অন্যান্য 

মুসলমানদের ঘরোয়া বিবাদের সমাধানে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের গঠনমূলক পরিষেবা( তৃতীয় কিস্তি )

শেয়ার করুন
  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মুসলমান সমাজে কথায় কথায় তালাক দিয়ে মুসলিম মহিলাদেরকে অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয় বলে তথাকথিত মানবতাবাদীরা অভিযোগ করে থাকেন । কিন্ত মুসলিম সমাজের নারীই সবচেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে  থাকে। ইসলাম ধর্ম নারীদেরকে পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব ও সম্মান দিয়েছে। বিবাহের ক্ষেত্রে মেয়ের সম্মতি ছাড়া বিবাহ হবে না,এটা ইসলামের বিধান । এমনকি তালাকের ক্ষেত্রেও মেয়েদের সমান অধিকার দিয়েছে ইসলাম। ইসলামী আইনকে সামনে রেখে ঘরোয়া বিবাদ বা স্বামী-স্ত্রী মধ্যে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সম্মানজনক সমাধান প্রায় তিন দশক ধরে করে আসছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। কীভাবে শরিয়ত মেনে বিবাদ ও কলহ মেটানো হয় তা নিয়ে এই প্রবন্ধ । জাতীর স্বার্থে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য বাংলার জনরব জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের এই সামাজিক গঠনমূলক কাজ সম্বন্ধে লেখা প্রবন্ধটি প্রকাশ করল জনস্বার্থে । আজ তৃতীয় কিস্তি।

দ্বিতীয় কিস্তি পর—

 কেস নম্বর jan/659/16:-এই মোকদ্দমার ক্ষেত্রে মুম্বাইয়ের এক ধনী ব্যক্তি উত্তর ২৪পরগনা র এক মহিলাকে লোভ দেখিয়ে বিবাহ করে মুম্বাই নিয়ে যায়।সেখানে তার উপর অমানবিক অত্যাচার করা হয় কারণ মুম্বাইতে তার আরও স্ত্রী ছিল।পূর্বের স্ত্রীর ছেলেরা এবং ঐ ব্যক্তির মেয়েটির উপর অত্যাচার করত; পর পুরুষের সঙ্গে থাকতে বাধ্য করত।সুযোগ বুঝে মেয়েটি পালিয়ে আসে। কিন্তু স্বামীটি স্ত্রীকে তালাক দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে এবং চিঠি ও ফোন মারফত প্রাণনাশের হুমকিও দেয়।মেয়েটি মাহকামায়ে শরীয়াহতে যোগাযোগ করলে মাহকামায়ে শরীয়াহ কমিটি মুম্বাইতে যোগাযোগ করে ওই ব্যক্তিকে বিভিন্ন প্রকারে বোঝানোর পরে অবশেষে ভুল স্বীকার করে মেয়েটিকে বেশ কিছু সামগ্রী ও নগদ টাকা চেক মারফত দিয়ে তালাক দিয়ে দেয়।এই মেয়েটি অন্যত্র বিবাহ করে সুখে সংসার করছে।
কেস নম্বর জুলাই/643/15: হাওড়া জেলার এক বাড়ির বধূকে তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে গ্রিল কেটে দু ‘তলা থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় বন্দুক দেখিয়ে অপহরণ করে। অপহরণকারী ছেলেটি মেয়েটিকে বিবাহ করার জন্য মেয়েটিকে জোর করে সই করিয়ে মাহকামায়ে শরীয়াহ তালাকের দরখাস্ত করে। মাহকামায়ে শরীয়াহ বিষয়টি জানতে পেরে মহিলার স্বামীকে খবর দেয় এবং অনেক কষ্টে পুলিশের সহযোগিতায় স্বামীর হাতে তার স্ত্রীকে তুলে দেয়। তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মন্তব্য করেন যে, মাহকামায়ে শরীয়াহ না থাকলে আমি আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতাম না।
কেস নম্বর ফেব্রয়ারি/704/17: স্বামী-স্ত্রী দুজনেই শিক্ষকতা করেন। উভয় উভয়কে সন্দেহের চোখে দেখেন । এই পরিস্থিতিতে স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে আসেন। বহুবার আলোচনার মাধ্যমে কোনো সুরাহা  হয়নি । অশান্তি বাড়তে থাকে। এমনকি স্বামী ফোনে হুমকি দেন যে , ‘তোমাকে যেখানে পাব জানে মেরে দেব । তোমার বাড়িতে গিয়ে সকলকে জানে শেষ করে দেব।তোমার সম্পদ -জায়গা কিছুই ফেরত দেব না। তোমাকে তালাক দেব না;তোমার যৌবন নষ্ট করব এবং পচাব”। অনেক থানা -পুলিশ , আদালত করেও কোনো কিছুর সুরাহা হয়নি ।অবশেষে তারা মাহকামায়ে শরীয়াহর দ্বারস্থ হলে কমিশন বসিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সুরাহা হয় এবং ছেলেটি সহজেই তালাক দিয়ে দেয়। তাই মেয়ের আব্বার মন্তব্য ,”আমার এতদিন সঠিক স্থানে না এসে অন্যত্র গিয়ে ভুল করেছি; সময় নষ্ট করেছি। আপনাদের মত সৎ লোকের দেশের প্রয়োজন ;দশের প্রয়োজন । সব কাজ আমরা আপনাদের মাধ্যমে করব। শরীয়তের ফায়সালা মানব”।
কেস নম্বর july/718/17:এই মোকদ্দমার ক্ষেত্রে ছেলেটি ভুল বুঝিয়ে মেয়েটির থেকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে সই করিয়ে নেয় ও টাকা -পয়সার দাবি করতে থাকে।দুই ফ্যামিলিতে চরম পর্যায়ে অশান্তি বাড়তে থাকে । সমস্ত এলাকায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।মাহকামায়ে শরীয়াহতে আবেদন জমা পড়লে মাহকামায়ে শরীয়াহ কমিটি উভয়কে নিয়ে গ্রামের লোকেদেরকে বসার ফলে সমগ্র অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসে। ওই বিবাহ নাজায়েজ ও হারাম বলে কমিটি ঘোষণা করে  । এই ফতোয়া ও হুকুম সকলকেই মেনে নেয়। সকলে মাহকামায়ে শরীয়াহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। গ্রামের লোকেরা বলেন, আপনারা না থাকলে আমাদের গ্রামে আগুন জ্বলত, আমরা সকলে শেষ হয়ে যেতাম।( শেষ)

পশ্চিমবঙ্গ মাহকামায়ে শরীয়াহ কমিটির পক্ষে-
মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ  চৌধুরী সভাপতি, মুফতি লিয়াকত আলী সম্পাদক,  মুফতি সফিউল্লাহ কর্তৃক প্রচারিত।


শেয়ার করুন
  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment