রক্ষার নামে হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। ২৮ অগাস্ট ফের মামলাটির শুনানি রয়েছে।গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর শীর্ষ আদালত গো-রক্ষার নামে গণপিটুনি রুখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেয়। এজন্য এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি জেলায় একজন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিককে নোডাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। যদিও গো-রক্ষার নামে অশান্তি রুখতে আদালতের নির্দেশ রাজস্থান, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ সরকার মানছে না, এমন অভিযোগ করে শীর্ষ আদাল৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি এ এম খানউইলকর এবং বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের একটি বেঞ্চে সমাজকর্মী তেহসিন পুনওয়ালা এবং তুষার গান্ধি সহ বেশ কয়েকজন বলেন, গণপিটুনির ঘটনা বন্ধ করতে সেভাবে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার। তাঁরা আবেদন করেন, এই ঘটনা বন্ধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার যেন কঠোর পদক্ষেপ নেয়। পাশাপাশি আদালতের পুরোনো একটি রায় তুলে ধরে তুষার গান্ধি জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্য় করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতিদের বেঞ্চ জানায়, এই ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। এটা আইনশৃঙ্খলার সমস্যা।

প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন এক বেঞ্চ মনে করে এই মামলাগুলির জন্য আলাদা আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে জনগণের বিচারকে তো আইন সিদ্ধ করা যায় না। শক্ত হাতেই এই প্রবণতার মোকাবিলা করতে হবে। সরকার এব্যাপারে চোখ কান বন্ধ করে থাকতে পারে না। তাদেরকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায় নিতে হবে।

গণহিংসা রোধে নয়া আইন প্রণয়ন করার বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মতামত জানতে চেয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে জনগণের বিচার, গনহিংসার মোকাবিলা করার বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে ওই নির্দেশ অনুযায়ী গণহিংসার ঘটনার মোকাবিলা করতে হবে।

 


শেয়ার করুন
  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment