কলকাতা 

২০১২-র নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসএসসি-র শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকবে : হাইকোর্ট

শেয়ার করুন
  • 268
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিবেদক : কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের আজকের রায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়াকেই থমকে দিল । আজকের ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখ্যোপাধ্যায় রায়ে স্পষ্ট বলেছেন, ২০১২ সালে যে আড়াই হাজার সফল প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়নি এসএসসি,তাদের মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন নিয়োগ প্রক্রিয়া করতে পারবে না স্কুল সার্ভিস কমিশন। একই সঙ্গে কেন এসএসসি-র প্রতি আদালত অবমাননা রুল জারি করা হবে না তাও ২৭ জুলাইয়ের মধ্যেই আদালতকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে । এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়ল বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন।

২০১২ সালের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলাকালীন মামলাকারীর আইনজীবী প্রবালকুমার দাস জানান, আদালতের কোনও নির্দেশই মানছে না স্কুল সার্ভিস কমিশন তাই আদালত অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় এসএসসি-কে নির্দেশ দেন, কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নির্দেশ জারি হবে না তা জানিয়ে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসএসসি-র  সব নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

একাদশ-দ্বাদশের  কাউন্সেলিংয়ের উপর আগেই জারি হয়েছে স্থগিতাদেশ। আজ হাইকোর্টের এই  রায়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনের অস্বস্তি আরও বাড়ল। জানা গেছে, স্কুল সার্ভিস কমিশন ২০১২ সালে  একাদশ- দ্বাদশ শ্রেনির ৫ হাজার ৮ জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। প্রায় ৬ লাখ ৪১ হাজার পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে টেট পাশ করে ১ লাখ ৭৩ হাজার পরীক্ষার্থী। এদের বিষয় ভিত্তিক পরীক্ষায় পাশ করা এমন ৩৬ হাজার ৫৯০ জনকে ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়। চূড়ান্ত মেধাতালিকায় ৩৫ হাজার ৫৯০ জনের প্যানেল প্রকাশ করা হয়। এদের মধ্যে আড়াই হাজার সফল প্রার্থী চাকরি পাননি। প্যানেলে নাম থাকা সত্ত্বেও চাকরি না পাওয়ার কারণে তারা এসএসসি-র বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে। রাজ্য সরকার তখন হলফনামা দিয়ে জানায় ৩৬ হাজার ১৪০ জনকে তারা চাকরি দিয়েছে। ৫ ডিসেম্বর, ২০১৪ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এ কে সিক্রি এক রায়ে বলেন, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কমিশন পরীক্ষা নিলেও কিন্তু কোনও ফল প্রকাশ করতে পারবে না। রেজ়াল্ট মুখবন্ধ খামে হাইকোর্টের কাছে জমা রাখতে হবে। এরপর বিচারপতি এ কে সিক্রি মামলাটি হাইকোর্টে ফিরিয়ে দেন।

ওই বছরই কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মঞ্জূলা চেল্লুরের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হয়। তিনি কলকাতা থেকে চলে যাওয়ার পর  পরবর্তী ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিশিতা মাত্রে মামলাটি পাঠিয়ে দেন বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ হাইকোর্টের বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের রায় বহাল রেখে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশ দেন যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার। এরপর ২৭ নভেম্বর, ২০১৬-তে নবম-দশম শ্রেনি এবং ৪ ডিসেম্বর ক্লাস একাদশ- দ্বাদশের  শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নেয় কমিশন। কিন্তু ৭ নভেম্বর, ২০১৭ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে একটি নোটিফিকেশন জারি করে ২০১৬-এর পরীক্ষার ফলপ্রকাশ করে দেওয়া হয়। জানানো হয় ১৪ নভেম্বর, ২০১৭ সফল পরীক্ষার্থীদের ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন এবং ইন্টারভিউ হবে। অথচ তখনও ঝুলে ২০১২-র নিয়োগ প্রক্রিয়া।

শিক্ষক ঐক্য সংগঠন ২৭ নভেম্বর, ২০১৭  স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করে ।  বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়-১৫ জুন, ২০১৮ –তে এক রায়ে বলেন, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭-র পর থেকে কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া অবৈধ। মামলার পরবর্তী শুনানি ছিল ৬ জুলাই। সময়ের অভাবে সেদিন শুনানি হয়নি। আজ সেই মামলার শুনানীতে হাইকোর্ট জানিয়ে দিল ২০১২-র মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসএসসি-র সব নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হল।


শেয়ার করুন
  • 268
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment