মুখ্যমন্ত্রীর দরবার 

দলিত ও মুসলিম সঙ্কট মোচনে মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি ফারুক আহমেদের (শেষ কিস্তি )

শেয়ার করুন
  • 75
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রাজ্য সরকারের চাকরিতে বিশেষ করে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সহ বিভিন্ন বিভাগে সংখ্যালঘুদের বঞ্চিত করা হয়েছে, যার ফলে এই সব জায়গায় মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব বাড়েনি। জনসংখ্যার অনুপাতে  বেশি পরিমাণে মুসলিমরা শুধুমাত্র কারাগারে রয়েছে। কাউকে আবার বিনা দোষে মিথ্যা মামলায় জেলে ভরে রাখা হয়েছে। ভাবুন পরিবর্তনের জন্য আমরা অধিক সংখ্যায় সংখ্যালঘুরা এই সরকারকে একচেটিয়া ভোট দিয়েছিলাম। বাম সরকারের পতন সুনিশ্চিত করেছিলাম। বাস্তবিক আমাদের কল্যাণে এই সরকার কিছুই করছে না কিন্তু মুখে বলছেন মুখ্যমন্ত্রী ৯৯ শতাংশ কাজ করে দিলাম। রাজ্যের যে-কোনও রাজনৈতিক দলের দিকে চোখ রাখলে দেখত পাই শহীদের তালিকায় মুসলমান ও দলিতরাই আছেন বেশি। বাস্তবিক সব রাজনৈতিক দল সুপরিকল্পিতভাবে দলিত ও মুসলমানদের লড়িয়ে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলেন। ফলে মারে ও মরে এই উভয় সম্প্রদায়ের দলিত ও মুসলিম। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুলিশ ও রাজ্য সরকারের ৮২ টির মতো স্বশাসিত সংস্থার চেয়ারপার্সন বা কর্ণধার ও কমান্ডিং পদে কোনও দলিত ও মুসলমানদেরকে বসানো হয় নি। ব্যতিক্রম হয়েছিল পিএসসিতে তবে তাঁকে দিয়ে অন্যায় কাজ করিয়ে নিতে না পারায় তাঁর চাকরির মেয়াদ শেষ না হতেই তিনি নিজের সম্মান বাঁচাতে চেয়ারম্যান (শেখ নুরুল হক, আইএএস) পদ থেকে পদত্যাগ করলেন। চাকরিরত অবস্থায় চাকরি ছেড়ে দিলেন। এটা অনেকেই জানেন। এখনও পর্যন্ত কোনও মুসলমান আধিকারিক আর পিএসসিতে সামান্য সদস্যও হতে পারিনি, সরকার সদস্য করেন নি বলেই হতে পারিনি। যা ভারতের অন্য রাজ্যে ভাবাই যায় না। এখনও পর্যন্ত দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে কোনও মুসলিম পুলিশ আধিকারিককে ডিজি করা হয়নি। আমরা দেখেছি সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলি পরিচালনার ক্ষেত্রে মুসলমান এবং দলিত নেতাদের নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও ভূমিকাই থাকে না। ৬৪ সালের দাঙ্গার পর রাজ্যবাসী খুব একটা বড় ধরনের দাঙ্গার মুখোমুখি হয়নি। এখন আমাদের দেখতে হচ্ছে হালিশহর, বাদুড়িয়া, বসিরহাট, আসানসোল প্রভৃতি এলাকার দাঙ্গার ভয়াবহতাকে।

ধর্মের নামে অস্ত্রের ঝনঝনানি আজ বাড়বাড়ন্ত, যেন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চলছে। সংখ্যালঘু মুসলিমদের জন্য এ রাজ্য যে সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা ছিল তাও আজ সঙ্কটের মুখে। এই পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা রোধে ও দাঙ্গা-পীড়িতদের ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণের স্বার্থে কংগ্রেসের ইউপিএ সরকার যে আইন তৈরি করেছিল তা আজও বিজেপি সরকার আইনে পরিণত করেনি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে রক্ষা করতে আইন তৈরি করছে না কেন? উন্নয়নের নামে সব জায়গায় দলিত ও মুসলমানদের জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে কিন্তু উন্নয়নের অংশে তাদেরকে ব্রাত্য করে রাখা হচ্ছে। রাজ্যে মুসলমান ও দলিতদের জমি নিয়ে বসবাসের জন্য যত উপনগরী তৈরি হয়েছে সেখানে মুসলমানদের ঠাঁই হয়নি। অল্প জায়গায় ঘেটোবাসী হয়ে বসবাস করাটাই তাদের এখন ভবিতব্য হয়ে উঠেছে।
তাই কোনোরূপ অজুহাত রাজ্যের মানুষ আর শুনতে চায় না। বিশ্ববিদ্যালয় সহ সমস্ত চাকরির পরীক্ষাগুলিতে সঠিকভাবে ১০০ শতাংশ রোস্টার মানা হোক। এই চরম বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে এসসি-এসটি-ওবিসি-“এ” এবং ওবিসি-“বি” চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি সুনিশ্চিত করতে ১০০ শতাংশ রোস্টার মেনে চাকরি দিতে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। নইলে আইনের আশ্রয় নিতে হবে। রাজ্যে যোগ্য সংখ্যালঘু ও দলিত আধিকারিকদের গ্যারেজ পোস্টিং দেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে, এই বৈষম্য দূর করতে হবে অবিলম্বে। ২৩টি জেলায় চোখ রাখলে কোনও ডিএম ও এসপি বা কমান্ডিং পোস্টে যোগ্য ও সৎ দলিত ও মুসলিম আধিকারিক কাউকে দেখছি না। কেন? ব্যতিক্রম একজন আয়শা রানি ঝাড়গ্রামের ডিএম পদে আসীন হলেন সম্প্রতি। চাকরিরত যোগ্য সংখ্যালঘু ও দলিতদেরকে কেন বঞ্চিত করা হচ্ছে? এই বঞ্চনার অবসান ঘটাতেই হবে। তার জন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পথে নামতে হবে, আন্দোলন করতে হবে প্রাপ্য অধিকার অর্জন করতে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজ ও শিক্ষাকেন্দ্র থেকে ইসলামি থিয়োলজী বিভাগ তুলে দেওয়ার চক্রান্ত রুখতে হবে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষা করতে হবে। সংখ্যালঘুদের কল্যাণে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নিক আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিন মেডিকেল কলেজ গড়ে তুলতে এবং সর্ব বিষয়ে অর্নাস ও এমএ, এমএসসি এবং পিএইচডি চালু করতে। সম্প্রতি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও অধ্যাপক ড. মহম্মদ আলি। ড. আলি আশা রাখি মানব কল্যাণে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাক্তন উপাচার্য ড. আবু তালেব খানের উত্তসুরি হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের টনক নড়াতে দলিত ও সংখ্যালঘুরা বদ্ধপরিকর হচ্ছেন এটাই এখন আশার আলো।
এরপরও যদি সরকারের সুমতি না ফেরে তাহলে বাংলায় নতুন সূর্য উঠবে কি ভাবে তা ভাবতে হবে। নতুন ভাবে দলিত ও সংখ্যালঘু জোটবদ্ধ হয়ে বাংলার কল্যাণে সবার জন্য গণতন্ত্র ফেরাতে তৈরি হবেন। বিপন্ন বাংলা ও দেশের মানুষের বাঁচার মুক্তি হল সুস্থ গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখা।
তাই সংবিধান বাঁচাতে আমরা বদ্ধপরিকর হয়েছি মানুষের কল্যাণে। ধর্মীয় বিভাজনের ফাঁদে আমরা যাব না এই অগ্নিশপথ নিয়েই দলিত ও মুসলিম সহ সকল শ্রেণি মানুষের কল্যাণ আওয়াজ তুলব সুস্থ সমাজ গড়তে।
মন্ত্রীত্বে এবং বিচার ব্যবস্থায় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বে বঞ্চিত দলিত ও মুসলিমরা কেন? সংখ্যানুপাতে এসসি, এসটি আর সংখ্যালঘু সম্প্রদায় জনসংখ্যার হিসেবে ৬০ শতাংশেরও বেশি আছে পশ্চিমবঙ্গে তবু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এদের কারো হাতে নেই কেন? এবং ওবিসি আছে ৩৪ শতাংশ। এই বঞ্চনার অবসান ঘটাতে দলিত ও সংখ্যলঘুদের প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগ নেবেন আমারা আশা রাখি।

ইতি
বিনীত

ফারুক আহমেদ
সম্পাদক ও প্রকাশক : উদার আকাশ
ঘটকপুকুর, ডাক ভাঙড় গোবিন্দপুর, জেলা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পিন ৭৪৩৫০২
কথ: ৯৭৩৩৯৭৪৪৯৮
৭০০৩৮২১২৯৮
faruqueahamedku@gmail.com

( খোলা চিঠির মতামত সম্পূর্ণ ভাবে লেখকের এর দায় কোনভাবেই সম্পাদকের নয় )


শেয়ার করুন
  • 75
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

২ Thoughts to “দলিত ও মুসলিম সঙ্কট মোচনে মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি ফারুক আহমেদের (শেষ কিস্তি )”

  1. MD Monirul Islam

    Faruk saheb apni hundred percent sathik kotha bolechen

  2. SK nuruddin

    খুব সুন্দর একটা পোস্ট ।

Leave a Comment